বেহালা বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত উড়ানের পরিকল্পনা, সংস্কারের পথে ঐতিহাসিক এয়ারস্ট্রিপ

কলকাতার বেহালা বিমানবন্দরকে সংস্কার করে চার্টার্ড ফ্লাইট, এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত বিমান পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা চলছে। জেনে নিন বিস্তারিত।

দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় থাকা বেহালা বিমানবন্দরকে নতুন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চার্টার্ড ফ্লাইট ও এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা থাকলেও, ভবিষ্যতে ছোট যাত্রীবাহী বিমানের নিয়মিত পরিষেবাও চালু হতে পারে বলে জানা গেছে।

বিমানবন্দর সংস্কারের উদ্যোগ

১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বেহালা বিমানবন্দর বর্তমানে আগাছা ও জঙ্গলে ঢাকা পড়ে রয়েছে। বিমানবন্দরটি পুনরুজ্জীবিত করতে রানওয়ে সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। প্রথম ধাপে চার্টার্ড বিমান ও এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালুর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

জমি সমীক্ষা ও প্রশাসনিক তৎপরতা

বিমানবন্দরের জমির প্রকৃত পরিমাণ ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে সমীক্ষা করা হয়েছে। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর ড্রোনের সাহায্যে গোটা এলাকা পর্যবেক্ষণ করে জমির পরিমাপ এবং অবকাঠামোগত অবস্থার মূল্যায়ন করেছে।এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে।

বাড়ানো হতে পারে রানওয়ে

বিমানবন্দরটি তৈরি হওয়ার সময় এখানে ছিল ৯১৫ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে। বর্তমানে ৮ থেকে ৯ আসন বিশিষ্ট ছোট যাত্রীবাহী বিমান চালু করতে রানওয়ে আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে।রানওয়ে উন্নত হলে বেহালা থেকে সহজেই বাগডোগরা, কোচবিহার, অন্ডাল এবং দ্বারভাঙার মতো স্বল্প দূরত্বের বিমানবন্দরে ছোট বিমানের নিয়মিত পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা তৈরি হবে।

ফ্লাইং ক্লাবও ফের সক্রিয় করার পরিকল্পনা

বেহালা বিমানবন্দরে বর্তমানে ফ্লাইং ক্লাব রয়েছে এবং মাঝে মধ্যেই ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার ওঠানামা করে। পাশাপাশি ফ্লাইট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিকেও পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিমানচালনা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও এই বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

কলকাতার কেন্দ্র থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বেহালা বিমানবন্দরকে পুনরায় সচল করার পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। রানওয়ে সংস্কার, জমি সমীক্ষা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে চার্টার্ড বিমান, এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স এবং স্বল্প দূরত্বের নিয়মিত বিমান পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a comment