Ajit Agarkar: কেন প্রধান নির্বাচকের পদ ছাড়লেন অজিত আগরকার? রোহিত-কাণ্ড থেকে BCCI-এর সঙ্গে মতপার্থক্য, উঠে আসছে ২ কারণ

দীপিকা পাড়ুকোন দ্বিতীয়বার মা হয়েছেন। বড় মেয়ে দুয়ারের পর এসেছে আরও এক কন্যাসন্তান। জেনে নিন বলিউডের আর কোন জনপ্রিয় অভিনেত্রীরা দুই মেয়ের মা।

অজিত আগরকারের প্রধান নির্বাচক হিসেবে পথচলা কখনওই খুব মসৃণ ছিল না। ২০২৩ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জাতীয় দল নির্বাচন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে। কখনও BCCI-এর সঙ্গে মতপার্থক্য, কখনও আবার রোহিত শর্মা ও অন্যান্য সিনিয়র ক্রিকেটারকে ঘিরে সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে তাঁর মেয়াদ ছিল ঘটনাবহুল। এবার সেই অধ্যায়ের শেষ। কেন সরে গেলেন আগরকার? উঠে আসছে মূলত দু’টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

BCCI-এর সঙ্গে শুরু থেকেই মতপার্থক্য?

অজিত আগরকার দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নিয়ে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত সামনে আসে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে আয়ারল্যান্ড সফরের জন্য জসপ্রীত বুমরাহকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর আপত্তি ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।দীর্ঘ সময় চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর বুমরাহ তখন বিশ্বকাপের আগে নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন। আগরকারের মত ছিল, তাঁকে নেতৃত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব না দিয়ে এশিয়ান গেমসের জন্য নির্বাচিত অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড়কে আয়ারল্যান্ড সফরে নেতৃত্ব দেওয়া যেতে পারে। এতে বুমরাহর কাজের চাপও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো বলে মনে করা হয়েছিল।কিন্তু শেষ পর্যন্ত BCCI বুমরাহকেই নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বোর্ডের যুক্তি ছিল, বুমরাহ নিজেই অধিনায়কত্ব করতে আগ্রহী ছিলেন।এই ঘটনাকে পরবর্তী সময়ে নির্বাচক কমিটি ও বোর্ডের মধ্যে মতপার্থক্যের অন্যতম প্রাথমিক উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।

রোহিত শর্মাকে ঘিরে সিদ্ধান্তও বড় কারণ?

আগরকারের বিদায়ের আলোচনায় দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে রোহিত শর্মাকে ঘিরে ঘটনাপ্রবাহ। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জুলাইয়ে লর্ডসে রোহিতকে তাঁর সম্ভাব্য শেষ ODI নিয়ে জানানো হয়েছিল। পরে পরিস্থিতিতে BCCI-এর হস্তক্ষেপ ঘটে।এই ঘটনার পর আগরকার নিজেই আর দায়িত্ব চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে BCCI-কে সরাসরি তাঁকে পদ ছাড়ার কথা বলার পরিস্থিতিতে যেতে হয়নি।রোহিতকে ঘিরে এই ঘটনাই যে একমাত্র কারণ, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে আগরকারের বিদায়ের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।

VVS লক্ষ্মণের COE নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন আগরকার?

জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির পরিবর্তিত কাঠামোতে Centre of Excellence বা COE-এর কার্যপ্রণালী নিয়েও আগরকারের সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।VVS লক্ষ্মণের নেতৃত্বাধীন COE-এর কাজ এবং ক্রিকেটারদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচনী বৈঠকে আগরকার প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে বারবার ক্রিকেটারদের চোট পাওয়ার বিষয়টি ভারতীয় দলের পরিকল্পনায় সমস্যা তৈরি করছিল।আগরকার ও লক্ষ্মণ দু’জনেই একসময় ভারতীয় দলের সতীর্থ ছিলেন। কিন্তু ক্রিকেটারদের পুনর্বাসন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে তাঁদের অবস্থান সবসময় এক ছিল না বলেই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে স্বাধীনতাও পেয়েছিলেন

তবে পুরো বিষয়টিকে শুধু BCCI-এর সঙ্গে সংঘাত হিসেবে দেখলেও ছবিটা সম্পূর্ণ হবে না। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আগরকারকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর সংক্রান্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং দল গঠনের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকেও পরবর্তী সিরিজের ভারতীয় দলে রাখা হয়নি—এমন সিদ্ধান্তও আগরকারের নির্বাচনী মেয়াদে সামনে এসেছে।অর্থাৎ, তাঁর মেয়াদে BCCI-এর সঙ্গে মতপার্থক্যের পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাও ছিল নির্বাচক কমিটির।

শেষ পর্যন্ত কীভাবে শেষ হল আগরকারের অধ্যায়?

উপলব্ধ প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, BCCI আগরকারকে দীর্ঘমেয়াদে আর প্রধান নির্বাচক হিসেবে রাখার বিষয়ে আগ্রহী ছিল না। একই সময়ে আগরকারও পরিস্থিতি বুঝে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ হারিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।ফলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার মতো সরাসরি সংঘাত তৈরি না করেই নতুন প্রধান নির্বাচক খোঁজার পথ তৈরি হয়। মুম্বইয়ের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা বৈঠকে তাঁর অনুপস্থিতিও এই পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় এনেছে।

ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক হিসেবে অজিত আগরকারের অধ্যায় শেষ হয়েছে। তাঁর মেয়াদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। রোহিত শর্মাকে ঘিরে সিদ্ধান্ত এবং BCCI-এর সঙ্গে নির্বাচনী বিষয়ে মতপার্থক্য—এই দুই বিষয়কে তাঁর বিদায়ের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

Leave a comment