দিল্লিতে INDIA জোটের বৈঠক আজ ২৩ দলের অংশগ্রহণে কৌশল নির্ধারণে জোর

বিরোধী জোট INDIA-র দিল্লি বৈঠকে ২৩টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বৈঠকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন, ২০২৯ লোকসভা নির্বাচন, জোটগত সমন্বয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের প্রেক্ষাপটে বিরোধী জোট INDIA (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সোমবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জাতীয় স্তরে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র বিরুদ্ধে গঠিত এই জোটের বৈঠকের লক্ষ্য বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং আসন্ন নির্বাচনের জন্য যৌথ কৌশল নির্ধারণ করা।

দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে ২৩টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তামিলনাড়ুর দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগম (DMK) এবং আম আদমি পার্টি (AAP)-এর বৈঠকে যোগদানের সম্ভাবনা কম বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, তামিল রাজনীতির উদীয়মান শক্তি হিসেবে বিবেচিত তামিলগা ভেত্রি কাঝগম (TVK)-এর জোটে যোগদানের জল্পনা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৈঠকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের তেজস্বী যাদব এবং শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরেসহ একাধিক বিরোধী নেতার উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেছেন, ২৩টি দল বৈঠকে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং রাজনৈতিক বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও জাতীয় বিষয়গুলোতে জোট ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তাঁর মতে, কিছু দল নিজস্ব কারণবশত এই নির্দিষ্ট বৈঠকে অংশ নিতে পারছে না।

বৈঠকের আগে জোটের অভ্যন্তরে কিছু রাজনৈতিক মতপার্থক্যও সামনে এসেছে। আম আদমি পার্টি ইতোমধ্যেই প্রকাশ্যে INDIA জোট থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কথা জানিয়েছে। একইভাবে DMK-ও এই বৈঠকে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন রাজ্যে পরিবর্তিত জোট-সমীকরণ এবং আঞ্চলিক স্বার্থের প্রভাব জাতীয় বিরোধী রাজনীতিতেও প্রতিফলিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, TVK-এর সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।

সূত্রগুলোর মতে, বৈঠকে আসন্ন বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের জন্য যৌথ কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। বিরোধী দলগুলো কেন্দ্র সরকারের নীতির বিরুদ্ধে সমন্বিত অবস্থান গ্রহণ এবং জাতীয় স্তরে যৌথ প্রচারাভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের পর বিরোধী দলগুলোর জন্য সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সমন্বয় আগের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে তাদের নেতাদের ওপর কথিত রাজনৈতিক হামলার বিষয়টি উত্থাপন করতে পারে এবং অন্যান্য শরিক দলের সমর্থন চাইতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন বলেছেন, বৈঠকটি একটি অভিন্ন উদ্দেশ্য এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক মনোভাব নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এদিকে, বামপন্থী দলগুলো এবং কংগ্রেসের মধ্যেও কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য সামনে এসেছে। কেরল বিধানসভা নির্বাচনের পর উভয় পক্ষের মধ্যে হওয়া রাজনৈতিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) এই বিষয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারে।

 

Leave a comment