২১০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা! আগামী ৪৮ ঘণ্টা প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা, টাইফুন কোগুমাকে ঘিরে উদ্বেগ কাম্বোডিয়ায়

টাইফুন কোগুমাকে ঘিরে কাম্বোডিয়ায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা। উপকূলবর্তী এলাকায় উত্তাল সমুদ্র এবং পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন।

প্রকৃতির রুদ্ররূপ নিয়ে ফের উদ্বেগ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। টাইফুন কোগুমাকে কেন্দ্র করে কাম্বোডিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতার কথা জানানো হয়েছে। উপকূল থেকে পার্বত্য এলাকা—একাধিক অঞ্চলে সম্ভাব্য দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে নিচু এলাকায় জল জমা, সমুদ্রে উত্তাল ঢেউ এবং পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইফুন কোগুমার প্রভাবে কাম্বোডিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী দুই দিন ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রপাতের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর জেরে স্বাভাবিক জনজীবন, যান চলাচল এবং উপকূলবর্তী এলাকার মানুষের দৈনন্দিন কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে।তবে ঘণ্টায় ২১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইবে কি না, তা নিশ্চিত করতে সরকারি আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ তথ্য দেখা প্রয়োজন। ঝড়ের নাম বা সম্ভাব্য প্রভাবের ভিত্তিতে একে সরাসরি সুপার সাইক্লোনের সমতুল্য বলাও ঠিক নয়।

কোন কোন অঞ্চলে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন?

প্রতিবেদনে কাম্বোডিয়ার কোহ কং, প্রেয়াহ সিহানুক, কাম্পট ও কেপের মতো উপকূলবর্তী অঞ্চল এবং বোকর পর্বত এলাকাকে সম্ভাব্য বেশি ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির পাশাপাশি সমুদ্রে ঢেউয়ের উচ্চতা বাড়ার আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।এমন পরিস্থিতিতে উপকূলের বাসিন্দা, মৎস্যজীবী এবং সমুদ্রযাত্রার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা জরুরি। সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলে তা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধসের আশঙ্কা

কামপং স্পিউ, পাইলিন, ওদ্দার মিনচে এবং প্রেহ ভিয়াহরের মতো পার্বত্য অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধস ও রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি হলে মাটি আলগা হয়ে যেতে পারে। ফলে ঢালু জমি, পাহাড়ের পাদদেশ এবং ভূমিধসপ্রবণ রাস্তার আশপাশে থাকা বিপজ্জনক হতে পারে। প্রশাসনের নির্দেশ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করাই ভালো।

রাজধানী নম পেনেও বিঘ্নিত হতে পারে জনজীবন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী নম পেন, সিয়েম রিপ এবং বাট্টামবাংয়ের মতো সমতল এলাকাতেও বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে। নিচু রাস্তায় জল জমা, যান চলাচলে সমস্যা এবং ঝোড়ো হাওয়ায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।এমন আবহাওয়ায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়ানো, আবহাওয়ার আপডেট নজরে রাখা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ের পূর্বাভাস থাকলে নিরাপদ স্থানে থাকা, খোলা জায়গা এবং বড় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া, জল জমা রাস্তা এড়িয়ে চলা এবং জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাতের কাছে রাখা উচিত। পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা থাকলে প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কাম্বোডিয়ায় প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় সতর্কতা জারির খবর সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে টাইফুন কোগুমার প্রভাবের কথা উল্লেখ করে ঘণ্টায় ২১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার দাবি করা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকা, নিচু জমি এবং পার্বত্য অঞ্চলে জল জমা, ঢেউয়ের প্রভাব ও ভূমিধসের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে ঝড়ের প্রকৃত গতিপথ, বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ এবং সতর্কতার সময়সীমা সম্পর্কে সরকারি আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন যাচাই করা জরুরি।

Leave a comment