দুর্গাপূজার আগে ভাগলপুরে নতুন স্ট্রিট লাইট বসানোর কাজ শুরু

দুর্গাপূজার আগে ভাগলপুর শহরের অন্ধকার ও সংবেদনশীল এলাকায় নতুন স্ট্রিট লাইট বসানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রায় ৫,০০০ লাইটের পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে ১,৭০০টি লাইট কেনার অর্ডার দেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপূজার আগে ভাগলপুরে নতুন স্ট্রিট লাইট বসানোর কাজ শুরু
Photo Credit / Attribution: Google

দুর্গাপূজার আগে ভাগলপুর শহরের রাস্তা, গলি, মোড় ও প্রধান জনসাধারণের স্থানগুলিতে নতুন স্ট্রিট লাইট বসানোর প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। রাতের অন্ধকারে পর্যাপ্ত আলো না থাকা এলাকাগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। নগর নিগম নতুন স্ট্রিট লাইট বসানোর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এখন চিহ্নিত স্থানগুলিতে লাইট বসানোর কাজ শুরু হবে।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনার গুরুত্ব বেড়েছে। উৎসবের সময় ভাগলপুর শহরে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের চলাচল থাকে। বিভিন্ন এলাকায় পুজোর প্যান্ডেল তৈরি হয় এবং রাতে বিপুল সংখ্যক ভক্ত রাস্তায় বের হন। এই পরিস্থিতিতে রাস্তা ও গলিতে পর্যাপ্ত আলো থাকলে যাতায়াতে সুবিধা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নগর নিগমের পরিকল্পনায় অন্ধকার ও সংবেদনশীল এলাকাগুলিকে প্রথমে আলোকিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নগর নিগম এমন স্থান চিহ্নিত করেছে যেখানে স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থা দুর্বল অথবা পুরনো লাইট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় রাতে রাস্তা ও আশপাশের এলাকা অন্ধকারে থাকে। এর মধ্যে গলি-মহল্লার পাশাপাশি প্রধান রাস্তা, ব্যস্ত মোড় এবং ধর্মীয় ও জনসাধারণের স্থানও রয়েছে। নতুন লাইট বসানোর পর এসব স্থানে রাতে দৃশ্যমানতা উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই পরিকল্পনায় নিরাপত্তাকেও গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে নারী, প্রবীণ নাগরিক এবং রাতের কাজ বা অন্যান্য কারণে বাড়ির বাইরে বের হওয়া মানুষের জন্য পর্যাপ্ত আলোকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হচ্ছে। অন্ধকার এলাকায় আগে লাইট বসানোর উদ্দেশ্য শুধু শহর আলোকিত করা নয়, রাতের যাতায়াত সহজ করাও।

দুর্গাপূজার সময় শহরের প্রধান সড়কগুলিতে সাধারণ দিনের তুলনায় যাতায়াত অনেক বেড়ে যায়। পুজোর প্যান্ডেলে যাওয়ার জন্য মানুষ হেঁটেও বের হন এবং বিপুল সংখ্যক দুই ও চার চাকার যানবাহন রাস্তায় থাকে। অনেক জায়গায় গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় থাকে। ফলে প্রধান রাস্তা ও আশপাশের গলিতে পর্যাপ্ত আলো থাকলে মানুষের পথ দেখতে সুবিধা হবে এবং রাতে যাতায়াতও সহজ হবে।

নগর নিগম কার্যদায়ী সংস্থাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। উপলব্ধ রিপোর্ট অনুযায়ী, লক্ষ্য হলো দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার আগে চিহ্নিত এলাকায় নতুন লাইট বসিয়ে দেওয়া। মেয়র ড. বসুন্ধরা লাল সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও সংস্থাকে কাজের গুণমানের দিকে নজর দিতে এবং সময়সীমা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।

ভাগলপুরে স্ট্রিট লাইট বসানোর এই পরিকল্পনা হঠাৎ শুরু হয়নি। শহরে বড় পরিসরে নতুন স্ট্রিট লাইট বসানোর পরিকল্পনা কিছু সময় ধরেই প্রক্রিয়াধীন ছিল। ২৬ সেপ্টেম্বরের রিপোর্ট অনুযায়ী, নগর নিগমের পরিকল্পনায় প্রায় ৫,০০০টি স্ট্রিট লাইট বসানোর কথা রয়েছে। টেন্ডার পাওয়া সংস্থার ব্যাংক গ্যারান্টি জমা এবং নগর নিগমের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রথম পর্যায়ে ১,৭০০টি লাইট কেনার অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। সরবরাহের পর প্রধান রাস্তা ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে এগুলি বসানোর কাজ শুরু হওয়ার কথা।

এর আগেও শহরের আলোক ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য নগর নিগমের স্তরে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি প্রধান মোড়ে সাজসজ্জার এবং তেরঙ্গা লাইট বসানোর পরিকল্পনাও অনুমোদিত হয়েছিল। শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং বাড়তে থাকা যানবাহনের চাপের প্রেক্ষিতে রাতের আলোক ব্যবস্থা উন্নত করা নগর সংস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক পরিষেবা হিসেবে উঠে এসেছে।

