বীরভূমের বাউটিয়ায় দুই বোনের দুর্গাপুজো! সপ্তমীতে অন্নভোগ, অষ্টমী থেকে দশমী দেবীর পাত জুড়ে শুধু লুচি-পায়েস

বীরভূমের বাউটিয়া গ্রামে চ্যাটার্জি ও ওঝা পরিবারের বনেদি দুর্গাপুজোর বিশেষত্ব জানুন। সপ্তমীতে অন্নভোগ, অষ্টমী থেকে দশমী লুচি-পায়েস এবং বেলুড় মঠের পঞ্জিকা মেনে চলে পুজো।

বাংলার বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো মানেই ইতিহাস, বিশ্বাস আর পারিবারিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। কোথাও প্রাচীন রীতির হাত ধরে পুজো হয়, কোথাও আবার ভোগ নিবেদনের বিশেষ নিয়মই হয়ে ওঠে প্রধান আকর্ষণ। বীরভূমের বাউটিয়া গ্রামের চ্যাটার্জি ও ওঝা পরিবারের পুজো এমনই এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। এখানে আলাদা দুই বাড়িতে পূজিত হলেও দেবী দুর্গা ও সিংহবাহিনীকে গ্রামের মানুষ আপন দুই বোন হিসেবেই দেখেন। আর সেই পুজোর ভোগের নিয়ম শুনলে অবাক হবেন অনেকেই।

পাশাপাশি দুই বাড়িতে দুই দেবীর আরাধনা

বীরভূমের নলহাটি থানার অন্তর্গত বাউটিয়া গ্রামে দুর্গাপুজোর অন্যতম আকর্ষণ চ্যাটার্জি ও ওঝা পরিবারের প্রাচীন পারিবারিক পুজো। চ্যাটার্জি পরিবারে আরাধনা করা হয় দেবী সিংহবাহিনীর। অন্যদিকে, পাশের বাড়িতে ওঝা পরিবার পূজা করেন দশভূজা মা দুর্গার।দুই পরিবারের পুজোর আয়োজন আলাদা হলেও গ্রামবাসীদের কাছে এই দুই দেবী অবিচ্ছেদ্য। দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও লোকাচার মেনে তাঁরা দেবী দুর্গা এবং সিংহবাহিনীকে দুই বোন বলেই মনে করেন। তাই পুজোর দিনগুলিতে দুই বাড়ির উৎসব যেন মিলেমিশে যায় এক বৃহত্তর গ্রামীণ আনন্দে।

বেলুড় মঠের পঞ্জিকা মেনেই পুজোর আয়োজন

এই বনেদি বাড়ির পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে আচার-অনুষ্ঠান পালন। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত বেলুড় মঠের পঞ্জিকা ও রীতিনীতি অনুসরণ করে দেবীর আরাধনা করা হয়।আধুনিক থিমের পুজোর ভিড়ে বাউটিয়ার এই প্রাচীন পারিবারিক পুজো ধরে রেখেছে সাবেকিয়ানার স্বাদ। বংশপরম্পরায় চলে আসা নিয়ম মেনে পুজোর প্রতিটি পর্ব সম্পন্ন করেন পরিবারের সদস্যরা। ফলে ধর্মীয় আচার, পারিবারিক আবেগ এবং গ্রামের মানুষের বিশ্বাস—সব মিলিয়ে এই পুজো আজও স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে।

সপ্তমীতে অন্নভোগ, পরের তিন দিন লুচি-পায়েস

এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ দেবীর ভোগ নিবেদনের বিশেষ রীতি। মহাসপ্তমীতে দেবীকে নিবেদন করা হয় অন্নভোগ। সেই ভোগে থাকে বিভিন্ন ধরনের শাকভাজা, সবজির তরকারি, সুগন্ধি চালের ভাত এবং নানা মিষ্টান্ন।কিন্তু মহাঅষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমীতে বদলে যায় ভোগের মেনু। এই তিন দিন অন্নভোগের পরিবর্তে দেবীর সামনে সাজিয়ে দেওয়া হয় ফুলকো লুচি, সুজি, পায়েস, বিভিন্ন রকমের মিষ্টি এবং টাটকা ফল। বহুদিন ধরে চলে আসা এই বিশেষ রীতিই বাউটিয়ার দুই পরিবারের পুজোকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

এখনও বজায় রয়েছে বলিদানের প্রাচীন রীতি

শুধু ভোগ নয়, পুজোর আচার-অনুষ্ঠানেও রয়েছে ঐতিহ্যের ছাপ। পরিবারের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, মহাসপ্তমী থেকে নবমীর মধ্যে আখ, চালকুমড়ো এবং পাঁঠা বলি দেওয়া হয়।ভক্তদের বিশ্বাস, এই আচার দেবীর শক্তি ও অশুভের বিনাশের প্রতীক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই প্রথা আজও পুজোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পালিত হয়।

বিজয়া দশমীতে বিদায়ের সুরে আবেগঘন পরিবেশ

পুজোর শেষ দিন বিজয়া দশমীতে বাউটিয়ার দুই বাড়িতেই তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। দেবীর সামনে সিঁদুর খেলা ও বরণের পর শুরু হয় বিসর্জনের প্রস্তুতি। দীর্ঘ কয়েক দিনের আরাধনা শেষে উমাকে বিদায় জানানোর সময় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি গ্রামবাসীদের মনেও দেখা দেয় বিষাদের ছায়া।ঢাকের শব্দ, সিঁদুরের রং আর দেবীর বিদায়বেলার আবেগ—সব মিলিয়ে এই পুজো শুধু একটি পারিবারিক ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং গ্রামের মানুষের মিলন ও ঐতিহ্যেরও প্রতীক।

প্রেশার কুকারের হাতল বারবার ঢিলে হয়ে গেলে রান্নার সময় যেমন অসুবিধা হয়, তেমনই কুকার তোলার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। নতুন কুকার কেনা বা বারবার মেরামতের আগে হাতলের স্ক্রু ও ছিদ্র পরীক্ষা করা জরুরি। ওষুধের খালি স্ট্রিপের রুপোলি ফয়েল দিয়ে স্ক্রুর ফাঁক ভরাট করার একটি ঘরোয়া কৌশল প্রচলিত রয়েছে। তবে প্রেসার কুকারের মতো উচ্চচাপের রান্নার সরঞ্জামে এই পদ্ধতি সব ক্ষেত্রে নিরাপদ নয়। প্রস্তুতকারকের নির্দেশ মেনে মেরামত করাই সবচেয়ে ভালো।

Leave a comment