পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হবে। কলকাতা ও হাওড়ায় প্রায় ১.৭০ লক্ষ আপিল বিচারাধীন রয়েছে। আসন্ন পুরসভা নির্বাচনের আগে এই আপিলগুলির নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, সময়মতো সিদ্ধান্ত না হলে একাধিক যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
ভারতের প্রধান বিচারপতি বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করবে। বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনা।
আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন এবং প্রশান্ত ভূষণ আপিলগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলগুলির বিষয়ে সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন, যাতে যোগ্য ভোটাররা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন।
আবেদনকারীরা আরও জানিয়েছেন, আপিলের নিষ্পত্তি বিলম্বিত হলে আসন্ন পুরসভা নির্বাচনে একাধিক ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সমস্যায় পড়তে পারেন। তবে বিচারাধীন আপিল থাকা সমস্ত ভোটারকে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা আদালতের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
আবেদনকারীদের দাবি, কলকাতা ও হাওড়ার পুরসভা এলাকায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রায় ১.৭০ লক্ষ মামলা আপিল পর্যায়ে বিচারাধীন রয়েছে।
আসন্ন পুরসভা নির্বাচনের আগে এই মামলাগুলির নিষ্পত্তি না হলে একাধিক ব্যক্তি ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবেদনকারীরা। এই কারণে তাঁরা আপিলগুলির শুনানি দ্রুত করার এবং ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদনগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
যেসব ভোটারের আপিলের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তাঁদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখতে উপযুক্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বিবেচনা করার জন্যও আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। তবে আপিল বিচারাধীন থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোট দেওয়ার অনুমতি পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ এবং প্রযোজ্য নির্বাচনী বিধি গুরুত্বপূর্ণ হবে।
পশ্চিমবঙ্গের সাতটি পুরসভায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন হতে পারে বলে সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে। এই পুরসভাগুলি হল কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং।
উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, এই এলাকাগুলিতে ২৭ থেকে ২৯ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে। তবে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ফলে এই তারিখগুলিকে সম্ভাব্য নির্বাচনী সূচি হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
সম্ভাব্য নির্বাচনী সময়সীমার কারণে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আপিলগুলির নিষ্পত্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আবেদনকারীদের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে যোগ্য ভোটারদের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন, যাতে তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সমস্যায় না পড়েন।
এর আগে ৯ অক্টোবরের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে SIR-সংক্রান্ত আপিল ট্রাইব্যুনালগুলির কাজকর্মে দেখা দেওয়া সমস্যাগুলি এবং আপিল নিষ্পত্তিতে ব্যবহৃত সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
আদালত ইঙ্গিত দিয়েছিল, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির দাবিতে দায়ের করা আপিলগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, ট্রাইব্যুনালগুলিকে আপাতত নাম বাদ দেওয়া সংক্রান্ত মামলাগুলি স্থগিত রেখে প্রথমে নাম অন্তর্ভুক্তির দাবিতে দায়ের করা আপিলগুলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা যেতে পারে।
এই পর্যবেক্ষণে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা ব্যক্তিদের সমস্যার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং চূড়ান্ত বিচারবিভাগীয় নির্দেশ এক বিষয় নয়। পরবর্তী পদক্ষেপ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়ার খসড়া ভোটার তালিকা থেকে মোট ৫৮.২০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংশোধন প্রক্রিয়ার আগে রাজ্যে প্রায় ৭.৬৬ কোটি ভোটারের নাম নথিভুক্ত ছিল। খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে প্রায় ৭.০৮ কোটি নাম।
এই হিসাবে বাদ পড়া নামের সংখ্যা মোট ভোটারের প্রায় ৭.৬ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় আটজনের নাম খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে প্রায় ২৪.১৭ লক্ষ ভোটারকে মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। প্রায় ১.৩৮ লক্ষ নামকে ডুপ্লিকেট বা ভুয়ো শ্রেণিতে রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া প্রায় ৩২.৬৫ লক্ষ নাম স্থানান্তরিত, নিখোঁজ অথবা অন্যান্য কারণ সংক্রান্ত শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই পরিসংখ্যান খসড়া ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে আপিল এবং প্রতিটি মামলার পৃথক যাচাইয়ের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ, যাতে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম ভুলবশত তালিকার বাইরে না থাকে।
SIR-এর উদ্দেশ্য ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা এবং ভুল তথ্য, ডুপ্লিকেট এন্ট্রি ও অযোগ্য ভোটারদের নাম শনাক্ত করা। তবে এই প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠলে আপিল ও সংশোধনের ব্যবস্থাও কার্যকর থাকা প্রয়োজন।
পশ্চিমবঙ্গের মামলাটি ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত।
সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে বিচারাধীন আপিলগুলির নিষ্পত্তি দ্রুত করার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট হতে পারে। কলকাতা ও হাওড়ায় বিচারাধীন আপিলের পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালগুলির কাজকর্ম এবং প্রযুক্তিগত সমস্যাও আলোচনায় আসতে পারে।
বিচারাধীন আপিলগুলি সম্ভাব্য পুরসভা নির্বাচনের আগে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আদালতের নির্দেশ, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক সূচি এবং আপিল নিষ্পত্তির অগ্রগতির উপর ভোটারদের অবস্থান নির্ভর করবে।












