Shahid Kapoor-Meera Rajput: বাচ্চাদের খাওয়াতে জোর নয়, শাহিদ-মীরার বাড়িতে মানা হয় এই বিশেষ নিয়ম!

বাচ্চাদের খাবার নিয়ে অতিরিক্ত কড়াকড়ি নয়! শাহিদ কাপুর ও মীরা রাজপুতের সন্তানদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে মীরার প্যারেন্টিং ভাবনা এবং গুরুত্বপূর্ণ টিপস জেনে নিন।

বলিউড অভিনেতা শাহিদ কাপুর ও মীরা রাজপুতের দুই সন্তান মিশা ও জৈনের প্যারেন্টিং নিয়ে মাঝেমধ্যেই আলোচনা হয়। বিশেষ করে শিশুদের খাবারদাবার নিয়ে মীরার দৃষ্টিভঙ্গি বেশ আলাদা। প্রতিটি খাবারকে ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ বলে ভাগ করে না দিয়ে, তিনি শিশুদের পছন্দকেও গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষপাতী। তবে এর অর্থ যে বাচ্চাদের যা ইচ্ছা তাই খেতে দেওয়া, তা নয়।

খাবার নিয়ে অতিরিক্ত কড়াকড়ি নয়

বাচ্চাদের সবজি খাওয়ানো থেকে শুরু করে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস তৈরি করা—অভিভাবকদের কাছে বিষয়টি সহজ নয়। অনেক সময় পছন্দের খাবার না পেলে শিশুরা খেতেই চায় না।মীরার পদ্ধতিতে খাবারকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার বদলে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়ার কথা বলা হয়। অর্থাৎ প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টিকর উপাদান রাখার পাশাপাশি শিশুকে নিজের পছন্দ জানানোর সুযোগও দেওয়া যেতে পারে।

পছন্দের খাবার একেবারে বন্ধ করার দরকার নেই

চকোলেট, পিৎজা, বার্গার কিংবা মিষ্টির মতো খাবার নিয়ে অনেক পরিবারেই কঠোর নিয়ম থাকে। কিন্তু কোনও খাবারকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দিলে সেটির প্রতি শিশুর আগ্রহ আরও বেড়ে যেতে পারে।তাই মাঝে মধ্যে শিশুর পছন্দের খাবার খাওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে তার পাশাপাশি দিনের অন্যান্য খাবারে ডাল, শাকসবজি, ফল, শস্য, দুধ বা শিশুর উপযোগী অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ।

‘নিয়ম নেই’ মানে যা খুশি খাওয়া নয়

মীরার এই পদ্ধতিকে ‘নো রুলস’ বলা হলেও এর অর্থ একেবারেই সীমাহীন খাবারের স্বাধীনতা নয়। বরং খাবার নিয়ে অযথা ভয়, চাপ বা অপরাধবোধ তৈরি না করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।একদিন শিশু পছন্দের কোনও খাবার খেতে চাইলে তাকে বকাঝকা না করে, বাকি খাবারের সঙ্গে পুষ্টিকর উপাদানের ভারসাম্য রাখা যেতে পারে। এতে খাবার নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব তৈরির সম্ভাবনাও কমে।

খাওয়ার সময় বকাঝকা নয়

শুধু কী খাবার দেওয়া হচ্ছে তা নয়, শিশুকে কীভাবে খাওয়ানো হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। খাওয়ার সময় বারবার বকাঝকা, জোর করা বা চাপ তৈরি করলে খাবারের সঙ্গে শিশুর অস্বস্তিকর সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।তার বদলে বাবা-মা একাধিক স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প সামনে রাখতে পারেন। শিশুকে নতুন স্বাদ ও খাবারের সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিচিত হওয়ার সুযোগ দেওয়াও কাজে আসতে পারে।

বাবা-মায়ের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ

শিশুরা অনেক সময় বাবা-মায়ের আচরণ দেখে খাবারের অভ্যাস তৈরি করে। তাই সন্তানকে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি অভিভাবকদের নিজেদের খাদ্যাভ্যাসেও বৈচিত্র্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।বাড়িতে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরিবেশ থাকলে শিশুরাও ধীরে ধীরে সেই অভ্যাসের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।

সব শিশুর জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়

তবে শাহিদ-মীরার মতো কোনও তারকা পরিবারের খাদ্যাভ্যাস হুবহু অনুসরণ করা উচিত নয়। কারণ প্রত্যেক শিশুর বয়স, শারীরিক সক্রিয়তা, খাবারের পছন্দ এবং পুষ্টির প্রয়োজন আলাদা।বিশেষ করে কোনও শিশুর খাবারে অ্যালার্জি, নির্দিষ্ট পুষ্টির ঘাটতি, বিকাশগত সমস্যা বা চিকিৎসকের দেওয়া বিশেষ ডায়েট থাকলে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ কিংবা যোগ্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই উপযুক্ত।

সন্তান কী খাবে, তা নিয়ে অনেক বাবা-মায়েরই চিন্তা থাকে। তবে মীরা রাজপুতের প্যারেন্টিং ভাবনায় খাবার নিয়ে অতিরিক্ত কড়াকড়ির বদলে গুরুত্ব পায় ভারসাম্য, পছন্দের স্বাধীনতা এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস।

Leave a comment