বুধবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তীব্র বিক্রির চাপ দেখা যায়, যার ফলে পুরো খাতের শেয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্নমুখী হয়। এই পতনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে টাটা গ্রুপের প্রধান সংস্থা এবং দেশের বৃহত্তম আইটি কোম্পানি Tata Consultancy Services (TCS)-এর শেয়ারে, যা 7 শতাংশের বেশি কমে যায়। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বৃদ্ধি পায় এবং আইটি সূচকও নিম্নমুখী হয়।
বুধবার BSE IT সূচক 4 শতাংশের বেশি পতন রেকর্ড করে। দিনের লেনদেনে সূচকটি 1,318.77 পয়েন্ট বা 4.38 শতাংশ কমে 28,788.1 স্তরে নেমে আসে। সকালের লেনদেনে সূচকটি প্রায় 1,300 পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে 28,800-এর কাছাকাছি অবস্থান করে। সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির পর বাজারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে এই পতনকে দেখা হচ্ছে। গত কয়েকটি সেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশায় আইটি শেয়ারগুলিতে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও বুধবার সেই প্রবণতা উল্টে যায়।
Tata Consultancy Services-এর শেয়ার প্রায় 7.27 শতাংশ কমে প্রায় ₹2,270 স্তরে লেনদেন হতে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির পর মুনাফা তুলে নেওয়া, বৈশ্বিক আইটি খাতের অস্থিরতা এবং মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামার চাপ এই পতনের প্রধান কারণ।

শুধু TCS নয়, অন্যান্য প্রধান আইটি কোম্পানির শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়। L&T Technology Services, Persistent Systems, Tech Mahindra, HCL Technologies এবং Infosys-এর শেয়ার 3 শতাংশ থেকে 7 শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির পর আইটি খাত “ওভারবট জোন”-এ অবস্থান করছিল, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে AI-সংশ্লিষ্ট শেয়ারের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে ভারতীয় আইটি খাতেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছিল। AI প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক চাহিদার কারণে আইটি শেয়ারগুলিতে উল্লেখযোগ্য র্যালি দেখা গিয়েছিল। তবে বুধবার সেই প্রবণতা বদলে যায় এবং বিনিয়োগকারীরা ঊর্ধ্বগতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যাপক বিক্রি করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় রুপির গতিবিধিও আইটি খাতের দুর্বলতায় ভূমিকা রাখছে। ডলারের তুলনায় রুপির দুর্বলতা সাধারণত আইটি কোম্পানিগুলির জন্য সহায়ক হলেও অতিরিক্ত অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।










