দেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার, ৩১ অক্টোবর দেশজুড়ে জাতীয় ঐক্য দিবস পালন করা হচ্ছে। এই উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দিল্লিতে তাঁর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সামাজিক মাধ্যমে বার্তা প্রকাশ করে সর্দার প্যাটেলের অবদানের কথা স্মরণ করেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কংগ্রেসকে নিশানা করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে অখণ্ড ভারতের নির্মাতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শক্তিশালী, সমৃদ্ধ এবং প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম ভারত গড়ে তোলার জন্য সর্দার প্যাটেল তাঁর সম্পূর্ণ জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। দেশের প্রতি তাঁর ত্যাগ ও সেবার মনোভাব আজও বিকশিত ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগায়।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বিশেষভাবে রাষ্ট্রগঠনে সর্দার প্যাটেলের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন দেশীয় রাজ্যকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই অবদানের জন্যই তিনি দেশের লৌহপুরুষ হিসেবে পরিচিত।
দিল্লির প্যাটেল চকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, দিল্লির উপরাজ্যপাল তরনজিৎ সিং সান্ধু এবং মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। প্রত্যেকেই সর্দার প্যাটেলের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে লোকসভা সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজও অংশগ্রহণ করেন।
এই অনুষ্ঠানে দেশের ঐক্য বজায় রাখা এবং স্বাধীনতার পর ভারতকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সর্দার প্যাটেলের অবদান স্মরণ করা হয়।
জাতীয় ঐক্য দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দেশে সর্দার প্যাটেল তাঁর কাজের অনুপাতে সম্মান পাননি। শাহ বলেন, কংগ্রেস তাঁর স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তবে ইতিহাস থেকে তাঁর অবদান মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
![]()
অমিত শাহ গুজরাতে নির্মিত স্ট্যাচু অফ ইউনিটির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সর্দার প্যাটেলের উত্তরাধিকারকে নতুন পরিচিতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিশাল মূর্তি নির্মাণের মাধ্যমে দেশ ও বিশ্বের সামনে সর্দার প্যাটেলের অবদান তুলে ধরা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সময় ভারতের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বিভিন্ন দেশীয় রাজ্যকে একটি দেশের অন্তর্ভুক্ত করা। সর্দার প্যাটেল তাঁর নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্ম ১৮৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর গুজরাতের নাদিয়াদে। পেশায় তিনি ছিলেন আইনজীবী এবং স্বাধীনতা আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি দেশের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০১৪ সালে ভারত সরকার তাঁর জন্মবার্ষিকীকে জাতীয় ঐক্য দিবস হিসেবে পালনের সূচনা করে। দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাই এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য।
এই দিন স্কুল, কলেজ, সরকারি দফতর এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যের শপথ গ্রহণ করানো হয়। বিভিন্ন জায়গায় দৌড় প্রতিযোগিতা, পদযাত্রা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে যুবসমাজের অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এবার গুজরাতের একতা নগরেও বড় পরিসরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি শুক্রবার বনাসকাঁঠায় একটি অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন, শনিবার সন্ধ্যায় একতা নগরে বিশেষ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচিতে যুবসমাজকে বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি।












