অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই ফের ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা! বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে। পূর্বাভাস বলছে, রবিবারই সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। সোমবার আরও শক্তিশালী হয়ে মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা। কিন্তু এই ঝড়ের প্রভাব কি পড়বে বাংলায়? কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া কেমন থাকবে? মৎস্যজীবীদের জন্যই বা কী সতর্কতা জারি হয়েছে? জেনে নিন আবহাওয়ার বিস্তারিত পূর্বাভাস।
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত ছয় ঘণ্টায় নিম্নচাপটি ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়েছে। বর্তমানে সেটি দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।চেন্নাই থেকে নিম্নচাপটির দূরত্ব প্রায় ৯৬০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে। বর্তমানে এর সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫-৫৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার ক্ষেত্রে সেই গতি ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে।
রবিবার ঘূর্ণিঝড়, সোমবার আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১ নভেম্বর রবিবার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরেই নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর ২ নভেম্বর সোমবার পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে সেটি আরও শক্তিশালী বা প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে।অর্থাৎ, আগামী দু'দিন এই ঘূর্ণিঝড়ের গতিপ্রকৃতির দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। সমুদ্রের উপর দিয়ে এগোনোর সময় ঝড়ের শক্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
৩ নভেম্বর কোথায় ল্যান্ডফল হতে পারে?
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ঘূর্ণিঝড়টির আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মছলিপত্তনামের কাছাকাছি, নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকায় ল্যান্ডফল হতে পারে।ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০-১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস। স্থলভাগে প্রবেশের পর ধীরে ধীরে শক্তি হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে কি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়বে?
এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের জন্য কোনও ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা জারি করা হয়নি। রাজ্যের উপকূলীয় এলাকাতেও আপাতত বিশেষ সতর্কবার্তা নেই। তবে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি।আগামী কয়েক দিন বাংলার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। রাজ্যের বেশির ভাগ এলাকায় মূলত শুষ্ক আবহাওয়ারই পূর্বাভাস রয়েছে। কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও আপাতত বড়সড় দুর্যোগের ইঙ্গিত নেই।
উত্তরবঙ্গের আগামী সাত দিনের আবহাওয়া
উত্তরবঙ্গে আগামী কয়েক দিন আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা। সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। তবে দু-একটি জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিন-চার দিন পর থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে পুরোপুরি শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে কেমন থাকবে আবহাওয়া?
দক্ষিণবঙ্গেও আপাতত আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। বেশির ভাগ জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকলেও দু-একটি এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়া আরও শুষ্ক হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা থাকলেও আপাতত দক্ষিণবঙ্গের জন্য বড় কোনও সতর্কবার্তা নেই।
মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা জারি
পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আপাতত কোনও বিশেষ সতর্কতা জারি না হলেও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে মৎস্যজীবীদের সতর্ক করা হয়েছে।২ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যা থেকে ওই এলাকায় ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল থেকে হাওয়ার গতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তখন ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।এই সময় সমুদ্রও উত্তাল থাকার সম্ভাবনা। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার মৎস্যজীবীদের আবহাওয়া দফতরের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১ নভেম্বর রবিবার সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ২ নভেম্বর সোমবার আরও শক্তিশালী হয়ে ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০-১১০ কিলোমিটার হতে পারে। তবে পশ্চিমবঙ্গের জন্য আপাতত কোনও ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা জারি করা হয়নি।