নতুন স্ট্রিট লাইট বসলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেই মহল্লা ও রাস্তার বাসিন্দাদের, যেখানে বর্তমানে রাতে পর্যাপ্ত আলো থাকে না। বেশ কয়েকটি এলাকায় নষ্ট লাইটের কারণে মানুষকে মোবাইলের আলো অথবা দোকান ও বাড়ি থেকে আসা আলোর ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রধান রাস্তা থেকে ভিতরের গলিতে ঢোকার ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়। নতুন লাইট বসানোর পর এসব স্থানে রাতের পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে নগর নিগমের অগ্রাধিকার থাকবে সেই স্থানগুলিতে, যেখানে মানুষের ভিড় বেশি হয়। প্রধান পুজোস্থল, ধর্মীয় স্থান, জনসাধারণের স্থান এবং ব্যস্ত মোড়ে আলোর ব্যবস্থা জোরদার করলে ভক্তদেরও সুবিধা হবে। রাতে পুজোর প্যান্ডেল দেখতে বের হওয়া পরিবারের জন্য আশপাশের রাস্তা স্পষ্ট দেখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের সঙ্গে বের হওয়া মানুষের জন্য পর্যাপ্ত আলো উপকারী হতে পারে।

শহরে পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইটের প্রভাব শুধু উৎসবের সময় নয়, সারা বছরই দেখা যেতে পারে। রাতে বাজার থেকে ফেরার মানুষ, চাকরি বা ব্যবসার কারণে দেরিতে বাড়ি ফেরা কর্মী, হাসপাতাল বা রেলস্টেশনে যাওয়া যাত্রী এবং অন্যান্য নাগরিক উন্নত আলোক ব্যবস্থার সুবিধা পেতে পারেন। জনসাধারণের স্থানগুলিতে আলো থাকলে রাতের সময় শহরের সাধারণ কার্যকলাপও সহজ হয়।

তবে নতুন লাইট বসানোর পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিভিন্ন শহরে নতুন লাইট বসানোর পর কিছু সময়ের মধ্যে বাল্ব, ওয়্যারিং বা অন্যান্য সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। তাই ভাগলপুরেও নতুন ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে নষ্ট লাইট সময়মতো মেরামত এবং নিয়মিত পরিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ হবে। নগর নিগমকে নিশ্চিত করতে হবে যে যেসব স্থানে লাইট বসানো হচ্ছে, সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে আলোর ব্যবস্থা বজায় থাকে।

এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রথমে অন্ধকার ও সংবেদনশীল স্থানগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এর ফলে সীমিত সময়ের মধ্যে সেই এলাকাগুলিকে কভার করা সম্ভব হবে যেখানে মানুষের সমস্যা বেশি। এরপর অন্যান্য চিহ্নিত স্থানেও লাইট বসানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। নগর নিগমের লক্ষ্য শহরের সব প্রধান অংশে আলোক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।

দ্রুত বিকাশশীল শহর হিসেবে ভাগলপুরে রাস্তা, নালা, যানবাহন চলাচল এবং আলোক ব্যবস্থার মতো মৌলিক পরিষেবার গুরুত্ব বাড়ছে। শহরের বেশ কয়েকটি অংশে নতুন বসতি গড়ে উঠেছে এবং পুরনো এলাকাতেও জনসংখ্যা ও ব্যবসা বেড়েছে। এর সঙ্গে রাতে যাতায়াতকারী মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। ফলে পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট এখন শুধু সুবিধা নয়, শহুরে পরিকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

দুর্গাপূজার আগে নতুন লাইট বসানোর প্রচেষ্টাকে এই প্রেক্ষাপটেই দেখা হচ্ছে। উৎসবের সময় বিপুল সংখ্যক ভক্ত পুজোর প্যান্ডেল ও ধর্মীয় স্থানগুলিতে পৌঁছবেন। প্রধান রাস্তা ও আশপাশের এলাকা আলোকিত থাকলে রাতে যাতায়াতের সময় মানুষের সমস্যা কম হবে। পাশাপাশি অন্ধকার এলাকাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট বা অপর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইটের সমস্যায় থাকা এলাকাগুলির মানুষও সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

নগর নিগমের পক্ষ থেকে কাজের ক্ষেত্রে গুণমানের সঙ্গে আপস না করার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি বসানো লাইটগুলি নির্ধারিত মান অনুযায়ী এবং সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে সংস্থাকে। উৎসবের আগে দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা তৈরি করাও প্রয়োজনীয় হবে।

ভাগলপুর শহরে নতুন স্ট্রিট লাইট বসানোর প্রক্রিয়া এখন পরবর্তী পর্যায়ে পৌঁছেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চিহ্নিত এলাকায় লাইট বসানোর পথ পরিষ্কার হয়েছে। প্রায় ৫,০০০টি লাইট বসানোর বৃহৎ পরিকল্পনা এবং প্রথম পর্যায়ে ১,৭০০টি লাইট কেনার অর্ডার থেকে শহরের আলোক ব্যবস্থায় বড় পরিসরে পরিবর্তনের প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে। দুর্গাপূজার আগে অন্ধকার ও সংবেদনশীল এলাকাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় উৎসবের সময় রাতে বের হওয়া ভক্ত ও সাধারণ নাগরিকদের সুবিধা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a comment