উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এই লক্ষ্যে শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর লখনউয়ে দলের প্রদেশ কার্যসমিতির বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকের উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সভাপতিত্ব করবেন উত্তরপ্রদেশ বিজেপির রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী। অন্যদিকে, সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা, বুথস্তরে বিজেপির অবস্থান এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। বিশেষ করে যেসব আসনে অতীতে দলের প্রত্যাশিত ফল হয়নি, সেগুলিতে সংগঠন আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্থানীয় সংগঠন এবং বুথস্তরে কর্মরত দলীয় কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার কয়েক ঘণ্টার জন্য লখনউ সফর করবেন। প্রকাশিত বিস্তারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি চৌধুরী চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন। সেখান থেকে সড়কপথে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ড. রাম মনোহর লোহিয়া জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন।
সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিজেপির প্রদেশ কার্যসমিতির বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। এরপর দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত মধ্যাহ্নভোজের সময় নির্ধারিত রয়েছে। দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে তাঁর দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা।
![]()
প্রদেশ কার্যসমিতির বৈঠকের এক দিন আগে, বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে পদাধিকারীদের নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ মহামন্ত্রী (সংগঠন) ধর্মপাল সিং, সহ-প্রভারী মেধা কুলকার্নি, অনন্ত ওঝা এবং প্রদীপ বর্মা।
বৈঠকে আয়োজনের বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। পঙ্কজ চৌধুরী পদাধিকারীদের এমন এলাকাগুলিতে সাংগঠনিক কাজ আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন, যেখানে সংগঠনকে শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি নিবন্ধন, খাবার, যাতায়াত এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।
ধর্মপাল সিং কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে এবং মাইক্রো ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে আয়োজনের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
বিজেপির প্রদেশ কার্যসমিতির বৈঠকে প্রায় ২৮৫০ জন নেতা ও পদাধিকারীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উপস্থিত থাকার কথা দলের প্রদেশ প্রভারী বিনোদ তাওড়ে, উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য এবং ব্রজেশ পাঠকের।
এ ছাড়াও বৈঠকে অংশ নেবেন সাংসদ, বিধায়ক, বিধান পরিষদের সদস্য এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন ও ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নেতারা। আঞ্চলিক সভাপতি, জেলাস্তরের সভাপতি, জেলা মহাসচিব, মেয়র, জেলা পঞ্চায়েত সভাপতি এবং দলের বিভিন্ন মোর্চার পদাধিকারীরাও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।
অমিত শাহের লখনউ সফরকে বিজেপির মিশন ২০২৭-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে সরকারি প্রকল্প ও কর্মসূচির প্রচার এবং দুর্বল বুথগুলিতে দলের সাংগঠনিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
প্রদেশ কার্যসমিতির বৈঠকে কোন কোন রাজনৈতিক প্রস্তাব অনুমোদিত হয় এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কী ধরনের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়, সেদিকে নজর রয়েছে।











