পাঞ্জাবে ২০২৭ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ১৬-২০ অক্টোবর জেলা সফরে সচিন পাইলট ও পরগট সিং

২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর বিভিন্ন জেলা সফর করবেন কংগ্রেসের সচিন পাইলট ও পরগট সিং। মানসা থেকে শুরু হবে সফর।

২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে সক্রিয় করা এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের লক্ষ্যে কংগ্রেস দলীয় কর্মসূচি শুরু করেছে। দলের রাজ্য প্রভারী সচিন পাইলট এবং নবনিযুক্ত রাজ্য সভাপতি পরগট সিং ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলা সফর করবেন। এই সফর মানসা থেকে শুরু হবে। দুই নেতা স্থানীয় নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে জনসাধারণের সমস্যা, সংগঠনের পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে মতামত ও তথ্য সংগ্রহ করবেন।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে কংগ্রেস এবার তৃণমূল স্তরে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। রাজ্য প্রভারী সচিন পাইলট এবং রাজ্য সভাপতি পরগট সিং ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা সফর করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংগঠনের অবস্থা পর্যালোচনা করবেন। দলীয় নির্বাচনী প্রস্তুতির প্রাথমিক পর্যায় হিসেবে এই সফরকে দেখা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সচিন পাইলট ১৬ অক্টোবর দিল্লি থেকে চণ্ডীগড়ে পৌঁছবেন। সেখান থেকে তিনি মানসার উদ্দেশে রওনা হবেন। আপাতত প্রথম দু’দিনের কর্মসূচি নির্ধারিত হয়েছে। বাকি তিন দিনের কর্মসূচি সফর থেকে পাওয়া মতামত এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী চূড়ান্ত করা হবে। দুই নেতা স্থানীয় নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে দেখা করে সংগঠনের তৃণমূল স্তরের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেবেন।

পাঞ্জাবে ২০২৭ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ১৬-২০ অক্টোবর জেলা সফরে সচিন পাইলট ও পরগট সিং

পাঞ্জাবে মাদক সমস্যা ফের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। মানসায় মাদকের বিরুদ্ধে সরব পরবিন্দর সিং ঝোটাকে গুলি করার ঘটনার পর সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তীব্র হয়েছে। ১৫ অক্টোবর পাঞ্জাব বন্ধের ডাকের প্রভাবও দেখা গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতাদের মানসা সফর রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সফর চলাকালীন মাদক সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং এই সমস্যার কারণে সন্তান হারানো পরিবারগুলির সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই ইস্যুতে জনসাধারণের অসন্তোষ, সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্ন এবং স্থানীয় স্তরে দলের ভূমিকা সম্পর্কে কংগ্রেস মূল্যায়ন করতে পারে।

পাঞ্জাব কংগ্রেসে গত কয়েক মাস ধরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। পরগট সিং রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং নির্বাচনের আগে কর্মীদের সক্রিয় করা দলীয় নেতৃত্বের সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। সচিন পাইলট ও পরগট সিংয়ের যৌথ সফরকে এই লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দুই নেতার বঠিণ্ডা, মানসা, মোগা, লুধিয়ানা, জলন্ধর, কপূরথলা, হোশিয়ারপুর, পাঠানকোট, গুরদাসপুর এবং তরনতারন-সহ বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সফরগুলিতে স্থানীয় নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি জনসাধারণের প্রধান সমস্যাগুলি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

পাঞ্জাবে নির্বাচনী প্রচার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংগঠনগত দুর্বলতাগুলি বুঝে নিতে চাইছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। সচিন পাইলট ও পরগট সিংয়ের সফর থেকে পাওয়া মতামত ও তথ্য দলের অগ্রাধিকার নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে।

এর ভিত্তিতে সংগঠনকে শক্তিশালী করা, স্থানীয় সমস্যাগুলিকে নির্বাচনী কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং আগামী প্রচারের দিকনির্দেশ নির্ধারণের কাজ করা হতে পারে। রাহুল গান্ধীর সম্ভাব্য পাঞ্জাব সফরের আগে এই উদ্যোগ কংগ্রেসকে তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি মূল্যায়নের সুযোগ দেবে।

 

Leave a comment