কর্ণাটকে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে বিজেপির পুলিশে অভিযোগ

কর্ণাটকে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরু ও ম্যাঙ্গালুরুতে পুলিশে অভিযোগ করেছে বিজেপি। ১৫ আগস্টের কংগ্রেস সদর দফতরের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ থামানোর ইঙ্গিত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে দল। পুলিশ এখনও এফআইআর দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

কর্ণাটকে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বিজেপি কংগ্রেসের প্রবীণ নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরু ও ম্যাঙ্গালুরুতে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে। বিজেপির অভিযোগ, ১৫ আগস্ট কংগ্রেস সদর দফতরে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময় সোনিয়া গান্ধী তা থামানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বিজেপি ঘটনাটিকে জাতীয় গানের অবমাননা বলে অভিযোগ করেছে এবং ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তবে পুলিশ এখনও এই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

বিজেপির দাবি অনুযায়ী, বেঙ্গালুরুতে দলের যুব মোর্চা মল্লেশ্বরম থানায় সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। ম্যাঙ্গালুরুতে বিজেপি নেতারা উরভা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ‘বন্দে মাতরম’-এর কথিত অবমাননা এবং এর পরিবেশনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-কে সম্মান জানানো উচিত। দলের অভিযোগ, কংগ্রেস সদর দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এটি থামানোর কথিত ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশ এখনও অভিযোগগুলির ভিত্তিতে তদন্তের অগ্রগতি বা এফআইআর দায়েরের বিষয়ে সরকারি তথ্য প্রকাশ করেনি।

কর্ণাটক বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি ও বিধায়ক ধীরজ মুনিরাজু সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘বন্দে মাতরম’-এর সঙ্গে যেকোনও ধরনের কথিত অনুচিত আচরণ দেশের আবেগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়।

বিজেপি জানিয়েছে, কংগ্রেস নেতৃত্ব এই বিষয়ে ব্যাখ্যা না দেওয়া এবং ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদ চলবে।

অন্যদিকে, সোনিয়া গান্ধীর অভিপ্রায় এবং বিজেপির অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে অভিযোগগুলি আপাতত অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে।

‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ককে কেন্দ্র করে বিজেপি কর্মীরা একাধিক রাজ্যে প্রতিবাদ করেছেন। বিভিন্ন শহরে মিছিল, ক্যান্ডেল মার্চ এবং মশাল মিছিল করে দলীয় কর্মীরা প্রতিবাদ জানান।

পাটনায় বিজেপি যুব মোর্চার কর্মীরা ক্যান্ডেল মার্চ করেন। রায়পুরে দলীয় কর্মীরা পোস্টার নিয়ে মিছিল করেন। কলকাতায় বিজেপি কর্মীরা মশাল মিছিল করেন এবং তিরুবনন্তপুরমেও কর্মীরা মশাল নিয়ে রাস্তায় নামেন।

এই প্রতিবাদগুলির মাধ্যমে বিজেপি কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘বন্দে মাতরম’-এর কথিত অবমাননার অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বিজেপি কংগ্রেস সদর দফতরের অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ক্লিপের উল্লেখ করে সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। দলের দাবি, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ‘বন্দে মাতরম’ চলাকালীন সোনিয়া গান্ধী তা থামানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

বিজেপি নেতারা ও কর্মীরা ওই ভিডিও ক্লিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং প্রকাশ্য বক্তব্যে অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে ভিডিও ক্লিপের ব্যাখ্যা তার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট, রেকর্ডিংয়ের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্যের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা যেতে পারে।

এই কারণে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য সামনে আসার পরই অনুষ্ঠানে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল এবং কথিত ইঙ্গিতের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা স্পষ্ট হতে পারে।

বিজেপি এই ঘটনাকে সম্প্রতি ‘বন্দে মাতরম’ সম্পর্কিত আইনে হওয়া পরিবর্তনের সঙ্গেও যুক্ত করেছে। দলের দাবি, সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া আইনের পর ‘বন্দে মাতরম’ আইনি সুরক্ষা পেয়েছে এবং এর কথিত অবমাননার ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২৯ জুলাই পাস হওয়া নতুন আইনে ‘বন্দে মাতরম’-কে ‘জন গণ মন’-এর সমান আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিধান রয়েছে। এর আওতায় ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’-এর অবমাননা করা বা এর পরিবেশনে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

তবে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া তখনই সম্ভব হবে, যখন সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান ওই ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং সক্ষম তদন্তকারী সংস্থা অভিযোগ প্রতিষ্ঠার জন্য পর্যাপ্ত ভিত্তি পাবে।

বেঙ্গালুরু ও ম্যাঙ্গালুরুতে দায়ের করা অভিযোগের ক্ষেত্রে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ তদন্ত শুরু করলে অনুষ্ঠানের ভিডিও রেকর্ডিং, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য উপলব্ধ তথ্য পরীক্ষা করা হতে পারে।

এদিকে বিজেপি তাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দলটি সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর কাছে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা এবং কথিত অবমাননার জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে।

অভিযোগের সত্যতা বা খণ্ডন সরকারি তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির প্রতিক্রিয়ার পরই স্পষ্ট হতে পারে।

 

Leave a comment