ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজ্যসভা এবং কর্ণাটক বিধান পরিষদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের জন্য চারজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি কর্ণাটক ও মধ্য প্রদেশ থেকে রাজ্যসভার দুটি আসন এবং কর্ণাটক বিধান পরিষদের দুটি আসনের জন্য প্রার্থীদের অনুমোদন দিয়েছে।
ভারতে আসন্ন রাজ্যসভা ও বিধান পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি মধ্য প্রদেশ ও কর্ণাটক থেকে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি, কর্ণাটক বিধান পরিষদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের জন্যও দল দুটি প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের অনুমোদন দিয়েছে। দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সদর দপ্তর-প্রভারি অরুণ সিং আনুষ্ঠানিকভাবে এই নামগুলি ঘোষণা করেন।
মধ্য প্রদেশ থেকে মহেশ কেওয়াটকে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, কর্ণাটক থেকে অধ্যাপক ড. এম নাগরাজনকে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যসভার সদস্যরা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন এবং এই নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাজ্যসভা নির্বাচনের পাশাপাশি কর্ণাটক বিধান পরিষদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের জন্য লিঙ্গরাজ পাটিল ও রঘু কৌটিল্যকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। কর্ণাটক ভারতের কয়েকটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভাযুক্ত রাজ্যের একটি, যেখানে বিধান পরিষদ উচ্চকক্ষ হিসেবে কাজ করে।

মধ্য প্রদেশে বিজেপি প্রার্থী মহেশ কেওয়াটের বিরুদ্ধে কংগ্রেস প্রবীণ নেতা মীনাক্ষী নটরাজনকে রাজ্যসভা প্রার্থী করেছে। এ বার মধ্য প্রদেশে রাজ্যসভার তিনটি আসনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী, বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিজেপির দুই প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, তৃতীয় আসনটি নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।
বিজেপি ইতোমধ্যেই তরুণ চুঘ ও রজনীশ আগরওয়ালকে প্রার্থী করেছে, আর কংগ্রেস তৃতীয় আসনে নিজেদের দাবি শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
মধ্য প্রদেশ বিধানসভায় মোট সদস্যসংখ্যা ২৩০ হলেও কার্যকর ভোটের সংখ্যা ২২৮ ধরা হচ্ছে। বিজেপির ১৬৪ জন বিধায়ক রয়েছে, অন্যদিকে বিভিন্ন কারণে কংগ্রেসের কার্যকর বিধায়ক সংখ্যা কমেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃতীয় রাজ্যসভা আসনের ফলাফল বিধানসভার অঙ্কের পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্রস ভোটিংয়ের ওপরও নির্ভর করতে পারে। ভারতের রাজনীতিতে রাজ্যসভা নির্বাচনে অতীতেও দলীয় সীমার বাইরে গিয়ে ভোটদানের নজির রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, ১৮ জুন অরুণাচল প্রদেশ, গুজরাট, মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান, মণিপুর এবং কর্ণাটকসহ ১০টি রাজ্যের মোট ২৪টি রাজ্যসভা আসনের জন্য ভোটগ্রহণ হবে। একই দিনে কর্ণাটক বিধান পরিষদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। মধ্য প্রদেশে রাজ্যসভার একটি আসনে জয়ের জন্য একজন প্রার্থীর ৫৮টি ভোট প্রয়োজন হবে।
বিজেপির কাছে দুটি আসন সহজেই জয়ের মতো পর্যাপ্ত সংখ্যাবল রয়েছে, আর তৃতীয় আসনে কংগ্রেস নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করবে। তবে বিজেপির অতিরিক্ত প্রার্থী দেওয়ার ফলে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা এবং রাজনৈতিক কৌশল উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।










