উত্তরপ্রদেশে পদকজয়ীদের সরকারি চাকরি ও মহিলা খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণের কথা জানালেন যোগী আদিত্যনাথ

উত্তরপ্রদেশে ‘পদক লাও, পদ পাও’ প্রকল্পে পদকজয়ীদের সরকারি চাকরির সুযোগ, আন্তর্জাতিক পদকজয়ীদের পুরস্কার এবং গ্রাম থেকে ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পরিকাঠামো সম্প্রসারণের কথা জানালেন যোগী আদিত্যনাথ।

উত্তরপ্রদেশে ক্রীড়াবিদদের সরকারি চাকরি, পুরস্কার ও প্রশিক্ষণ পরিকাঠামো সম্প্রসারণে একাধিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শারদীয় নবরাত্রি উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় তিনি ‘পদক লাও, পদ পাও’ প্রকল্পের আওতায় পদকজয়ী খেলোয়াড়দের সরকারি পরিষেবায় সরাসরি নিয়োগের সুযোগ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদকজয়ীদের পুরস্কার এবং রাজ্যে ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নের বিষয়গুলি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নারী ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে তিনি মহিলা ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন।

যোগী আদিত্যনাথ তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে জানান, উত্তরপ্রদেশে ক্রীড়া প্রতিভাকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ‘পদক লাও, পদ পাও’ প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য পদকজয়ী খেলোয়াড়দের সরকারি পরিষেবায় সরাসরি নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, অলিম্পিক, কমনওয়েলথ গেমস এবং এশিয়ান গেমসে পদকজয়ী খেলোয়াড়দের আর্থিক পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য খেলোয়াড়দের কৃতিত্বের স্বীকৃতি দেওয়া এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য আরও ভালো সুযোগ তৈরি করা। তাঁর মতে, খেলোয়াড়দের উৎসাহ ও সম্মান দেওয়ার মাধ্যমে ক্রীড়াক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করা যায়।

উত্তরপ্রদেশে পদকজয়ীদের সরকারি চাকরি ও মহিলা খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণের কথা জানালেন যোগী আদিত্যনাথ

রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নের প্রসঙ্গে যোগী আদিত্যনাথ গ্রামের খেলার মাঠ, ব্লক স্তরের মিনি স্টেডিয়াম এবং জেলা স্তরের স্টেডিয়ামের মতো সুবিধার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, মণ্ডল স্তরে স্পোর্টস কলেজ এবং মিরাটে মেজর ধ্যানচাঁদ ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে ক্রীড়া প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরেন।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় ২০১৭ সালের আগের পরিস্থিতির সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, সেই সময় খেলোয়াড়রা, বিশেষত মহিলা ক্রীড়াবিদরা, পর্যাপ্ত সুযোগ ও সম্পদ পেতেন না। পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা, প্রণোদনা এবং ক্রীড়া পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

ক্রীড়া পরিকাঠামো সম্প্রসারণের লক্ষ্য খেলোয়াড়দের অনুশীলনের উন্নত সুযোগ দেওয়া এবং তাঁদের প্রতিভার বিকাশে সহায়তা করা।

নবরাত্রির ষষ্ঠী তিথিতে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে যোগী আদিত্যনাথ মা কাত্যায়নীকে সাহস, সংকল্প ও পরাক্রমের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। নারী ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে তিনি রাজ্যে মহিলা ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন।

অ্যাথলেটিক্সে পারুল চৌধুরী, প্রিয়াঙ্কা গোস্বামী, প্রাচী চৌধুরী এবং অন্নু রানির নাম উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া জুডোতে অস্মিতা দে, ক্রিকেটে দীপ্তি শর্মা ও মেঘনা সিং, হকিতে বন্দনা কাটারিয়া এবং কুস্তিতে দিব্যা কাকরানের সাফল্যের কথাও বলেন। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এই খেলোয়াড়রা পরিচিতি অর্জন করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় খেলোয়াড়দের আর্থিক পুরস্কার, সরকারি চাকরির সুযোগ এবং উন্নত ক্রীড়া পরিকাঠামো প্রদানের বিষয়গুলির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

Leave a comment