দুর্গাপুজো মানেই কেনাকাটা, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরা আর উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠা। তবে উৎসবের ভিড়ে মহিলাদের নিরাপত্তা যাতে কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেই বিষয়েও বিশেষ নজর রাখছে পুলিশ। আসন্ন পুজোকে সামনে রেখে বসিরহাট পুলিশ জেলার উদ্যোগে সুন্দরবনের ন্যাজাট এলাকায় সক্রিয় হয়েছে ‘দুর্গা বাহিনী’। জনবহুল রাস্তা থেকে বাজার, এমনকী ফেরিঘাটেও নজরদারি চালিয়ে মহিলাদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করছেন মহিলা পুলিশকর্মীরা।
পুজোর আগে মহিলাদের সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ
দুর্গাপুজোর সময় রাস্তাঘাট, বাজার ও মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় মানুষের ভিড় বেড়ে যায়। কেনাকাটা, প্রতিমা দর্শন কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বহু মহিলাকে বাইরে বেরোতে হয়। এই সময় কোনওরকম হেনস্থা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আগেভাগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে বসিরহাট পুলিশ জেলা।
সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই সুন্দরবনের ন্যাজাট থানা এলাকায় টহল দেয় পুলিশের বিশেষ মহিলা বাহিনী ‘দুর্গা বাহিনী’। পুজোর আগে সাধারণ মানুষ যাতে নিশ্চিন্তে কেনাকাটা করতে পারেন এবং নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
বাজার থেকে ফেরিঘাট—সর্বত্র নজরদারি
বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অলকানন্দা ভাওয়ালের নির্দেশে মিনাখাঁর এসডিপিও দেবাশিস চট্টরাজের নেতৃত্বে এই নজরদারি চালানো হয়। ন্যাজাট থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক নির্মাল্য দত্তও এই উদ্যোগে সহযোগিতা করেন।
দুর্গা বাহিনীর সদস্যরা ন্যাজাটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেন। জনবহুল রাস্তা, বাজার, দোকানপাট এবং ফেরিঘাট পরিদর্শন করে সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। পুজোর সময় কোথায় ভিড় বাড়তে পারে এবং কোন এলাকায় নিরাপত্তার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন, তা বোঝার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে জানলেন সমস্যার কথা
শুধু টহল দেওয়াই নয়, সাধারণ মহিলাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন দুর্গা বাহিনীর সদস্যরা। বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়ে কিংবা রাস্তায় চলাচলের সময় কোনও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে কি না, তা জানতে চান তাঁরা।
কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে কীভাবে দ্রুত পুলিশের সাহায্য নেওয়া যায়, সে বিষয়েও মহিলাদের সচেতন করা হয়। এর ফলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা সম্পর্কে সরাসরি তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগও আরও সহজ হতে পারে।
সুন্দরবনের ফেরিঘাটেও বিশেষ নজর
সুন্দরবনের ন্যাজাটের মতো নদী ও ফেরিঘাট-নির্ভর এলাকায় জলপথে যাতায়াত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে বহু মানুষ ফেরিঘাট ব্যবহার করেন। পুজোর সময় যাত্রীদের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে ঘাটগুলিতেও নজরদারি চালানো হয়েছে।
মহিলা পুলিশকর্মীরা ঘাটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গেও কথা বলেন। ভিড়ের সময় যাতে মহিলাদের যাতায়াতে অসুবিধা না হয় এবং কোনও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই বিষয়টির উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পুজোর ভিড়ে হেনস্থা রুখতেই এই তৎপরতা
উৎসবের সময় ভিড়ের সুযোগ নিয়ে মহিলাদের হেনস্থা করার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই পুজোর আগেই গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নজরদারি চালিয়ে সম্ভাব্য সমস্যার জায়গাগুলি চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
‘দুর্গা বাহিনী’র এই উদ্যোগের মাধ্যমে মহিলাদের মধ্যে নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশের প্রতি আস্থা আরও জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পুজোর কয়েকটি দিন ছাড়াও মহিলাদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
দুর্গাপুজোর আগে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর বসিরহাট পুলিশ জেলা। পুজোর কেনাকাটা থেকে শুরু করে রাস্তায় যাতায়াত ও প্রতিমা দর্শন—সব ক্ষেত্রেই মহিলারা যাতে নিরাপদ বোধ করেন, সেই লক্ষ্যে সুন্দরবনের ন্যাজাট থানা এলাকায় টহল দিল পুলিশের বিশেষ মহিলা বাহিনী ‘দুর্গা বাহিনী’। বাজার, দোকানপাট, জনবহুল এলাকা ও ফেরিঘাট পরিদর্শনের পাশাপাশি সাধারণ মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথাও শোনেন পুলিশকর্মীরা।












