আলিগড়ে অভিনেতা চন্দ্রচূড় সিংয়ের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে চলা বিরোধে সাতজনের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়েছে। তাঁর ভাই অভিমন্যু সিং অভিযোগ করেছেন, একটি জাল উইল তৈরি করা হয়েছে, রাজস্ব নথিতে কথিত কারচুপি করা হয়েছে এবং কোটি কোটি টাকার জমি ও পৈতৃক হাভেলি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।
অভিমন্যু সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে রোরাওয়ার থানায় FIR দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে কথিত জাল উইল তৈরি, রাজস্ব নথিতে কথিত কারচুপি এবং পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তির ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। শনিবার চন্দ্রচূড় সিং এবং তাঁর ভাই অভিমন্যু সিং আলিগড়ের জলালপুর পুলিশ ফাঁড়িতে পৌঁছে মামলায় তাঁদের বক্তব্য নথিভুক্ত করান।
পরিবারের দাবি, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং উপলব্ধ নথি ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে এবার ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে এখনও কোনও সত্যতা যাচাই হয়নি। মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্যও তদন্তের সময় সামনে আসা বাকি।
জলালপুর এস্টেটকে কেন্দ্র করে সম্পত্তি বিরোধ
অভিমন্যু সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর পরিবারের আলিগড়ের জলালপুর এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে বিস্তৃত পৈতৃক জমি রয়েছে। এই সম্পত্তিগুলির মধ্যে ঐতিহাসিক জলালপুর এস্টেটের হাভেলিও রয়েছে, যা প্রায় ১৮৭০ সালের দিকে নির্মিত বলে জানানো হয়।
পরিবারের দাবি, এই হাভেলি এবং তার সঙ্গে যুক্ত জমিগুলি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ। অভিমন্যু সিং অভিযোগ করেছেন, পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং বাইরের কিছু ব্যক্তি কথিতভাবে নথিতে কারচুপি করে এই সম্পত্তিগুলির ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই সম্পত্তি নিয়ে আগে থেকেই দেওয়ানি আদালতে মামলা চলছিল। এখন কথিত প্রতারণা এবং নথিতে কারচুপির অভিযোগে পরিবার পুলিশের কাছে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।
চন্দ্রচূড় সিংয়ের পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে দাবি
পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, জলালপুর এবং আশপাশের এলাকায় তাঁদের একাধিক পৈতৃক জমি রয়েছে। অভিমন্যু সিংয়ের অভিযোগ, এই সম্পত্তিগুলির ওপর দাবি শক্তিশালী করতে একটি কথিত জাল উইল ব্যবহার করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, তাঁদের দাদার মৃত্যুর ঠিক একদিন আগে ওই উইল তৈরি করা হয়েছিল। তাঁদের মতে, দাদার মৃত্যু হয় ১৯৯৭ সালে। অভিমন্যু সিং অভিযোগ করেছেন, ওই কথিত উইলের ভিত্তিতে মূল্যবান জমির অধিকার কয়েকজনের নামে করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তবে উইলটির সত্যতা এবং তার ভিত্তিতে হওয়া কোনও কথিত হস্তান্তরের বৈধতা তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। বর্তমানে পুলিশ অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলির তদন্ত করছে।
রাজস্ব নথিতে কারচুপির অভিযোগ
অভিমন্যু সিং অভিযোগ করেছেন, কথিত উইলের ভিত্তিতে জমি সংক্রান্ত রাজস্ব নথিতেও পরিবর্তন করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, তহসিল স্তরে থাকা নথিতে নাম এবং অন্যান্য তথ্য কথিতভাবে বদলানো হয়েছে।
পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, এই পরিবর্তনের পর কয়েকটি জমি বছরের পর বছর ধরে কথিতভাবে বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগে কয়েকজন সরকারি কর্মী ও আধিকারিকের কথিত যোগসাজশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে এখনও কোনও সত্যতা যাচাই হয়নি। পুলিশ এখন নথি, রাজস্ব রেকর্ড এবং সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করতে পারে। তদন্তে কোনও অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করা হবে।
মুম্বইয়ে থাকার কারণে দেরিতে তথ্য পাওয়ার দাবি
অভিমন্যু সিং জানান, তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মুম্বইয়ে বসবাস করছে। আলিগড় থেকে দূরে থাকার কারণে পৈতৃক সম্পত্তিতে হওয়া পরিবর্তন এবং লেনদেন সম্পর্কে পরিবার সময়মতো সম্পূর্ণ তথ্য পায়নি বলে তাঁর দাবি।
তাঁর মতে, পরে পরিবার যখন সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ এবং কথিত প্রতারণার কথা জানতে পারে, তখন তারা আইনি পরামর্শ নিয়ে নথি সংগ্রহ শুরু করে। পরিবারের দাবি, গত কিছু সময় ধরে মামলাটির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছিল।
অভিমন্যু সিং জানান, পরিবার এখন মামলায় তাদের আইনি দলকে যুক্ত করেছে। তাঁর মতে, সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য রেকর্ড পরীক্ষা করা হচ্ছে।
কাকার মৃত্যুর পর বিরোধ বাড়ে
পরিবারের মতে, চন্দ্রচূড় সিংয়ের কাকা গঙ্গা সিং দীর্ঘদিন সুইডেনে থাকতেন। পরে তিনি জলালপুরের পৈতৃক হাভেলিতে বসবাস শুরু করেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে গঙ্গা সিংয়ের মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, তাঁর মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তি, হাভেলি এবং ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত জমি নিয়ে বিরোধ আরও বেড়ে যায়। এরপর সম্পত্তির অধিকার এবং কথিত দখল নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য সামনে আসে।
