কংগ্রেস CWC বৈঠকে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থানের আহ্বান রাহুলের

কংগ্রেস CWC বৈঠকে রাহুল গান্ধী মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান এবং দলের ঐক্যের ওপর জোর দেন। মল্লিকার্জুন খড়গে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ৯৪ হাজার স্কুল বন্ধের দাবি, রাম মন্দির ট্রাস্টের অনুদানের স্বচ্ছতা এবং ভারত-চীন সীমান্তের বিষয় তোলেন।

নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) বৈঠকে দলের পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে রাহুল গান্ধী কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান এবং কংগ্রেসের ঐক্যকে দলের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেন।

বৈঠকে কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ দলের প্রবীণ নেতা এবং CWC-র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যুবকদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান, সীমান্ত নিরাপত্তা, রাম মন্দির ট্রাস্টের অনুদানের স্বচ্ছতা এবং বিরোধী রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়।

রাহুল গান্ধী বৈঠকে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে দলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি বলে উল্লেখ করেন। তিনি নেতাদের জানান, কেন্দ্র সরকার ব্যাকফুটে রয়েছে এবং কংগ্রেসের উচিত সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও জোরদার করা। দলের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।

রাহুল গান্ধী কথিতভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) উদাহরণ দিয়ে বলেন, সংগঠনের মধ্যে বিভাজন কীভাবে রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে, তা কংগ্রেসের শেখা উচিত। তিনি দলীয় নেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক লড়াই চালানোর বার্তা দেন।

রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার সম্পর্কে দাবি করেন যে মোদির শাসন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং তাঁর উত্তরসূরি খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক মূল্যায়ন এবং এই দাবির বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের প্রতিক্রিয়ার কোনও তথ্য সামনে আসেনি।

নয়াদিল্লির ইন্দিরা ভবনে অনুষ্ঠিত CWC বৈঠকে প্রায় ৮৮ জন নেতা অংশ নেন। দলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংসদে সরকারকে ঘিরে ধরার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

সংসদ অধিবেশন চলাকালীন কংগ্রেস এবং বিরোধী দলগুলি একাধিক বিষয় নিয়ে কেন্দ্র সরকারের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করেছিল। অধিবেশন শেষ হওয়ার পর কংগ্রেস নেতৃত্ব পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করে। সরকারের নীতির প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি যুব, কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয় জনগণের সামনে তুলে ধরার ওপর দলের নজর রয়েছে।

বৈঠকে সংগঠন শক্তিশালী করে বিরোধী রাজনীতিতে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে বৈঠকে যুবকদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেন। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকারের নীতির প্রভাব যুবকদের ভবিষ্যতের ওপর পড়ছে।

খড়গে শিক্ষার পর কর্মসংস্থান পর্যন্ত একটি স্পষ্ট নীতি তৈরির দাবি জানান। তিনি একটি ‘এডুকেশন টু এমপ্লয়মেন্ট’ রোডম্যাপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন, যাতে যুবকদের উন্নত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।

কংগ্রেসের বক্তব্য, দেশে বিপুল সংখ্যক যুবক কর্মসংস্থানের সন্ধানে রয়েছেন এবং সরকারকে এই চ্যালেঞ্জের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিতে হবে।

CWC বৈঠকে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়। মল্লিকার্জুন খড়গে দাবি করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেশে প্রায় ৯৪ হাজার স্কুল বন্ধ হয়েছে। তিনি এটিকে শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

কংগ্রেস স্কুলের সংখ্যা, শিক্ষার্থীদের নাগাল এবং শিক্ষার মান নিয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট জবাব দাবি করে। দলের বক্তব্য, সরকারি স্কুলের প্রাপ্যতা কমলে গ্রামীণ এবং আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের শিশুদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

৯৪ হাজার স্কুল বন্ধ হওয়ার দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত সরকারি তথ্য এবং তার প্রেক্ষাপট নিয়ে সরকারের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই ধরনের দাবির স্বাধীন যাচাই সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে করা প্রয়োজন।

বৈঠকে অযোধ্যার রাম মন্দির-সংক্রান্ত ট্রাস্টের অনুদানের বিষয়টিও ওঠে। মল্লিকার্জুন খড়গে রাম মন্দির ট্রাস্টে পাওয়া অর্থ, সোনা এবং অন্যান্য অনুদানের ব্যবহারে স্বচ্ছতার দাবি জানান।

কংগ্রেস প্রশ্ন তোলে, ট্রাস্টে পাওয়া অনুদান কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর আর্থিক তথ্য কোন স্তরে প্রকাশ করা হয়। দল অনুদান-সংক্রান্ত হিসাব এবং তার ব্যবহারের তথ্য প্রকাশের দাবি জানায়।

CWC বৈঠকে ভারত-চীন সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। কংগ্রেস ভারতীয় সীমান্তে চীনের কথিত অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্র সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করে।

দলের বক্তব্য, দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা জাতীয় গুরুত্বের বিষয় এবং সীমান্তের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারকে সংসদ ও জনগণকে স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে।

বৈঠকে রাহুল গান্ধীর মূল বার্তা ছিল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ঐক্য। তিনি দলীয় নেতাদের জানান, সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই কার্যকর করতে হলে সাংগঠনিকভাবে কংগ্রেসকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

রাহুল গান্ধী কথিতভাবে TMC-র উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিভাজন যে কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের শক্তিকে দুর্বল করতে পারে। কংগ্রেসের সামনে দলীয় সংগঠন শক্তিশালী করার পাশাপাশি একাধিক রাজ্যে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে জোটের রাজনীতিতে সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়ও রয়েছে।

CWC বৈঠকের পর কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। রাহুল গান্ধী সরকারের ব্যাকফুটে থাকার কথা উল্লেখ করেন। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতার মতো বিষয়ের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকারকে ঘিরে ধরার চেষ্টা করতে পারে কংগ্রেস।

দলীয় নেতৃত্বের মতে, সংসদের বাইরেও এই বিষয়গুলি জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

CWC বৈঠকে রাহুল গান্ধীর আক্রমণাত্মক অবস্থান, খড়গের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত বিষয় এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ও রাম মন্দির ট্রাস্টের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা কংগ্রেসের পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশলের বিষয়গুলি সামনে এনেছে।

রাহুল গান্ধীর সরকার দুর্বল হওয়া এবং নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা-সংক্রান্ত বক্তব্য রাজনৈতিক মন্তব্য। এর প্রকৃত প্রভাব আগামী নির্বাচন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। আপাতত কংগ্রেসের জোর সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখা এবং কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের ভূমিকা আরও মুখর করার ওপর।

 

Leave a comment