Bengali Singer in Bollywood: একসময় সংসার চালাতে বাড়ি বাড়ি টিউশন, কেবল লাইনের কাজও করেছেন! আজ বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক তিনি

একসময় সংসার চালাতে বাড়ি বাড়ি টিউশন পড়িয়েছেন শান, করেছেন কেবল টিভির সংযোগ বিক্রি ও বুটিকের কাজ। জানুন জনপ্রিয় গায়ক শানের সংগ্রামের দিন থেকে সাফল্যের গল্প।

‘তানহা দিল’, ‘মুসু মুসু হাসি’, ‘চাঁদ সিফারিশ’, ‘জব সে তেরে নয়না’—একাধিক জনপ্রিয় গানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শানের মিষ্টি কণ্ঠ। আজ তিনি হিন্দি সঙ্গীতের পরিচিত নাম। কিন্তু এই জায়গায় পৌঁছনোর পথ একেবারেই মসৃণ ছিল না। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে আসার পর জীবিকার জন্য একাধিক কাজ করেছেন তিনি। এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়িয়েছেন পড়ুয়াদের, বিক্রি করেছেন কেবল টিভির সংযোগও।

সঙ্গীতের পরিবারে জন্ম, তবু গায়ক হওয়ার স্বপ্ন ছিল না

শান ১৯৭২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম শান্তনু মুখোপাধ্যায়। সঙ্গীতের পরিবেশেই তাঁর বড় হয়ে ওঠা। তাঁর বাবা ছিলেন সঙ্গীত পরিচালক এবং বোন সাগরিকাও পরবর্তীতে গানের জগতে পরিচিত হন।তবে একটি সাক্ষাৎকারে শান জানিয়েছিলেন, ছোটবেলায় তাঁর লক্ষ্য গায়ক হওয়া ছিল না। বরং বাবার পেশাগত সংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্বও তাঁর উপর এসে পড়ে। ফলে গানকে পেশা হিসেবে নেওয়ার বিষয়ে শুরুতে দ্বিধা ছিল।

মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই প্রথম গান রেকর্ড

গানের সঙ্গে শানের যোগাযোগ অবশ্য খুব ছোটবেলা থেকেই। তাঁর কথায়, মাত্র পাঁচ বছর বয়সে প্রথম গান রেকর্ড করেছিলেন তিনি। সেটি ছিল একটি ছড়া। পরবর্তীতে জিঙ্গেল এবং শিশুদের জন্য গানও রেকর্ড করেন।কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের বাস্তবতা সামনে আসে। পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করার জন্য নানা ছোটখাটো কাজ করতে শুরু করেন তিনি।

বাড়ি বাড়ি টিউশন, কেবল সংযোগ বিক্রির কাজ

সংসার চালানোর জন্য একটা সময় শিশুদের বাড়ি গিয়ে পড়াতেন শান। শুধু তাই নয়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেবল টিভির সংযোগ বিক্রির কাজও করেছেন। মুম্বইয়ের বান্দ্রায় একটি ‘লুকস’ নামের বুটিকেও কাজ করেছিলেন তিনি।অর্থাৎ, যাঁকে আজ মঞ্চে বা সিনেমার গানে প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হিসেবে দেখা যায়, তাঁর জীবনেও এমন একটা সময় ছিল যখন জীবিকার জন্য একাধিক পেশায় যুক্ত হতে হয়েছিল।

বোন সাগরিকার সঙ্গে শুরু লাইভ শো

শুধু গান করে তখন সংসার চালানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে শান নিজেও নিশ্চিত ছিলেন না। সেই সময় বোন সাগরিকার সঙ্গে লাইভ শো-তে গান গাইতে শুরু করেন তিনি।শুরুতে সাগরিকা ছিলেন মূল গায়িকা, আর শান তাঁর সঙ্গে এক-দুটি গান গাইতেন। ধীরে ধীরে শ্রোতাদের কাছে তাঁদের জুটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরে শান উপলব্ধি করেন,সঙ্গীতই হয়তো তাঁর জন্য নির্ধারিত পথ।

১৯৮৯-এ সিনেমায় গান, ১৯৯৯-এ বড় সাফল্য

১৯৮৯ সালে ‘পরিন্দা’ ছবির মাধ্যমে সিনেমায় গান গাওয়ার সুযোগ পান শান। এরপর রিমিক্স অ্যালবাম এবং পপ মিউজিকেও কাজ করেন।তবে তাঁর কেরিয়ারে বড় পরিবর্তন আসে ১৯৯৯ সালে। ‘তানহা দিল’ এবং ‘মুসু মুসু হাসি’-র মতো গান জনপ্রিয় হওয়ার পর তাঁর পরিচিতি আরও বাড়ে।

‘তানহা দিল’ ছিল নিজের জীবনের অনুভূতির সঙ্গে জড়িত

‘তানহা দিল’ গানটি শানের কাছে বিশেষ অর্থ বহন করে। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর অনেক বন্ধু একসময় দূরে চলে গিয়ে নিজেদের জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই বদলে যাওয়া সম্পর্ক ও একাকীত্বের অনুভূতি থেকেই গানটির ভাবনা তৈরি হয়।শুধু গানটি গাওয়াই নয়, এর কথা ও সুর তৈরির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন শান।

‘চাঁদ সিফারিশ’ থেকে ‘থ্রি ইডিয়টস’—একাধিক হিট গান

পরবর্তী সময়ে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন শান। ‘দিল চাহতা হ্যায়’, ‘কাল হো না হো’, ‘ফানা’, ‘সাওয়ারিয়া’ এবং ‘থ্রি ইডিয়টস’-সহ একাধিক ছবির গানে তাঁর কণ্ঠ শোনা যায়।‘চাঁদ সিফারিশ’ এবং ‘জব সে তেরে নয়না’-র মতো গানও তাঁর কেরিয়ারে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়। এই গানগুলির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার ও আইফা-সহ একাধিক পুরস্কারে সম্মানিত হন।

গানের পাশাপাশি টেলিভিশনেও পরিচিত মুখ

শুধু প্লেব্যাকেই থেমে থাকেননি শান। টেলিভিশনের জনপ্রিয় গানের রিয়েলিটি শো ‘সা রে গা মা পা’-এর সঞ্চালনার দায়িত্বও পালন করেছেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন মিউজিক রিয়েলিটি শো-তে বিচারকের ভূমিকাতেও দেখা যায় তাঁকে।

আজ বলিউডের পরিচিত কণ্ঠশিল্পী শানের জন্মদিন। তাঁর আসল নাম শান্তনু মুখোপাধ্যায়। ছোটবেলা থেকেই গানের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও একটা সময়ে শুধু গান করে সংসার চালানো নিয়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন না। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন, কেবল টিভির সংযোগ বিক্রি এবং বান্দ্রার একটি বুটিকেও কাজ করেছেন।

Leave a comment