বেঙ্গালুরুতে NEET UG রি-টেস্টের দিন তীব্র যানজটের কারণে কিছু পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে সমস্যার মুখে পড়েছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি কংগ্রেসের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে এর জন্য দায়ী করেছে, অন্যদিকে কংগ্রেস শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।
মিডিয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার দিন বেঙ্গালুরুর কিছু এলাকায় আয়োজিত কংগ্রেসের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে যানবাহন চলাচলে প্রভাব পড়ে। শহরের একাধিক প্রধান সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে অনেক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
NEET UG রি-টেস্ট দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক পরীক্ষা কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
তবে বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় চলাচলের গতি অত্যন্ত ধীর হয়ে পড়ে। কিছু অভিভাবক সন্তানদের সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে বিকল্প পথ ব্যবহার করেন। অনেককে মোটরসাইকেলে ফুটপাথের পাশ দিয়ে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।
ঘটনার পর বিজেপি কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। দলের দাবি, রাজ্য প্রশাসন পরীক্ষার তারিখ ও সময় সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও যথাযথ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারেনি। বিজেপির মতে, একই দিনে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন জরুরি হলে তার সময় বা স্থান পরিবর্তন করা যেত। দলটি প্রশ্ন তোলে, লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ দিনে প্রশাসন কেন আরও সতর্ক ছিল না।
বিজেপি আরও দাবি করেছে, পরীক্ষাকালীন শিক্ষার্থীদের যে কোনও ধরনের অসুবিধা প্রতিরোধ করা সরকারের দায়িত্ব। দলের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু শিক্ষার্থীর পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে কংগ্রেস নেতারা ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, যদি কোনও শিক্ষার্থী বাস্তবিকই সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে, তবে তা দুর্ভাগ্যজনক। তবে তারা পুরো ঘটনার জন্য শুধুমাত্র কংগ্রেসের কর্মসূচিকে দায়ী করতে অস্বীকার করেছেন।
![]()
কংগ্রেসের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে এবং কেবল কয়েকটি ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা গেছে। দলের নেতারা বলেন, অন্য শহরগুলিতেও কিছু পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল, যেখানে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়নি। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি বিষয়টি থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বৃহত্তর প্রশ্নগুলো থেকে দৃষ্টি সরাতে চাইছে।
চলতি বছরে NEET UG পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং পরীক্ষা প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের কারণে আগেই বিতর্কের মুখে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কিছু পরীক্ষার্থীর জন্য রি-টেস্টের আয়োজন করা হয়। মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তি হতে ইচ্ছুক লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর জন্য এই পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরীক্ষার দিনে যে কোনও প্রশাসনিক ত্রুটি শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে উন্নত সমন্বয় প্রয়োজন।
দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশ নেবে বলে অনুমান করা হয়েছিল। মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির জন্য এটি দেশের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে বিলম্ব শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
শহর উন্নয়ন ও পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় মহানগরগুলোতে পরীক্ষা, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং অন্যান্য জনসমাগমমূলক অনুষ্ঠানের সময় বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা থাকা উচিত। বেঙ্গালুরু দীর্ঘদিন ধরেই দেশের সবচেয়ে যানজটপ্রবণ শহরগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। তাই নির্দিষ্ট দিনে বিপুল মানুষের চলাচল প্রত্যাশিত হলে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও রুট ব্যবস্থাপনা প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে পরীক্ষা আয়োজক, স্থানীয় প্রশাসন এবং ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে আরও উন্নত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
ঘটনাটি আবারও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের ওপর থাকা চাপের বিষয়টি সামনে এনেছে। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা কেন্দ্রে সময়মতো পৌঁছানোও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
বেশ কয়েকজন অভিভাবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, পরীক্ষা মতো গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে প্রশাসনের বিশেষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র পরীক্ষার ওপর মনোযোগ দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের এ ধরনের সমস্যার হাত থেকে কীভাবে রক্ষা করা যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের মতে, পরীক্ষাকালীন শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।











