Cyclone Alert 2026: অক্টোবর-ডিসেম্বরে বাড়ে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা! বঙ্গোপসাগর-আরব সাগরে নজর, তবে এখনই বড় বিপদের পূর্বাভাস নেই

Cyclone Alert 2026: অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ঘূর্ণিঝড়ের গুরুত্বপূর্ণ মরশুম। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে বাড়ে নজরদারি, তবে এখনই তিনটি শক্তিশালী সাইক্লোনের নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই।

Cyclone Alert 2026: পুজোর মরশুম পেরোতেই কি ধেয়ে আসবে একের পর এক ঘূর্ণিঝড়? বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বাড়ছে আবহাওয়াবিদদের নজরদারি। কারণ উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরকে ঘূর্ণিঝড় তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। তবে এই মরশুমে ঠিক কতগুলি বা কতটা শক্তিশালী সাইক্লোন তৈরি হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

অক্টোবর-ডিসেম্বর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাধারণত বছরে দু’টি সময়ে ঘূর্ণিঝড়ের কার্যকলাপ বেশি দেখা যায়—এপ্রিল থেকে জুন এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর। এর মধ্যে বর্ষা-পরবর্তী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।বর্ষার দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ধীরে ধীরে বিদায় নেওয়ার পর বঙ্গোপসাগরের কিছু অংশে সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতি ফের ঘূর্ণিঝড় তৈরির উপযোগী হয়ে উঠতে পারে। ফলে এই সময় বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরের পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হয়।

৩০ বছরে ২৬৬টি ঘূর্ণিঝড় ব্যবস্থা!

ISRO-র একটি কেন্দ্র Indian Institute of Remote Sensing (IIRS)-এর সঙ্গে যুক্ত সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে ১৯৯৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি পর্যালোচনা করা হয়েছে।এই দীর্ঘ ৩০ বছরের সময়ে মোট ২৬৬টি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় ব্যবস্থা শনাক্ত হয়েছিল। অর্থাৎ, হিসেব করলে বছরে গড়ে প্রায় চারটি করে ঘূর্ণিঝড় ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।তবে এই গড় সংখ্যাকে ২০২৬ সালের নির্দিষ্ট পূর্বাভাস হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ প্রতি বছর সমুদ্র এবং বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতি এক থাকে না।

বঙ্গোপসাগরেই কেন বাড়তি নজর?

বঙ্গোপসাগর দীর্ঘদিন ধরেই ঘূর্ণিঝড় তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। বর্ষা-পরবর্তী সময়ে এখানে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ অনুযায়ী ভারতের পূর্ব উপকূলের একাধিক রাজ্য প্রভাবিত হতে পারে।পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুর মতো উপকূলীয় রাজ্যগুলিতে তাই ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথের উপর বিশেষ নজর রাখা হয়। কোনও সিস্টেম তৈরি হলে তার অবস্থান, শক্তি এবং গতিপথ অনুযায়ী ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

আরব সাগরও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়

শুধু বঙ্গোপসাগর নয়, আরব সাগরেও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে ভারতের পশ্চিম উপকূলীয় এলাকাগুলির জন্যও এই সময়ে নিয়মিত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সমুদ্রের তাপমাত্রা, বায়ুমণ্ডলের সঞ্চালন, আর্দ্রতা এবং উইন্ড শিয়ারের মতো একাধিক বিষয় ঘূর্ণিঝড় তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই উপাদানগুলির পরিস্থিতি কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বদলে যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় হলে শুধু ঝোড়ো হাওয়াই নয়

শক্তিশালী সাইক্লোনের প্রভাব শুধুমাত্র ঝড়ের গতিবেগে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে ভারী বৃষ্টি, উপকূলীয় এলাকায় জল ঢুকে পড়া, সমুদ্রে বিশাল ঢেউ এবং বিপজ্জনক সামুদ্রিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।এর ফলে জেলে ও সমুদ্রে কাজ করা মানুষ, নৌ-পরিবহণ, উপকূলীয় বসতি এবং বিভিন্ন পরিকাঠামো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাই ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

PDI কী? শুধু ঝড়ের সংখ্যা দিয়ে কি বিপদ বোঝা যায়?

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক শক্তি বোঝার জন্য Power Dissipation Index বা PDI নামে একটি বৈজ্ঞানিক সূচক ব্যবহার করা হয়। শুধু একটি মরশুমে কতগুলি ঝড় তৈরি হয়েছে, তা দিয়ে ঝুঁকি নির্ধারণ করা যায় না। ঝড় কতটা শক্তিশালী এবং কতক্ষণ সক্রিয় ছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।অর্থাৎ, কোনও বছরে ঝড়ের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও যদি একটি বা একাধিক ঝড় অত্যন্ত শক্তিশালী হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকে, তাহলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা যথেষ্ট বাড়তে পারে।

২০২৬-এ কি তিনটি ভয়ঙ্কর সাইক্লোন আসছে?

এই প্রশ্ন নিয়েই এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৬ মরশুমে তিনটি অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় নিশ্চিতভাবে ভারতে আঘাত হানবে, এমন কোনও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিত তথ্য এখনও নেই।একইভাবে, নির্দিষ্ট PDI মান বা নির্দিষ্ট সংখ্যক সাইক্লোনকে ২০২৬ সালের সরকারি পূর্বাভাস হিসেবে ধরে নেওয়াও ঠিক নয়। মূল বৈজ্ঞানিক বা সরকারি উৎসে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এমন দাবিকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

উপকূলবাসীদের কী সতর্কতা নেওয়া উচিত?

ঘূর্ণিঝড়ের মরশুম সামনে থাকায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সরকারি আবহাওয়া বার্তার দিকে নজর রাখা জরুরি। বিশেষ করে জেলে এবং সমুদ্রে কাজ করা মানুষদের ক্ষেত্রে সময়মতো সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া যাচাইহীন পোস্ট বা কথিত ‘সাইক্লোন প্রেডিকশন’-এর উপর নির্ভর না করে IMD-এর সরকারি বুলেটিন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।কোনও ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার আগে তার সঠিক অবস্থান, শক্তি বা সম্ভাব্য ল্যান্ডফল সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পাওয়া যায় না। সিস্টেম তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পূর্বাভাস আরও নির্দিষ্ট করা হয়।

বর্ষা বিদায়ের পর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর—দুই এলাকাতেই এই সময়ে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। তবে ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট সংখ্যক শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরি হবেই, এমন কোনও নিশ্চিত পূর্বাভাস এখনও নেই।

Leave a comment