দিল্লিতে CJP-র বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার, ৪৫টি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে CJP-র যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ৪৫টি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ, দুই রেলস্টেশনে ট্রেন চলাচলে প্রভাব এবং নির্দিষ্ট এলাকায় ২৪ ঘণ্টা ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের তথ্য সামনে এসেছে।

ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) আজ রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে চলেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর একাধিক এলাকায় যাতায়াতের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর মোতায়েন বাড়ানোর পাশাপাশি মেট্রো, রেল, ইন্টারনেট এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ার তথ্য সামনে এসেছে।

CJP-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে নয়াদিল্লি জেলার নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। যানবাহনে তল্লাশি এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের উপর নজরদারির জন্যও অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন স্থানে পুলিশ যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট এলাকার সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক ও থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নিয়মিত টহল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আধাসামরিক বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাদের অগ্রাধিকার। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর ধারাবাহিকভাবে নজর রাখা হচ্ছে। যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার রাস্তায় বিধিনিষেধ থাকায় সাধারণ মানুষকে যাত্রার পরিকল্পনা আগে থেকে করে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

বিক্ষোভের কারণে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনে বিধিনিষেধ জারির তথ্য সামনে এসেছে। নিরাপত্তার কারণে কয়েকটি স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থানদ্বার বন্ধ রাখা হতে পারে অথবা যাত্রীদের চলাচল সীমিত করা হতে পারে। তবে সব স্টেশনে একই ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর হবে, এমনটা নয়।

নিয়মিত মেট্রোয় যাতায়াতকারী যাত্রীদের বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে সংশ্লিষ্ট স্টেশনের পরিস্থিতি এবং যাত্রা সংক্রান্ত সর্বশেষ আপডেট জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মেট্রো পরিষেবায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের কারণে অফিসযাত্রী, পড়ুয়া এবং অন্যান্য যাত্রীদের বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হতে পারে।

CJP-র বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে রেল পরিষেবা নিয়েও বিধিনিষেধের তথ্য জানানো হয়েছে। উপলব্ধ বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ২টোর পর নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকা ট্রেন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, শনিবার ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত এই স্টেশনগুলিতে পৌঁছনো ট্রেনের চলাচলও প্রভাবিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এই পরিবর্তনের ফলে যাত্রীদের যাতায়াতে অসুবিধা হতে পারে। যাঁরা ওই স্টেশনগুলি থেকে যাত্রা করার বা সেখানে পৌঁছনোর পরিকল্পনা করেছেন, তাঁদের রেলের সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যাত্রার তথ্য নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ট্রেন বাতিল বা সময়সূচিতে পরিবর্তন হলে বিকল্প পরিবহণের ব্যবস্থাও করতে হতে পারে।

বিক্ষোভ চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নয়াদিল্লি জেলার কয়েকটি অংশে সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের নির্দেশ জারি হওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। জানানো হয়েছে, জনপথ ও কর্তব্য পথের আশপাশে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এই বিধিনিষেধ শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। তবে বিধিনিষেধের প্রকৃত আওতা এবং পরিষেবার বর্তমান পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকলে ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন মানচিত্র, মেসেজিং এবং অন্যান্য ইন্টারনেটনির্ভর পরিষেবা ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় নথি, যাত্রা সংক্রান্ত তথ্য এবং যোগাযোগের নম্বর আগে থেকে সংরক্ষণ করে রাখার প্রয়োজন হতে পারে।

 

Leave a comment