সোনাঝুড়ি হাটে সবুজ বিপ্লবের সূচনা! মায়ের নামে গাছ লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষায় নয়া অঙ্গীকার ব্যবসায়ীদের

বোলপুরের সোনাঝুড়ি হাটে পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকদের অভিনব উদ্যোগ। মায়ের নামে গাছ লাগিয়ে পরিচর্যার দায়িত্ব নেবেন তাঁরা। শান্তিনিকেতনের সবুজ ঐতিহ্য রক্ষায় শুরু হচ্ছে নতুন অভিযান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনের অন্যতম পরিচিত আকর্ষণ সোনাঝুড়ি হাট। পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেমন ব্যবসার প্রসার ঘটেছে, তেমনই বেড়েছে পরিবেশ দূষণ ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগও। সেই পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষাকে সামনে রেখে এবার এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হাটের ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকদের একাংশ। তাঁদের এই উদ্যোগে সবুজের বার্তা ছড়িয়ে পড়বে বলেই আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পরিবেশপ্রেমীরা।

ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সোনাঝুড়ি হাটের জনপ্রিয়তা

বোলপুর-শান্তিনিকেতনের সোনাঝুড়ি হাট দীর্ঘদিন ধরেই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। লোকশিল্প, হস্তশিল্প, বাউল সংস্কৃতি এবং প্রকৃতির মেলবন্ধন এই হাটকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। আগে সপ্তাহে একদিন অর্থাৎ শনিবার বড় আকারে হাট বসলেও বর্তমানে বুধবার বাদে সপ্তাহের ছয় দিনই এখানে ব্যবসা চলে। ফলে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটছে এই এলাকায়।

পরিবেশ দূষণ নিয়ে বাড়ছিল উদ্বেগ

পর্যটক ও ব্যবসার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অভিযোগও সামনে আসে। বন দফতরের জমিতে বেআইনি হাট বসানো, যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলে পরিবেশ নষ্ট করা, নিয়ম বহির্ভূত গাড়ি পার্কিং এবং রিসর্ট নির্মাণের মতো অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ফলে সোনাঝুড়ির পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়তে থাকে।

মায়ের নামে গাছ লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার

এই পরিস্থিতিতে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হাটের ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকদের একাংশ। তাঁদের প্রত্যেকেই নিজেদের মায়ের নামে একটি করে গাছ রোপণ করবেন। শুধু গাছ লাগানোতেই দায়িত্ব শেষ হবে না, সেই গাছের নিয়মিত পরিচর্যা, জল দেওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও নিজেরাই পালন করবেন। তাঁদের বিশ্বাস, ব্যক্তিগত আবেগের সঙ্গে পরিবেশকে যুক্ত করতে পারলেই সবুজ রক্ষার বার্তা আরও শক্তিশালী হবে।

শান্তিনিকেতনের প্রকৃতি রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ

ব্যবসায়ীদের দাবি, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ নয়, বরং শান্তিনিকেতনের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে আগামীর জন্য সংরক্ষণ করা। কয়েক দিনের মধ্যেই একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, পরিবেশ রক্ষা কোনও এক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, সমাজের প্রত্যেক মানুষের অংশগ্রহণেই প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব।

সবুজ বার্তায় আশাবাদী পরিবেশপ্রেমীরা

স্থানীয়দের একাংশের মতে, ব্যবসায়ীদের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সোনাঝুড়ি হাটের পরিবেশ অনেকটাই উন্নত হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্লাস্টিকমুক্ত হাট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের মতো উদ্যোগও যুক্ত হলে এই এলাকা আরও পরিচ্ছন্ন ও সবুজ হয়ে উঠবে। পরিবেশপ্রেমীদের আশা, এই উদ্যোগ অন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোকেও অনুপ্রাণিত করবে।

পরিবেশ দূষণ ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মাঝেই নতুন উদ্যোগ নিলেন বোলপুরের সোনাঝুড়ি হাটের ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকদের একাংশ। প্রত্যেকে নিজেদের মায়ের নামে একটি করে গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শান্তিনিকেতনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য রক্ষার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি শুরু হতে চলেছে। পরিবেশপ্রেমীদের মতে, উদ্যোগটি সফল হলে রাজ্যের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের কাছেও এটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

Leave a comment