হিমাচল বিধানসভায় বেকারত্ব নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ স্থগিতাদেশ প্রস্তাবে আলোচনার দাবি

হিমাচল প্রদেশের বর্ষাকালীন বিধানসভা অধিবেশনের আগে বেকারত্ব ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে বিজেপি বিধায়করা বিক্ষোভ করেন। বিরোধীরা স্থগিতাদেশ প্রস্তাব এনে নিয়োগ প্রক্রিয়া, শূন্যপদ ও কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারের কাছে জবাব দাবি করেছে।
হিমাচল বিধানসভায় বেকারত্ব নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ স্থগিতাদেশ প্রস্তাবে আলোচনার দাবি
Photo Credit / Attribution: Google

হিমাচল প্রদেশ বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগে বেকারত্বের ইস্যুতে ভারতীয় জনতা পার্টির বিধায়করা বিধানসভা চত্বরের বাইরে বিক্ষোভ করেন। বিজেপি বিধায়করা বেকারত্ব ও যুবকদের সঙ্গে যুক্ত বিষয় নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং এই ইস্যুতে অবিলম্বে আলোচনা চেয়ে স্থগিতাদেশ প্রস্তাবও আনা হয়।

বিজেপি বিধায়কদের বক্তব্য, রাজ্যের হাজার হাজার যুবক কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় রয়েছেন। সরকারি দফতরে শূন্যপদ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে যুবকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার ক্ষমতায় আসার আগে যুবকদের কর্মসংস্থান দেওয়ার বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত গতিতে কাজ হয়নি।

বিক্ষোভের সময় বিজেপি বিধায়করা বিধানসভা চত্বরে আক্রোশ র‍্যালি বের করেন। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিধায়করা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিরোধীরা স্পষ্ট করে যে বর্ষাকালীন অধিবেশনে বেকারত্বের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তোলা হবে এবং যুবকদের জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিষয়ে সরকারের কাছে জবাব চাওয়া হবে।

বিরোধীদের আনা স্থগিতাদেশ প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হল বেকারত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাধারণ কার্যক্রম স্থগিত করে অবিলম্বে আলোচনা করা। বিজেপি বিধায়কদের বক্তব্য, যুবকদের সঙ্গে যুক্ত এই বিষয়টি বিধানসভায় অগ্রাধিকার দিয়ে তোলা উচিত।

বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেন, রাজ্যে বিপুল সংখ্যক যুবক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং সরকারি নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেক যুবককে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিরোধীদের বক্তব্য, সরকারের বিভাগভিত্তিক শূন্যপদের তথ্য প্রকাশ করা এবং নিয়োগের জন্য স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা উচিত।

বিক্ষোভের সময় বিজেপি বিধায়করা সরকারের কাছে জানতে চান, এখনও পর্যন্ত কতজন যুবক কর্মসংস্থান পেয়েছেন এবং কতগুলি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। বিরোধীদের বক্তব্য, শুধুমাত্র ঘোষণার মাধ্যমে বেকারত্বের সমস্যার সমাধান হবে না। সরকারের নিয়মিত নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করে পরীক্ষা ও নিয়োগের প্রক্রিয়া সময়মতো সম্পূর্ণ করা উচিত।

বিজেপির বিক্ষোভে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি যুবকদের ভবিষ্যতের বিষয়টিও উঠে আসে। দলীয় নেতারা বলেন, পাহাড়ি রাজ্যে সরকারি চাকরির পাশাপাশি পর্যটন, শিল্প, স্বনিযুক্তি এবং বেসরকারি ক্ষেত্রেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। তাদের বক্তব্য, যুবকদের কর্মসংস্থান দেওয়ার জন্য সরকারের দীর্ঘমেয়াদি নীতির পাশাপাশি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপও নেওয়া উচিত।

বিরোধীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার বিষয়টিও উত্থাপন করেন। বিজেপি বিধায়কদের বক্তব্য, পরীক্ষা থেকে ফলাফল এবং নিয়োগ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার স্পষ্ট সময়সীমা থাকা উচিত, যাতে প্রার্থীদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে না হয়। অনেক যুবক বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়া এবং নিয়োগে ধারাবাহিক বিলম্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন।

বিজেপি নেতারা বলেন, বেকারত্ব শুধুমাত্র রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বিষয় নয়। এর সরাসরি প্রভাব যুবক ও তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার ওপর পড়ে। চাকরি না পাওয়ার কারণে অনেক যুবক অন্য রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হন। বিরোধীদের বক্তব্য, সরকারকে এই সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত।

বিধানসভার বাইরে বিক্ষোভের সময় বিজেপি নেতারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়েও সরকারকে নিশানা করেন। বিরোধীদের বক্তব্য, কংগ্রেস নির্বাচনের সময় কর্মসংস্থান নিয়ে একাধিক ঘোষণা করেছিল। এখন সরকারের বিধানসভায় জানানো উচিত, সেই ঘোষণাগুলির মধ্যে কতগুলি পূরণ হয়েছে এবং কতজন যুবক তার সুবিধা পেয়েছেন।

অন্যদিকে, সরকার পক্ষের তরফে বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সরকারের করা কাজের বিবরণ তুলে ধরা হতে পারে। সরকার বিভিন্ন দফতরে কতগুলি নিয়োগ হয়েছে এবং কোন কোন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে, তা জানাতে পারে। এর ফলে বিধানসভায় সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে পরিসংখ্যান নিয়ে বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই বিজেপির এই বিক্ষোভ থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে বিরোধীরা সরকারকে ঘেরাও করতে বেকারত্বকে একটি বড় ইস্যু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থগিতাদেশ প্রস্তাবের মাধ্যমে আলোচনার দাবি এই কৌশলের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজেপি বিধায়করা বলেন, সরকার যদি যুবকদের সমস্যার বিষয়ে আন্তরিক হয়, তাহলে বিধানসভায় আলোচনা এড়ানো উচিত নয়। বিরোধীরা চায়, নিয়োগ প্রক্রিয়া, শূন্যপদ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে সরকার বিস্তারিত জবাব দিক।

বিধানসভা চত্বরে বের করা আক্রোশ র‍্যালির সময় বিজেপি নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিক্ষোভের মাধ্যমে দলটি জানিয়েছে, যুবকদের সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলি তারা বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে উভয় জায়গাতেই তুলবে।

বেকারত্বের বিষয়টি এর আগেও হিমাচলের রাজনীতিতে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্কের একটি বড় বিষয় ছিল। বিরোধীরা কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে সরকারের কাছে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন করে এসেছে। অন্যদিকে সরকার তার নিয়োগ ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত কাজের বিবরণ তুলে ধরে এসেছে।

এবারও বিধানসভা অধিবেশনে এই বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকতে পারে। স্থগিতাদেশ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলে বিজেপি সরকারের কাছে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে সরকার তার কার্যকালের সময় হওয়া নিয়োগ এবং চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিবরণ তুলে ধরার সুযোগ পাবে।

বেকারত্ব ছাড়াও বিরোধীরা বিধানসভায় রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি, কর্মীদের সঙ্গে যুক্ত বিষয়, উন্নয়নমূলক কাজ এবং অন্যান্য জনস্বার্থের বিষয় তুলতে পারে। তবে অধিবেশন শুরুর আগে হওয়া বিক্ষোভ থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে যুবক ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিজেপির অগ্রাধিকারে থাকবে।

বিধানসভা চত্বরে বিজেপির বিক্ষোভ শেষ হওয়ার পর এখন সবার নজর বিধানসভার কার্যক্রমের দিকে। স্থগিতাদেশ প্রস্তাব নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয় এবং বেকারত্বের বিষয়ে সরকারের কাছে ওঠা প্রশ্নের কীভাবে জবাব দেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

 

Leave a comment