উত্তরপ্রদেশসহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের আগে ছোট OBC জাতিগোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবে BJP

উত্তরপ্রদেশসহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ছোট OBC জাতিগোষ্ঠীগুলির মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে BJP। নভেম্বর থেকে মন্ত্রী ও সংগঠনের শীর্ষ পদাধিকারীরা বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে যোগাযোগ অভিযান চালাবেন।

উত্তরপ্রদেশসহ পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC)-এর ছোট জাতিগোষ্ঠীগুলির মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। নভেম্বর থেকে মন্ত্রী, দলের শীর্ষ নেতা এবং সংগঠনের পদাধিকারীদের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বা সাংগঠনিক যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত, তাদের কাছে পৌঁছনোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দল।

উত্তরপ্রদেশসহ পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে OBC সম্প্রদায়গুলির মধ্যে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার কৌশল নিয়ে কাজ করছে BJP। বিশেষত, যেসব ছোট জাতি ও উপগোষ্ঠীর ভোটার সংখ্যা কোনও বিধানসভা কেন্দ্রে তুলনামূলকভাবে সীমিত, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

BJP-র OBC মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি তথা রাজ্যসভার সদস্য অমরপাল মৌর্য এই উদ্যোগে সাংগঠনিক স্তরে পদক্ষেপ করেছেন। লখনউয়ে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে অনগ্রসর শ্রেণির বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছনোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় রাজ্য ও জাতীয় স্তরে সক্রিয় OBC নেতাদের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

দল শীঘ্রই এই নেতাদের তালিকা প্রকাশ করতে পারে। প্রস্তাবিত কর্মসূচি অনুযায়ী, নেতারা ও সংগঠনের পদাধিকারীরা স্থানীয় সম্প্রদায়গুলির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন এবং তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা বোঝার চেষ্টা করবেন।

BJP-র পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে অনগ্রসর শ্রেণির সঙ্গে যুক্ত মন্ত্রী এবং সংগঠনের শীর্ষ পদাধিকারীরা বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় হবেন। সম্প্রসারণমূলক সাংগঠনিক অভিযানেও OBC সম্প্রদায়ের নেতাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

দলের মূল্যায়ন অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে OBC-র ৭৫টিরও বেশি জাতির মধ্যে ৩০টির বেশি জাতির ভোটার সংখ্যা একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে ৫,০০০-এর বেশি। এর পাশাপাশি ছোট জাতিগোষ্ঠীগুলিও নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

এত দিন BJP মৌর্য, কুর্মি, কুশওয়াহা, লোধ, কাশ্যপ, নিষাদ, রাজভর, সাইনি, পাল এবং প্রজাপতি সম্প্রদায়ের মধ্যে নিজেদের ভিত্তি মজবুত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তবে এই গোষ্ঠীগুলির কয়েকটির মধ্যে বিভিন্ন সময়ে অসন্তোষও প্রকাশ পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহত্তর OBC সমর্থন ধরে রাখার পাশাপাশি ছোট সম্প্রদায়গুলির কাছেও পৌঁছতে চাইছে দল।

উত্তরপ্রদেশে OBC ভোটাররা BJP-র নির্বাচনী কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনে এই শ্রেণির সমর্থন দলের নির্বাচনী ফলাফলে ভূমিকা রেখেছে। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে BJP-র আসনসংখ্যা ২০১৯ সালের ৬২ থেকে কমে ৩৩ হয়।

এই সময় সমাজবাদী পার্টি (SP) PDA—অর্থাৎ পিছিয়ে পড়া শ্রেণি, দলিত এবং সংখ্যালঘুদের একজোট করার কৌশলে গুরুত্ব দেয়। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর BJP-ও নিজেদের সংগঠন ও নেতৃত্বে জাতিভিত্তিক প্রতিনিধিত্বকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে।

এই ধারাবাহিকতায় দল রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব কুর্মি সম্প্রদায়ের এক নেতার হাতে তুলে দেয়। মন্ত্রিসভা এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে OBC সমীকরণ বিবেচনায় রাখার প্রচেষ্টাও করা হয়। পাশাপাশি OBC সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের স্মরণে কর্মসূচি ও অন্যান্য কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবও OBC এবং তফসিলি জাতির সম্প্রদায়গুলির মধ্যে সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এই প্রেক্ষাপটে BJP-র নতুন উদ্যোগ রাজ্যের জাতিভিত্তিক নির্বাচনী সমীকরণের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

দলের লক্ষ্য, যেসব সম্প্রদায়ের মধ্যে বর্তমান জাতিভিত্তিক সমীকরণে যথাযথ স্থান না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে তোলা। এ জন্য বিভিন্ন অঞ্চলের দায়িত্ব শীর্ষ নেতাদের হাতে দেওয়া এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই কৌশলের নির্বাচনী ফল কী হবে, তা আগামী দিনে স্পষ্ট হবে। আপাতত ছোট জাতিগোষ্ঠীগুলির কাছে পৌঁছনো, স্থানীয় সমস্যাগুলি বোঝা এবং OBC সম্প্রদায়গুলির সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ জোরদার করাই BJP-র প্রধান লক্ষ্য।

Leave a comment