দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের দাবিতে ১৪ অক্টোবর ২০২৬-এ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সংসদ মার্গ থানার বাইরে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের (IYC) বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, যন্তর মন্তর এলাকায় কথিত অননুমোদিত প্রবেশের মামলায় ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। SIR-এর বিরোধিতায় ১০০-রও বেশি যুব, শ্রমিক ও কৃষক সংগঠন ২৩ অক্টোবর দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।
উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রঙ্কাকে প্রথমে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পর, বুধবার, ১৪ অক্টোবর, যন্তর মন্তর-সংক্রান্ত মামলায় তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। তাঁদের তিহাড় জেলে রাখা হবে।
দিল্লি পুলিশ দুই নেতা এবং অন্য কয়েকজনের বিরুদ্ধে শান্তিভঙ্গ-সংক্রান্ত মুচলেকার শর্ত লঙ্ঘন, অপরাধমূলক অনুপ্রবেশ এবং নির্দেশ অমান্য-সহ বিভিন্ন অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে।
একই মামলায় প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া অজিঙ্ক্য শিন্ডেকে ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে উপলব্ধ প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিস্তারিত বক্তব্য বা মামলার পরবর্তী শুনানি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া হয়নি।
যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল হিসেবে তালিকাভুক্ত রাখার বিষয়টি নিয়েও বিতর্ক চলছে। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
বুধবার দুপুরে দিল্লি পুলিশ সংসদ মার্গ থানার সামনে বিক্ষোভরত ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সদস্যদের আটক করতে শুরু করে। বিক্ষোভকারীরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং SIR প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন।
এই সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী রাস্তায় বসে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা কার্যকর করার ঘোষণাও দেয়।
পুলিশ সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের বিক্ষোভকারী এবং পুলিশকর্মীদের ভিড় থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (RAF) সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরের কাছে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (SFI) এবং ডেমোক্র্যাটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (DYFI)-এর সদস্যরা বিক্ষোভ করেন। SIR প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি ঘিরে উদ্বেগের মধ্যে এই প্রতিবাদ হয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে SIR প্রক্রিয়া প্রত্যাহার, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলির নিরীক্ষা।
সংগঠনগুলির বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নামগুলি পর্যালোচনা করা উচিত। তবে উপলব্ধ প্রতিবেদনে বাদ পড়া নামের সংখ্যা বা কথিত অনিয়মের স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনও পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।
SIR-এর বিরোধিতায় আন্দোলনরত সংগঠনগুলি বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বৈঠক করে। সমাজকর্মী তারা রাওয়ের মতে, আন্দোলনকে বৃহত্তর পরিসরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি যৌথ মঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তারা রাও জুলাই মাস থেকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন এবং সেই পদক্ষেপকে কঠোর বলে উল্লেখ করেন। তিনি SIR প্রক্রিয়া বন্ধ করা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
অখিল ভারতীয় কিষাণ সভার নেতা রাজন ক্ষীরসাগর জানান, বৈঠকে ১০০-রও বেশি যুব, শ্রমিক ও কৃষক সংগঠন অংশ নিয়েছিল। তাঁর মতে, সংগঠনগুলি ২৩ অক্টোবর ২০২৬ থেকে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করবে।

আন্দোলনের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে SIR প্রত্যাহার, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলির নিরীক্ষা। বিভিন্ন সংগঠনকে একটি যৌথ মঞ্চে নিয়ে আসাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
এই বিতর্কের মধ্যে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, কংগ্রেস ভারতের প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্ট এবং বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ সম্মান করে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও জনপরিসরের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত সফল হবে।
বিক্ষোভস্থলের বিজ্ঞপ্তি, পুলিশের পদক্ষেপ এবং CJP নেতাদের হেফাজতে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য সামনে এসেছে।
কংগ্রেসের বক্তব্যে বিচারব্যবস্থার প্রতি সম্মান এবং সরকার বা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিবাদকে পৃথক বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর দিল্লিতে প্রতিবাদের বিকল্প স্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, রাজধানীর নতুন নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলগুলির মধ্যে থাকা রামলীলা ময়দানে আগামী আড়াই মাসের জন্য কোনও ফাঁকা তারিখ নেই। সেখানে বুকিংয়ের জন্য কেবল ২৯, ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বরের তারিখগুলি উপলব্ধ বলে জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে বিক্ষোভের আয়োজন করতে চাওয়া সংগঠনগুলির সামনে আয়োজন-সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে বুকিংয়ের পদ্ধতি এবং অন্য সম্ভাব্য বিক্ষোভস্থল সম্পর্কে উপলব্ধ তথ্যে বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি।
দিল্লির চলমান ঘটনাপ্রবাহে তিনটি প্রধান বিষয় উঠে এসেছে—SIR প্রক্রিয়ার বিরোধিতা, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি এবং বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলির উপলব্ধতা।
CJP-র দুই নেতাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর পাশাপাশি পুলিশের পদক্ষেপও রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন সংগঠন ২৩ অক্টোবর দেশব্যাপী আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে।
আগামী দিনে আন্দোলনের পরিধি, প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া এবং যন্তর মন্তর-সংক্রান্ত মামলার বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার দিকে নজর থাকবে। বিক্ষোভকারীদের দাবি এবং পুলিশের পদক্ষেপ-সংক্রান্ত অভিযোগগুলি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি, সরকারি বিবৃতি ও বিচারবিভাগীয় রেকর্ডের ভিত্তিতে যাচাই প্রয়োজন।











