নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন: মিলন প্রধানের পাঁচ মামলায় আপাতত পদক্ষেপ নয়, হাই কোর্টে পরবর্তী শুনানি ১২ অক্টোবর

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের পাঁচটি পুরনো মামলায় আপাতত কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার কথা কলকাতা হাই কোর্টকে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মামলার পরবর্তী শুনানি ১২ অক্টোবর।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন: মিলন প্রধানের পাঁচ মামলায় আপাতত পদক্ষেপ নয়, হাই কোর্টে পরবর্তী শুনানি ১২ অক্টোবর
Photo Credit / Attribution: Google

পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের সঙ্গে সম্পর্কিত মামলায় কলকাতা হাই কোর্টে শুনানি হয়েছে। আদালতে রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, যে পাঁচটি পুরনো মামলায় মিলন প্রধান পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা চেয়েছিলেন, সেগুলিতে আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এরপর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের আদালত জানিয়েছে, ওই মামলাগুলিতে আলাদা করে কোনও নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মামলার পরবর্তী শুনানি ১২ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে।

মিলন প্রধান যে পুরনো মামলাগুলিতে গ্রেফতার বা পুলিশি পদক্ষেপের আশঙ্কা করেছিলেন, সেগুলি নিয়ে তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম ভূমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত একটি পুরনো মামলায় মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তাঁকে অন্য মামলাতেও গ্রেফতার দেখানো হয়। নির্বাচনের ঠিক আগে প্রায় ১৯ বছর পুরনো মামলায় ওয়ারেন্ট কার্যকর করা নিয়ে প্রতিরক্ষা পক্ষ প্রশ্ন তোলে।

রাজ্যের হয়ে অতিরিক্ত মহাধিবক্তা রাজদীপ মজুমদার আদালতকে জানান, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রয়েছে। তবে হাই কোর্টে সুরক্ষা চাওয়া ছয়টি মামলার মধ্যে পাঁচটি মামলা আগের সরকারের আমলেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ষষ্ঠ মামলাতেও মিলন প্রধানকে ওয়ান্টেড আসামি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ওই ছয়টি মামলায় আলাদা করে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই বলে আদালত জানায়।

শুনানির সময় নির্বাচনে মিলন প্রধানের অংশগ্রহণের বিষয়টিও উঠে আসে। উপলব্ধ রিপোর্ট অনুযায়ী, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মৌখিকভাবে রাজ্য সরকারের আইনজীবীকে জানান, মিলন প্রধান জামিন পেলে তাঁকে যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে অংশ নিতে দেওয়া হয়। তবে এই মন্তব্য তাঁর বর্তমান বিচারবিভাগীয় হেফাজত শেষ করার কোনও নির্দেশ নয়। নির্বাচনী প্রচারে ব্যক্তিগতভাবে অংশ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে তাঁকে জামিন পেতে হবে।

মিলন প্রধান বর্তমানে আরও কয়েকটি মামলায় বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম-সংক্রান্ত ২০০৭ সালের পুরনো মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর না হওয়া জামিন-অযোগ্য ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। হলদিয়া মহকুমা আদালত তাঁকে কয়েকটি মামলায় অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। এছাড়া কাঁথি আদালতের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি পুরনো Arms Act মামলাতেও তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনের প্রক্রিয়া চলাকালীন এই মামলা সামনে এসেছে। নির্বাচনী সূচি অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ হবে এবং ৪ অক্টোবর ভোটপ্রচারের শেষ দিন। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর। ফলে মিলন প্রধানের বিচারবিভাগীয় হেফাজত এবং জামিনের বিষয়টি তাঁর নির্বাচনী প্রচারে ব্যক্তিগত অংশগ্রহণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছে।

মিলন প্রধানের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, নির্বাচনের ঠিক আগে পুরনো মামলাগুলিতে পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে তাঁর নির্বাচনী কার্যক্রম প্রভাবিত হচ্ছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ওয়ারেন্ট কার্যকর করার পদক্ষেপ শুধু মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের সময় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দায়িত্বের অংশ হিসেবে বকেয়া ওয়ারেন্ট থাকা অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুনানিতে পদক্ষেপের সময় এবং আইনি অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষ পৃথক বক্তব্য তুলে ধরে।

