ভারত রবিবার মহিলা এশিয়া কাপ ২০২৬-এ থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিযান শুরু করবে। গ্রুপ-A-এর এই ম্যাচটি দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারতীয় সময় রাত ৮টা থেকে শুরু হবে এবং ভারতীয় দলের নেতৃত্বে থাকবেন হরমনপ্রীত কৌর।
ভারতীয় দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি তরুণ প্রতিভারাও রয়েছেন। স্মৃতি মন্ধানা, শেফালি ভার্মা, হরমনপ্রীত কৌর এবং দীপ্তি শর্মা দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন। তবে জেমিমা রদ্রিগেজের অনুপস্থিতি ভারতের জন্য বড় ধাক্কা। চোটের কারণে তিনি টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছেন এবং তাঁর পরিবর্তে প্রতিকা রাওয়ালকে দলে নেওয়া হয়েছে।
গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচগুলির আগে দলের আত্মবিশ্বাস শক্তিশালী করতে ভারত জয় দিয়ে অভিযান শুরু করতে চাইবে।
থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের রেকর্ড
ভারত ও থাইল্যান্ডের মধ্যে এখনও পর্যন্ত তিনটি মহিলা টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছে এবং তিনটিতেই ভারত জয় পেয়েছে। আগের ম্যাচগুলিতে ভারত বিভিন্ন সময়ে থাইল্যান্ডকে ৬৬ রান, ৯ রান এবং ৭৪ রানে হারিয়েছে।
মন্ধানা ও শেফালি ভারতের প্রধান ব্যাটারদের মধ্যে
ভারতের ব্যাটিং বিভাগে স্মৃতি মন্ধানার দিকে নজর থাকবে। তাঁর সঙ্গে শেফালি ভার্মা ইনিংসের শুরু করবেন।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শেফালি ১৬ ম্যাচে ৬৮০ রান করেছেন। হরমনপ্রীত কৌর ৯ ম্যাচে ২৬৯ রান করেছেন, আর স্মৃতি মন্ধানার সংগ্রহ ৮ ম্যাচে ২৪৫ রান।
মিডল অর্ডারে রিচা ঘোষ এবং অন্যান্য ব্যাটারদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হবে। জেমিমা রদ্রিগেজ না থাকায় ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন হতে পারে। সুযোগ পেলে প্রতিকা রাওয়ালের পারফরম্যান্সের দিকেও নজর থাকবে।
দীপ্তি শর্মা ও শ্রী চরণী ভারতের প্রধান স্পিন বিকল্প
ভারতের বোলিং বিভাগে একাধিক স্পিন বিকল্প রয়েছে। দীপ্তি শর্মা ও শ্রী চরণী দলের প্রধান বোলারদের মধ্যে রয়েছেন। শেষ ১০ ম্যাচে চরণী ২১টি উইকেট নিয়েছেন। বর্তমান ICC মহিলা টি-২০ র্যাঙ্কিংয়েও তিনি শীর্ষ বোলারদের মধ্যে রয়েছেন।
একই সময়ের মধ্যে দীপ্তি শর্মা ১৫টি উইকেট নিয়েছেন। রাধা যাদব ও প্রমা রাওয়াতও ভারতকে অতিরিক্ত স্পিন বিকল্প দিচ্ছেন।
পেস বোলিংয়ে রেণুকা ঠাকুর ও অরুন্ধতী রেড্ডির উপর দায়িত্ব থাকবে। ম্যাচটি রাতে হওয়ায় শুরুতে নতুন বলে পেস বোলাররা কিছুটা সহায়তা পেতে পারেন।
থাইল্যান্ডের প্রধান খেলোয়াড় পুথাওয়ং ও কোনচারোয়েনকাই
ভারতের বিরুদ্ধে থাইল্যান্ড তাদের প্রধান খেলোয়াড়দের উপর নির্ভর করবে। থিপাচা পুথাওয়ং দলের প্রধান বোলিং শক্তিগুলির মধ্যে রয়েছেন। শেষ ১০ ম্যাচে তিনি ২০টি উইকেট নিয়েছেন এবং তাঁর ইকোনমি রেট ৩.৭০।
সুনিদা চতুরোংরাত্তানাও একই সময়ে ১৬টি উইকেট নিয়েছেন। ভারতের ব্যাটারদের বিরুদ্ধে শুরু এবং মাঝের ওভারে দুই বোলারই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।
ব্যাটিংয়ে নন্নাপত কোনচারোয়েনকাই থাইল্যান্ডের প্রধান খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন। শেষ ১০ ম্যাচে তিনি ২৫৪ রান করেছেন এবং তাঁর ব্যাটিং গড় ৬৩.৫০। ফন্নিতা মায়াও ১৯০ রান করেছেন।
দুবাইয়ের পিচে স্পিনাররা সহায়তা পেতে পারেন
দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচে ম্যাচ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে স্পিন বোলাররা সহায়তা পেতে পারেন। ভারতের কাছে দীপ্তি শর্মা, শ্রী চরণী, রাধা যাদব এবং প্রমা রাওয়াতের মতো স্পিন বিকল্প রয়েছে। থাইল্যান্ডের হয়ে মূল দায়িত্ব থাকবে পুথাওয়ং ও সুনিদার উপর।
