হিমাচলে তৈরি ৮২টি সহ দেশে ২৪০টি ওষুধের নমুনা মানোত্তীর্ণ নয়

CDSCO-এর পরীক্ষায় দেশে ২৪০টি ওষুধের নমুনা Not of Standard Quality হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যার মধ্যে ৮২টি হিমাচল প্রদেশে তৈরি। তালিকায় হৃদরোগ, রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রয়েছে।
হিমাচলে তৈরি ৮২টি সহ দেশে ২৪০টি ওষুধের নমুনা মানোত্তীর্ণ নয়
Photo Credit / Attribution: Google

হিমাচল প্রদেশে তৈরি ৮২টি ওষুধসহ দেশে মোট ২৪০টি ওষুধের নমুনা নির্ধারিত মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। কেন্দ্রীয় ঔষধ মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (CDSCO)-এর পরীক্ষায় এসব নমুনাকে Not of Standard Quality (NSQ) বা নির্ধারিত মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে হৃদরোগ, রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রয়েছে।

দেশে প্রস্তুত ও বাজারে উপলব্ধ ওষুধের নমুনা নির্ধারিত গুণমানের মানদণ্ড অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। কোনো নমুনায় সক্রিয় উপাদানের পরিমাণ, গুণমান, বিশুদ্ধতা বা অন্যান্য নির্ধারিত মানদণ্ডে ঘাটতি পাওয়া গেলে সেটিকে NSQ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর অর্থ এই নয় যে ওই ওষুধটি জাল; বরং পরীক্ষায় সেটি নির্ধারিত গুণমানের মান পূরণ করতে পারেনি।

রিপোর্ট অনুযায়ী, মানদণ্ডে উত্তীর্ণ না হওয়া ২৪০টি ওষুধের মধ্যে ৮২টি হিমাচল প্রদেশে তৈরি। রাজ্যের শিল্পাঞ্চলে বহু ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা উৎপাদন করে এবং সেখানে তৈরি ওষুধ দেশের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করা হয়।

CDSCO এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ঔষধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ সময়ে সময়ে বাজার থেকে ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে। কোনো নমুনায় ঘাটতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক এবং ব্যাচের পরবর্তী পরীক্ষা করা হয়।

প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে। কোনো ব্যাচ বাজারে থাকলে সেটি প্রত্যাহার বা রিকলের প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে। এর পাশাপাশি উৎপাদন ইউনিট পরিদর্শন, নথিপত্র পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মানদণ্ডে উত্তীর্ণ না হওয়া নমুনার মধ্যে বিভিন্ন চিকিৎসাগত প্রয়োজনে ব্যবহৃত ওষুধ রয়েছে। এর মধ্যে হৃদরোগ ও রক্তচাপের ওষুধ ছাড়াও অন্যান্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রয়েছে। কোনো ওষুধের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট ব্যাচ, প্রস্তুতকারক এবং পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে নেওয়া হয়।

দেশে ওষুধের গুণমান পর্যবেক্ষণের একটি অংশ হিসেবে CDSCO এবং রাজ্যস্তরের সংস্থাগুলি বিভিন্ন স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করায়। নির্ধারিত মানে ঘাটতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাজারে থাকা পণ্য সম্পর্কেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

হিমাচল প্রদেশে বিপুল সংখ্যক ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা থাকায় রাজ্যের ওষুধ উৎপাদন ইউনিটগুলির গুণমান পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদন প্রক্রিয়া, কাঁচামালের গুণমান, যন্ত্রপাতি, সংরক্ষণ এবং প্রস্তুত পণ্যের পরীক্ষায় নির্ধারিত মান অনুসরণ করা প্রয়োজন।

কোনো ওষুধের একটি নমুনা পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া পুরো ব্র্যান্ড বা সংস্থার সব ওষুধের গুণমান খারাপ হওয়ার প্রমাণ নয়। পরীক্ষা সাধারণত নির্দিষ্ট ব্যাচ বা নমুনার ভিত্তিতে করা হয়। একইভাবে, NSQ এবং জাল ওষুধ এক বিষয় নয়। CDSCO-এর পরীক্ষায় নির্ধারিত মান পূরণ না করা নমুনার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, অন্যদিকে কোনো ওষুধকে জাল হিসেবে ঘোষণা করার জন্য পৃথক আইনি ও তদন্ত প্রক্রিয়া রয়েছে।

Leave a comment