অভিমন্যু সিং অভিযোগ করেছেন, তাঁর কাকার পরিবারের পক্ষ থেকে হাভেলি ও জমির ওপর অধিকার দাবি করা হয়েছিল। এই বিরোধের মধ্যেই কথিত উইল এবং রাজস্ব নথি সংক্রান্ত নথি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
প্রথমে দেওয়ানি আদালতে গিয়েছিল মামলা
অভিমন্যু সিংয়ের মতে, সম্পত্তি বিরোধ নিয়ে পরিবার প্রথমে দেওয়ানি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। সেখানে সম্পত্তির অধিকার এবং সংশ্লিষ্ট বিরোধ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছিল।
এখন পরিবার ফৌজদারি অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে FIR দায়ের করেছে। অভিযোগে সাতজনকে নাম করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পরিবারের সদস্য, একজন বিদেশি নাগরিক, দুই সাক্ষী এবং একজন আইনজীবীর নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের সমর্থনে কী কী নথি ও অন্যান্য প্রমাণ রয়েছে, পুলিশ এখন তা পরীক্ষা করবে। পাশাপাশি কথিত উইলের সত্যতা, জমির রেকর্ড এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত লেনদেনও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
সাতজনের বিরুদ্ধে FIR
পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, চন্দ্রচূড় সিংয়ের কাকিমা গায়ত্রী দেবী সিংসহ মোট সাতজনকে নাম করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, এই ব্যক্তিরা কথিত জাল নথি তৈরি এবং সম্পত্তি দখলের চেষ্টার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
অভিযোগে নাম থাকা সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন। FIR দায়ের হওয়া কোনও ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণ করে না। তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়ার পরেই অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ধারিত হতে পারে।
পুলিশ মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য রেকর্ড করছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশ ফাঁড়িতে বক্তব্য রাখলেন চন্দ্রচূড় সিং
শনিবার অভিনেতা চন্দ্রচূড় সিং তাঁর ভাই অভিমন্যু সিংয়ের সঙ্গে জলালপুর পুলিশ ফাঁড়িতে পৌঁছান। সেখানে তাঁরা পুলিশ আধিকারিকদের সামনে নিজেদের বক্তব্য নথিভুক্ত করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য উপলব্ধ প্রমাণ পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। চন্দ্রচূড় সিং অভিযোগ করেছেন, কথিত জাল উইলের ভিত্তিতে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
অভিনেতার ভাই জানান, পরিবার এখন এই মামলায় ফৌজদারি পদক্ষেপ চায় এবং তাঁদের আশা, উপলব্ধ নথির ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করবে।
অভিনেতা চন্দ্রচূড় সিংয়ের চলচ্চিত্রজীবন
চন্দ্রচূড় সিং দীর্ঘদিন ধরে হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পে সক্রিয়। তিনি ‘মাচিস’, ‘জোশ’ এবং ‘ক্যা কেহনা’-র মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন।
অভিনেতার সঙ্গে আলিগড়ের জলালপুর এস্টেট পরিবারের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানানো হয়। তাঁর বাবা ক্যাপ্টেন বলদেব সিং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে আধিকারিক ছিলেন এবং ১৯৮৫ সালে আলিগড়ের সদর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়কও হয়েছিলেন।
পরিবারের পুরনো জমি ও সম্পত্তি আলিগড়ের জলালপুর এবং আশপাশের গ্রামগুলিতে রয়েছে বলে জানানো হয়। এই সম্পত্তিগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত পুরনো বিরোধের কথাও পরিবারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক হাভেলিও বিরোধের কেন্দ্রে
বিতর্কের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র জলালপুর এস্টেটের পুরনো হাভেলি। পরিবারের মতে, এই হাভেলির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে এবং এটি দেড় শতাব্দীরও বেশি পুরনো।
অভিমন্যু সিংয়ের বক্তব্য, হাভেলিটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ এবং পরিবার তার মালিকানা সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করেছে। পরিবারের অভিযোগ, হাভেলি এবং তার সঙ্গে যুক্ত জমির ওপর অধিকার নিয়ে কথিতভাবে নথি ব্যবহার করা হয়েছে।
এখন পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রতিষ্ঠান নথিগুলির বৈধতা এবং সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা সংক্রান্ত প্রশ্নগুলি পরীক্ষা করবে। সেই ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল
FIR দায়ের হওয়ার পর মামলাটির তদন্ত এখন পুলিশের হাতে। পুলিশকে কথিত উইল, রাজস্ব রেকর্ড, সম্পত্তি সংক্রান্ত পুরনো নথি এবং জমির লেনদেনের তথ্য পরীক্ষা করতে হবে। তদন্তে কথিত নথিগুলি কখন তৈরি হয়েছিল, সেগুলি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সম্পত্তির রেকর্ডে কোনও অনিয়মিত পরিবর্তন হয়েছিল কি না, তাও স্পষ্ট হতে পারে।
পরিবারের পক্ষ থেকে করা অভিযোগগুলি তদন্তাধীন। তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কোনও অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। নামজদ ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং উপলব্ধ নথির স্বাধীন পরীক্ষা এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এই মুহূর্তে চন্দ্রচূড় সিং এবং তাঁর ভাই পুলিশের সামনে নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছেন। সাতজনের বিরুদ্ধে FIR দায়ের হওয়ার পর পুলিশ মামলার সঙ্গে যুক্ত নথি এবং অভিযোগগুলি পরীক্ষা করছে। সম্পত্তির মালিকানা এবং কথিত জাল উইলের প্রকৃত অবস্থান পরবর্তী তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।




