জঙ্গল সাফারির টিকিট ছাড়াই ডুয়ার্সে বিরল দৃশ্য! চাপড়ামারীর রাস্তার ধারে একসঙ্গে ৭০টিরও বেশি হরিণ, মুগ্ধ পর্যটক-স্থানীয়রা

জঙ্গল সাফারির টিকিট ছাড়াই ডুয়ার্সে বিরল দৃশ্য! চাপড়ামারীর রাস্তার ধারে একসঙ্গে ৭০টিরও বেশি হরিণ, মুগ্ধ পর্যটক-স্থানীয়রা

ডুয়ার্স মানেই সবুজ জঙ্গল, নদী আর বন্যপ্রাণের টান। বর্ষাকালে বন দফতরের নিয়মে জঙ্গল সাফারি বন্ধ থাকলেও প্রকৃতি যেন নিজেই পর্যটকদের জন্য খুলে দিল অন্য এক জানালা। চাপড়ামারী অরণ্যের পাশের রাস্তায় হঠাৎই দেখা মিলল বিশাল হরিণের পালের। কোনও কৃত্রিম পরিবেশ নয়, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক আবহে বন্যপ্রাণীদের এমন অবাধ বিচরণ চোখে পড়তেই ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন উপস্থিত সবাই।

বর্ষার সকালের আলোয় প্রাণ ফিরে পেল ডুয়ার্স

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির পর উত্তরবঙ্গের আকাশে দেখা মিলেছে রোদের। সেই রোদে ধুয়ে-মুছে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে ডুয়ার্সের সবুজ অরণ্য। মালবাজার থেকে নাগরাকাটার পথে একদিকে চাপড়ামারী, অন্যদিকে গরুমারা—দুই অরণ্যের মাঝখানের রাস্তা যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক জীবন্ত ক্যানভাস। এই মনোরম পরিবেশেই ধরা পড়ে হরিণের বিশাল দল।

রাস্তার ধারে নিশ্চিন্তে খাদ্য সংগ্রহ, থমকে গেল পথচলতি মানুষ

স্থানীয়দের দাবি, একসঙ্গে প্রায় ৫০ থেকে ৭০টি হরিণ রাস্তার ধারে ঘাস খেতে দেখা যায়। মানুষের উপস্থিতি সত্ত্বেও প্রাণীগুলি ছিল স্বাভাবিক ও নিশ্চিন্ত। এমন দৃশ্য সচরাচর চোখে পড়ে না বলেই অনেকেই গাড়ি থামিয়ে কিছুক্ষণ সেই অপূর্ব মুহূর্ত উপভোগ করেন। কেউ মোবাইলে ছবি তোলেন, কেউ আবার ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন।

ভাইরাল ছবিতে মুগ্ধ নেটদুনিয়া

হরিণের পালের ছবি এবং ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রকৃতিপ্রেমী থেকে সাধারণ নেটিজেন—সকলেই ডুয়ার্সের এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের প্রশংসা করেছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, বর্ষাকালে জঙ্গল বন্ধ থাকলেও প্রকৃতি যে নিজেই এমন উপহার দিতে পারে, তা সত্যিই বিস্ময়কর।

স্থানীয়দের চোখে স্মরণীয় সকাল

স্থানীয় বাসিন্দা রাই ছেত্রী জানান, চাপড়ামারী জঙ্গলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একসঙ্গে এত হরিণ দেখতে পাওয়া তাঁর কাছে বিরল অভিজ্ঞতা। বাদামি রঙের ছোট-বড় হরিণগুলোকে নিশ্চিন্তে বিচরণ করতে দেখে সকালের সৌন্দর্য যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এমন দৃশ্য বহুদিন মনে থাকবে বলেও জানান তিনি।

বর্ষাতেও পর্যটনের আলাদা আকর্ষণ

বর্ষার সময় নিরাপত্তার স্বার্থে জঙ্গল সাফারি বন্ধ থাকে। তবুও ডুয়ার্সের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে বহু মানুষ এই সময়েও ভিড় করেন। পাহাড়, নদী, চা-বাগান আর অরণ্যের পাশাপাশি রাস্তার ধারে বন্যপ্রাণীর এমন স্বাভাবিক বিচরণ পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠছে। তবে বনাঞ্চলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বন্যপ্রাণীদের বিরক্ত না করা এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয়রাও।

বর্ষার কারণে জঙ্গল সাফারি বন্ধ। তবুও ডুয়ার্সে বেড়াতে এসে পর্যটকদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক অন্যরকম চমক। চাপড়ামারী অরণ্য সংলগ্ন মালবাজার-নাগরাকাটা সড়কের ধারে একসঙ্গে ৫০ থেকে ৭০টি হরিণকে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতে দেখে মুগ্ধ হয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা। মুহূর্তেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

Leave a comment