রান্না করতে গিয়ে হঠাৎ দেখা গেল, প্রেশার কুকারের হাতল নড়বড় করছে! স্ক্রু শক্ত করে আঁটলেও কয়েক দিন পর ফের একই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই নতুন কুকার কেনার কথা ভাবেন। কিন্তু হাতল ঢিলে হওয়ার কারণ খুঁজে বের করাই প্রথম কাজ। ওষুধের খালি স্ট্রিপের রুপোলি ফয়েল ব্যবহার করে স্ক্রুর ফাঁক পূরণ করার একটি কৌশল নিয়ে আলোচনা রয়েছে। যদিও কুকারের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস না করে কীভাবে সমস্যার সমাধান করবেন, তা জেনে রাখা জরুরি।
কেন বারবার ঢিলে হয়ে যায় প্রেশার কুকারের হাতল?
নিয়মিত ব্যবহারের ফলে প্রেশার কুকারের হাতলের স্ক্রু আলগা হয়ে যেতে পারে। তাপের প্রভাব, বারবার কুকার তোলা-নামানো এবং স্ক্রুর ছিদ্র ক্ষয়ে যাওয়ার কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনও আবার হাতলের প্লাস্টিক বা বেকেলাইটের অংশে ফাটল ধরলেও হাতল নড়বড় করতে শুরু করে।তাই শুধু স্ক্রু শক্ত করে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। হাতল, স্ক্রু এবং কুকারের সঙ্গে যুক্ত অংশটি ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
ওষুধের খালি রাংতা দিয়ে কীভাবে কাজ করে এই কৌশল?
বাড়িতে ওষুধের খালি স্ট্রিপের রুপোলি ফয়েল অনেক সময় পড়ে থাকে। প্রচলিত একটি ঘরোয়া কৌশলে এই ফয়েলের ছোট টুকরো স্ক্রুর ছিদ্রের ফাঁক পূরণ করতে ব্যবহার করা হয়। এর উদ্দেশ্য হল স্ক্রুর নড়াচড়া কমানো এবং সেটিকে তুলনামূলকভাবে আঁটসাঁট রাখা।তবে এই পদ্ধতিতে হাতল নিরাপদে স্থায়ীভাবে মেরামত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে প্রেশার কুকারের ক্ষেত্রে ফয়েল দিয়ে ফাঁক ভরাট করে হাতল ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই প্রস্তুতকারকের অনুমোদন ছাড়া এই কৌশল প্রয়োগ না করাই ভালো।
নেইল পলিশ বা আঠা ব্যবহার করা কি ঠিক?
স্ক্রু যাতে সহজে আলগা না হয়, সে জন্য নেইল পলিশ বা সাধারণ আঠা ব্যবহারের পরামর্শও কোথাও কোথাও দেওয়া হয়। কিন্তু প্রেশার কুকারের হাতলের মতো গরমের সংস্পর্শে থাকা অংশে সাধারণ আঠা বা নেইল পলিশ ব্যবহার করা নিরাপদ সমাধান নয়। তাপের কারণে এগুলির কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে, আবার উপাদান অনুযায়ী ক্ষতিকর প্রভাবও পড়তে পারে।স্ক্রু ঢিলে হলে কুকারের প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা অনুযায়ী উপযুক্ত স্ক্রু বা অনুমোদিত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করাই ভালো।
হাতল ঢিলে হলে কী করবেন?
প্রেশার কুকারের হাতল নড়বড় করলে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজর দিন।
- ব্যবহার বন্ধ রাখুন: হাতল ঢিলে থাকা অবস্থায় কুকার গরম করবেন না বা সরানোর চেষ্টা করবেন না।
- কুকার ঠান্ডা হতে দিন: কুকারে চাপ থাকলে কখনও হাতল মেরামত করবেন না। চাপ সম্পূর্ণ বেরিয়ে যাওয়ার পরেই পরীক্ষা করুন।
- ফাটল বা ক্ষয় পরীক্ষা করুন: হাতল, স্ক্রু এবং স্ক্রু বসানোর জায়গায় ক্ষতি রয়েছে কি না দেখুন।
- সঠিক যন্ত্রাংশ ব্যবহার করুন: কুকারের মডেল অনুযায়ী প্রস্তুতকারকের অনুমোদিত স্ক্রু বা হাতল লাগান।
- প্রয়োজনে মেরামত করান: স্ক্রুর ছিদ্র বড় হয়ে গেলে, হাতলে ফাটল ধরলে বা স্ক্রু বারবার খুলে এলে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টার বা অভিজ্ঞ মেরামতকারীর সাহায্য নিন।
কেন এই সমস্যাকে অবহেলা করা উচিত নয়?
প্রেশার কুকারে উচ্চচাপে রান্না হয়। হাতল দুর্বল হলে কুকার তোলা বা সরানোর সময় সেটি খুলে গিয়ে গরম খাবার ছিটকে পড়তে পারে। ফলে হাত পুড়ে যাওয়া বা অন্য ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই সামান্য খরচ বাঁচানোর জন্য অস্থায়ী কোনও কৌশলের উপর নির্ভর না করে কুকারের সব অংশ নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রেশার কুকারের হাতল বারবার ঢিলে হয়ে গেলে রান্নার সময় যেমন অসুবিধা হয়, তেমনই কুকার তোলার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। নতুন কুকার কেনা বা বারবার মেরামতের আগে হাতলের স্ক্রু ও ছিদ্র পরীক্ষা করা জরুরি। ওষুধের খালি স্ট্রিপের রুপোলি ফয়েল দিয়ে স্ক্রুর ফাঁক ভরাট করার একটি ঘরোয়া কৌশল প্রচলিত রয়েছে। তবে প্রেসার কুকারের মতো উচ্চচাপের রান্নার সরঞ্জামে এই পদ্ধতি সব ক্ষেত্রে নিরাপদ নয়। প্রস্তুতকারকের নির্দেশ মেনে মেরামত করাই সবচেয়ে ভালো।













