জিম্বাবোয়ে ওয়ানডে ট্রাই-সিরিজে বাংলাদেশকে ৯৯ রানে হারাল

ওয়ানডে ট্রাই-সিরিজে জিম্বাবোয়ে বাংলাদেশকে ৯৯ রানে হারিয়েছে। ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেগ আরভিনের ১৫০ রানের জুটির পর ব্র্যাড ইভান্স চারটি উইকেট নেন।

জিম্বাবোয়ে ওয়ানডে ট্রাই-সিরিজে বাংলাদেশকে ৯৯ রানে হারিয়েছে। ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেগ আরভিন ১৫০ রানের জুটি গড়ে জিম্বাবোয়ের ইনিংস সামলান, অন্যদিকে ব্র্যাড ইভান্স চারটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংকে চাপে ফেলে দেন।

শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপে জিম্বাবোয়ে

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবোয়ে। তবে বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ প্রথম দিকের ওভারগুলোতে কার্যকর বোলিং করে জিম্বাবোয়ের পরিকল্পনায় ধাক্কা দেন।

সাত ওভারের মধ্যেই ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান ও তাফাদজওয়া ত্সিগাকে সাজঘরে ফেরান তাসকিন। পরপর তিনটি উইকেট পড়ায় ২৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জিম্বাবোয়ে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত অলআউট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।

প্রাথমিক সাফল্যের পর বাংলাদেশের বোলাররা ম্যাচে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার চেষ্টা করেন। উইকেট পড়ার ধারা থামিয়ে ইনিংসকে স্থিতিশীল করতে জিম্বাবোয়ের একটি বড় জুটির প্রয়োজন ছিল।

টেলর ও আরভিনের ১৫০ রানের জুটি

কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেন ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেগ আরভিন। দুই ব্যাটার প্রথমে উইকেট পড়ার ধারা থামান এবং পরে ধীরে ধীরে রানের গতি বাড়ান। তাঁদের ১৫০ রানের জুটি জিম্বাবোয়েকে প্রাথমিক বিপর্যয় থেকে বের করে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরভিন শতরান থেকে সাত রান দূরে থেকে আউট হন। শতরান পূর্ণ করতে না পারলেও তাঁর ইনিংস জিম্বাবোয়েকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোরে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

তাসকিন আহমেদের তিন উইকেট

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। তিনি ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। তাঁর শুরুর বোলিং জিম্বাবোয়েকে যথেষ্ট চাপে ফেলেছিল। তবে টেলর ও আরভিনের জুটি ভাঙতে বাংলাদেশের বোলাররা প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি।

সাইফ হাসান ও শরিফুল ইসলামও দুটি করে উইকেট নেন। তা সত্ত্বেও জিম্বাবোয়ের মিডল অর্ডার গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেয়।

রান তাড়ায় বাংলাদেশের দ্রুত শুরু

জিম্বাবোয়ের স্কোরের জবাবে রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ইতিবাচক শুরু করে। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে জিম্বাবোয়ের বোলারদের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করেন।

তানজিদ ৩৮ বলে ৪৬ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল নয়টি চার ও একটি ছক্কা। দ্রুত রান করে তিনি বাংলাদেশকে ম্যাচে ধরে রাখার চেষ্টা করেন।

অন্যদিকে সৌম্য সরকার বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তিনি ৯ রান করে ব্লেসিং মুজারাবানির বলে আউট হন। শুরুতে উইকেট পড়লেও তানজিদের ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ রান তাড়া চালিয়ে যাওয়ার আশা ধরে রেখেছিল।

তবে ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ১০ম ওভারে, যখন নিউম্যান নিয়ামহুরি তানজিদকে আউট করেন। তানজিদ সাজঘরে ফেরার পর বাংলাদেশের রান তোলার গতি ও ব্যাটিংয়ের ভারসাম্যে প্রভাব পড়ে।

ব্র্যাড ইভান্সের চার উইকেট

তানজিদ আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর চাপ আরও বাড়ে। লক্ষ্যের কাছে পৌঁছাতে দলের জুটি প্রয়োজন ছিল, কিন্তু জিম্বাবোয়ের বোলাররা তাদের খোলামেলা ব্যাটিং করার সুযোগ দেননি।

ব্র্যাড ইভান্স বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের বিরুদ্ধে কার্যকর বোলিং করেন এবং পরপর উইকেট তুলে নেন। তিনি ৪৫ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। তাঁর বোলিংয়ের কারণে বাংলাদেশ তাদের ভালো শুরুর সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি।

জিম্বাবোয়ের বোলাররা সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের ব্যাটিং আটকে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ লক্ষ্যের চেয়ে ৯৯ রান পিছিয়ে থাকে এবং জিম্বাবোয়ে ম্যাচ জিতে যায়।

ম্যাচের ফলাফল

শুরুতে তিনটি উইকেট হারানোর পর ইনিংস সামলে জিম্বাবোয়ে বাংলাদেশকে ৯৯ রানে হারায়। ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেগ আরভিনের ১৫০ রানের জুটি জিম্বাবোয়ের ব্যাটিংকে শক্তি দেয়, আর ব্র্যাড ইভান্সের চার উইকেট জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ রান তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু করেছিল, কিন্তু তানজিদ হাসান তামিম আউট হওয়ার পর দলের ব্যাটিং ভেঙে পড়ে। ফলে জিম্বাবোয়ে ৯৯ রানে ম্যাচ জিতে নেয়।

Leave a comment