রাজ্য সরকার আরও স্পষ্ট করে জানায়, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে যে পাঁচটি মামলায় আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল, আদালতে চাওয়া সুরক্ষা সেই মামলাগুলির জন্য ছিল না। রাজ্যের বক্তব্য ছিল, হাই কোর্টে যেসব মামলায় সুরক্ষা চাওয়া হয়েছে, সেগুলিতে মিলন প্রধানের বর্তমান আইনি অবস্থান আলাদা। রাজ্যের এই ব্যাখ্যার পর আদালত ওই মামলাগুলিতে আলাদা কোনও সুরক্ষা নির্দেশ দেয়নি।

হাই কোর্টে যে মামলাগুলিতে সুরক্ষা চাওয়া হয়েছিল, সেগুলিতে পদক্ষেপ না করার কথা রাজ্য সরকার জানিয়েছে। অন্যদিকে, কয়েকটি পৃথক মামলায় মিলন প্রধান ইতিমধ্যেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। ফলে হাই কোর্টের এই অবস্থানকে তাঁর তাৎক্ষণিক মুক্তির নির্দেশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। তাঁর হেফাজত এবং জামিন সংক্রান্ত বিষয় সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতের মামলার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। রিপোর্ট অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করেছে। এরপর তাঁর গ্রেফতার এবং পুরনো মামলায় বকেয়া ওয়ারেন্ট নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে গ্রেফতার এবং বিচারবিভাগীয় হেফাজত সংক্রান্ত বিষয় আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার আইনি প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত। ফলে রাজনৈতিক দাবি এবং বিচারিক আদেশকে পৃথকভাবে দেখা প্রয়োজন।

মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্য সরকার হাই কোর্টে জানিয়েছে, ছয়টি মামলায় বর্তমানে তাঁকে ওয়ান্টেড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। এর মধ্যে পাঁচটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং একটি মামলায় তাঁকে আসামি হিসেবে রাখা হয়নি। অন্যদিকে, বাকি মামলাগুলিতে তাঁর গ্রেফতার হয়েছে এবং তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

পুরনো মামলাগুলির মধ্যে কয়েকটি ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম ভূমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের হয়েছিল। এই মামলাগুলির সঙ্গে যুক্ত দীর্ঘদিনের বকেয়া ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই সম্প্রতি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওয়ারেন্টগুলি দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ছিল এবং নির্বাচনের সময় সেগুলি কার্যকর করার প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা পক্ষ পদক্ষেপ নেওয়ার সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই দুই পক্ষের বক্তব্যের বিষয়ে পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে।

হাই কোর্ট পাঁচটি মামলায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আপাতত কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার অবস্থান নথিভুক্ত করেছে এবং পরবর্তী শুনানি ১২ অক্টোবর নির্ধারণ করেছে। নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে ৬ অক্টোবর। ফলে ভোটের আগে হাই কোর্টে এই আবেদনের পরবর্তী শুনানি হবে না। মিলন প্রধান নির্বাচনী প্রচারে ব্যক্তিগতভাবে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা তাঁর অন্যান্য মামলায় জামিন এবং সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদেশের ওপর নির্ভর করবে।

মিলন প্রধানের পরবর্তী আইনি অবস্থান তাঁর জামিনের আবেদন এবং নিম্ন আদালতগুলিতে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। হাই কোর্টের বর্তমান শুনানিতে পাঁচটি মামলায় সম্ভাব্য পদক্ষেপ থেকে তিনি সুরক্ষা পেয়েছেন, তবে এই অবস্থান অন্য মামলাগুলিতে চলমান বিচারবিভাগীয় হেফাজতের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের সময় মামলাটি আইনি ও নির্বাচনী—দুই প্রেক্ষাপটেই আলোচনায় রয়েছে।

Leave a comment