চিকেনের কোন অংশ খাওয়া উচিত, কোন অংশ সীমিত? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও বৈজ্ঞানিক তথ্য জানুন

চিকেনের কোন অংশ বেশি স্বাস্থ্যকর, কোন অংশ সীমিত খাওয়া উচিত এবং কোন দাবিগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়—জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিরাপদ রান্নার নিয়ম ও স্বাস্থ্য টিপস।

বাংলার রান্নাঘরে চিকেন এখন প্রায় প্রতিদিনের খাবার। তুলনামূলক কম দামে উচ্চমানের প্রোটিন পাওয়া যায় বলে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রায়ই দাবি করা হয়, মুরগির কিছু অংশ খেলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু এই দাবির কতটা সত্য? পুষ্টিবিদ ও খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু অংশ সীমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সঠিকভাবে রান্না করাই নিরাপদ থাকার মূল চাবিকাঠি।

চিকেনের কোন অংশ সীমিত খাওয়া ভালো?

মুরগির চামড়া

চামড়ায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ক্যালোরির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে ওজন বৃদ্ধি, কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই স্কিনলেস চিকেন খাওয়াই বেশি স্বাস্থ্যকর।

লেগ ও থাই পিস

লেগ ও থাই অংশে বুকের মাংসের তুলনায় কিছুটা বেশি চর্বি থাকে। তবে এটি সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই। যাদের ওজন বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তারা পরিমিত পরিমাণে খেতে পারেন।

চিকেন লিভার

মুরগির লিভারে প্রচুর আয়রন, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন বি১২ থাকে। তবে এতে কোলেস্টেরলের মাত্রাও বেশি। তাই যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত লিভার খাওয়া এড়ানো উচিত।

প্রসেসড চিকেন

চিকেন নাগেটস, সসেজ, সালামি বা অন্যান্য প্রসেসড চিকেনজাতীয় খাবারে অতিরিক্ত লবণ, প্রিজারভেটিভ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকতে পারে। নিয়মিত এসব খাবার খাওয়া উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

যেসব দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই

সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মুরগির ফুসফুস, ঘাড় বা লেজে এমন ব্যাকটেরিয়া থাকে যা রান্নার পরও নষ্ট হয় না। তবে খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ তাপমাত্রায় (অন্তত ৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) সম্পূর্ণ রান্না করলে সাধারণ খাদ্যবাহিত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়।এছাড়া, "হিমায়িত চিকেন সবসময় ক্ষতিকর" বা "যকৃত ও কিডনিতে বিপজ্জনক মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক জমে থাকে"—এ ধরনের দাবিরও শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। অনুমোদিত মান বজায় রেখে সংরক্ষিত ও বাজারজাত করা ফ্রোজেন চিকেন নিরাপদ বলেই বিবেচিত হয়।

চিকেন নিরাপদে খাওয়ার জন্য কী করবেন?

সবসময় তাজা বা নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে চিকেন কিনুন।

সম্পূর্ণ সেদ্ধ বা ভালোভাবে রান্না করুন।

কাঁচা চিকেন ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখুন।

রান্নার আগে ও পরে হাত ও রান্নার সরঞ্জাম ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।

ডিপ-ফ্রাইয়ের বদলে সেদ্ধ, গ্রিল বা কম তেলে রান্না করা খাবার বেছে নিন।

প্রসেসড চিকেন সীমিত পরিমাণে খান।

চিকেন উচ্চমানের প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস। তবে মুরগির সব অংশ সমান স্বাস্থ্যকর নয়। চামড়া, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত অংশ বা প্রসেসড চিকেন বেশি খেলে হৃদরোগ, স্থূলতা ও উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে বুকের মাংস বা স্কিনলেস চিকেন তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাস্থ্যকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকেনের নির্দিষ্ট অংশের চেয়ে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও সম্পূর্ণ রান্না করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

Leave a comment