রাতের ম্যাচে শুরুর পর্যায়ে নতুন বলে পেস বোলাররা সুইং বা সিম মুভমেন্ট পেতে পারেন। তাই টস জেতা দল পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
দুবাইয়ে পরিষ্কার আবহাওয়ার পূর্বাভাস
ভারত ও থাইল্যান্ডের ম্যাচ চলাকালীন আবহাওয়া পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩০ আগস্ট দুবাইয়ে দিনের তাপমাত্রা প্রায় ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।
বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকায় আবহাওয়ার কারণে ম্যাচ প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা কম। তবে গরম ও আর্দ্র পরিবেশে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও হাইড্রেশন গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
টি-২০ এশিয়া কাপে ভারতের রেকর্ড
ভারত মহিলা টি-২০ এশিয়া কাপের পাঁচটি সংস্করণের মধ্যে তিনবার শিরোপা জিতেছে। ভারত ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২২ সালে ট্রফি জিতেছিল।
২০২৪ সালের সংস্করণে ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে ভারতকে হারতে হয়েছিল। এবার ভারত আবারও শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে টুর্নামেন্টে নামবে।
টি-২০ এশিয়া কাপের ইতিহাসে ভারত ২৯টি ম্যাচের মধ্যে ২৫টিতে জয় পেয়েছে। এই টুর্নামেন্টে ভারতের হয়ে সর্বাধিক রান করেছেন হরমনপ্রীত কৌর। তিনি ২৫ ম্যাচে ৫৭১ রান করেছেন।
এশিয়া কাপে দীপ্তি শর্মা ভারতের অন্যতম সফল বোলার। তিনি ১৯ ম্যাচে ২৬টি উইকেট নিয়েছেন।
ভারতের সম্ভাব্য প্লেয়িং XI
থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের সম্ভাব্য প্লেয়িং XI-এ স্মৃতি মন্ধানা, শেফালি ভার্মা, ভারতী ফুলমালি, হরমনপ্রীত কৌর, রিচা ঘোষ, দীপ্তি শর্মা, অরুন্ধতী রেড্ডি, প্রমা রাওয়াত, রাধা যাদব, শ্রী চরণী এবং রেণুকা ঠাকুর থাকতে পারেন।
দল পরিচালনায় পরিস্থিতি ও পিচ বিবেচনা করে চূড়ান্ত একাদশে পরিবর্তন হতে পারে। দুবাইয়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় স্পিন ও পেস বোলিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
থাইল্যান্ডের সম্ভাব্য প্লেয়িং XI
থাইল্যান্ডের সম্ভাব্য দলে নন্নাপত কোনচারোয়েনকাই, নাথাকান চন্থম, নারুমোল চাইওয়াই, ফন্নিতা মায়া, চানিদা সুত্থিরুয়াং, সুলেপর্ন লাওমি, ওন্নিচা কামচম্ফু, থিপাচা পুথাওয়ং, সুনিদা চতুরোংরাত্তনা, আপিসরা সুয়ানচোনরাথি এবং চায়ানিসা ফেংফান থাকতে পারেন।
ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে থাইল্যান্ড তাদের বোলিংয়ের উপর অনেকটাই নির্ভর করবে। তাদের বোলাররা ভারতের টপ অর্ডারের বিরুদ্ধে শুরুতেই উইকেট নিতে পারলে ম্যাচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে।
জয় দিয়ে অভিযান শুরু করতে চাইবে ভারত
থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের আগের রেকর্ড ভারতের পক্ষে থাকলেও ভারত জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে চাইবে। স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি ভার্মার কাছ থেকে দ্রুত শুরু, মিডল অর্ডারে হরমনপ্রীত কৌরের দায়িত্ব এবং বোলিংয়ে দীপ্তি শর্মা ও শ্রী চরণীর কাছ থেকে কার্যকর পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত হবে।
অন্যদিকে, থাইল্যান্ড ভারতের বিরুদ্ধে নিজেদের পারফরম্যান্সের উন্নতি ঘটিয়ে অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করবে। দুবাইয়ে হতে চলা এই ম্যাচ দিয়েই টুর্নামেন্টে ভারতের অভিযান শুরু হবে।





