বর্ধমানের ‘মোটাবাবা’! বিশাল শিবলিঙ্গ ঘিরে আজও অটুট ভক্তি, ২৫ শ্রাবণে কেন জমে ওঠে এই শিবতীর্থ?

বর্ধমানেশ্বর শিবমন্দির কোথায়? স্থানীয়দের ‘মোটাবাবা’ নামে পরিচিত বিশাল শিবলিঙ্গের ইতিহাস, ২৫ শ্রাবণের বিশেষত্ব এবং কাটোয়া থেকে জল নিয়ে পদযাত্রার সম্পূর্ণ তথ্য জানুন।

শহরের ব্যস্ততার মাঝেই যেন আলাদা এক আধ্যাত্মিক আবহ। বর্ধমানের বর্ধমানেশ্বর শিবমন্দিরে বিরাটাকার শিবলিঙ্গকে ঘিরে রয়েছে দীর্ঘদিনের ভক্তি ও লোকবিশ্বাস। স্থানীয়দের কাছে ‘মোটাবাবা’ নামে পরিচিত এই শিবলিঙ্গকে কেন্দ্র করে শ্রাবণ মাসে বিশেষ ধর্মীয় আয়োজন হয়। তবে অন্য শিবমন্দিরের তুলনায় ২৫ শ্রাবণ দিনটি বর্ধমানেশ্বরের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

কোথায় রয়েছে বর্ধমানেশ্বর মন্দির?

পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহরেই অবস্থিত বর্ধমানেশ্বর শিবমন্দির। শহরের পরিচিত এই শিবতীর্থে সারা বছরই ভক্তদের আনাগোনা থাকে। তবে শ্রাবণ মাসে ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যায়।বিশেষ করে ২৫ শ্রাবণকে ঘিরে মন্দির চত্বরে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও বহু মানুষ পুজো দিতে আসেন।

কেন ‘মোটাবাবা’ নামে পরিচিত?

বর্ধমানেশ্বরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তাঁর বিশালাকার শিবলিঙ্গ। আকারে তুলনামূলক বড় হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে দেবতাটি ‘মোটাবাবা’ নামে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।শিবলিঙ্গের এই বিশেষ আকৃতি এবং মন্দিরকে ঘিরে থাকা স্থানীয় বিশ্বাসই বর্ধমানেশ্বরকে অন্য শিবতীর্থের থেকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

২৫ শ্রাবণে কেন এত বিশেষ আয়োজন?

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে বর্ধমানেশ্বর বা ‘মোটাবাবা’-র আবির্ভাব হয়েছিল। সেই আবির্ভাব দিবসের স্মরণেই ২৫ শ্রাবণ দিনটিকে বিশেষভাবে পালন করা হয়।

কাটোয়া থেকে জল নিয়ে পদযাত্রা

এই ধর্মীয় রীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কাটোয়ার ভাগীরথী নদীও। ২৪ শ্রাবণ বহু ভক্ত কাটোয়ায় গিয়ে নদী থেকে জল সংগ্রহ করেন।এরপর সেই জল সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেঁটে বর্ধমানের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। পরদিন ২৫ শ্রাবণ বর্ধমানেশ্বরের মাথায় সেই জল অর্পণ করেন। কয়েক হাজার ভক্তের অংশগ্রহণে এই পদযাত্রা কার্যত এক বিশাল ধর্মীয় সমাগমে পরিণত হয়।

ভোর থেকেই কাটোয়ার ঘাটে ভক্তদের ভিড়

এ বছরও কাটোয়ার ভাগীরথী ঘাটে সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি দেখা যায়। জল সংগ্রহ করে পদযাত্রায় বেরিয়ে পড়েন বহু শিবভক্ত।দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে যাওয়ার এই রীতিকে অনেকে শুধু ধর্মীয় আচার হিসেবেই দেখেন না, বরং বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এক ঐতিহ্য হিসেবেও পালন করেন।

ভক্তদের জন্য স্বাস্থ্য শিবির

ভিড়ের কথা মাথায় রেখে কাটোয়া পৌরসভার পক্ষ থেকে এবার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাগীরথীর ঘাটের কাছেই বসানো হয়েছে স্বাস্থ্য শিবির।স্বাস্থ্যকর্মী ও আশা কর্মীদের সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ পথ পদযাত্রার আগে বা নদীর ঘাটে কোনও ভক্ত অসুস্থ হয়ে পড়লে যাতে দ্রুত প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

নদীর ঘাটে নিরাপত্তায় বিশেষ নজর

এবার ভাগীরথীতে জলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকায় ঘাটে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। স্নানের জায়গা ঘিরে তৈরি করা হয়েছে বাঁশের ব্যারিকেড।কাটোয়া থানার পক্ষ থেকেও ঘাট ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশি নজরদারি রাখা হয়েছে। ভক্তদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

বর্ধমান শহরের অন্যতম পরিচিত শিবতীর্থ হল বর্ধমানেশ্বর মন্দির। স্থানীয়দের কাছে ‘মোটাবাবা’ নামে পরিচিত এই শিবলিঙ্গের আকারই মন্দিরটির অন্যতম আকর্ষণ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে বর্ধমানেশ্বরের আবির্ভাব ঘটে। সেই স্মৃতিতে প্রতি বছর ২৫ শ্রাবণ বিশেষ পুজো ও জলাভিষেকের আয়োজন করা হয়। এই উপলক্ষে কাটোয়ার ভাগীরথী থেকে জল নিয়ে বহু ভক্ত পদযাত্রা করে বর্ধমানে পৌঁছন।

Leave a comment