কর্ণাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার পর প্রকাশিত পরিসংখ্যানে সম্ভাব্য ৬৪.৫ লক্ষ যোগ্য ভোটারের ঘাটতির ইঙ্গিত মিলেছে। একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য ঘাটতির মধ্যে প্রায় ৩৮.৪১ লক্ষ মানুষ ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সি। ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা এবং রাজ্যের আনুমানিক জনসংখ্যার তুলনা করে এই হিসাব করা হয়েছে।
কর্ণাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর SIR প্রক্রিয়ার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৪.৫৫ কোটি নথিভুক্ত ভোটার রয়েছেন। বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৫.৫৪ কোটি।
পুরনো ও নতুন ভোটার তালিকার মধ্যে প্রায় ৯৯.৩২ লক্ষ ভোটারের পার্থক্য রয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি সংশোধন প্রক্রিয়ার আগে ও পরে নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যার হ্রাস নির্দেশ করে। অন্যদিকে, ৬৪.৫ লক্ষের হিসাবটি রাজ্যের আনুমানিক প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার সঙ্গে ভোটার তালিকার তুলনার ভিত্তিতে তৈরি। ফলে দুটি পরিসংখ্যান একই বিষয় নির্দেশ করে না।
কর্ণাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর রাজ্যে ভোটার-জনসংখ্যা অনুপাত (Elector-to-Population Ratio) ৬৬.১১ শতাংশ বলে জানিয়েছে। মোট নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যার সঙ্গে রাজ্যের আনুমানিক মোট জনসংখ্যার তুলনা করে এই অনুপাত নির্ধারণ করা হয়। এই হিসাবের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সি শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত থাকে, যাঁরা ভোটদানের যোগ্য নন।
জনসংখ্যার অনুমান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কর্ণাটকের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৬.৮৯ কোটি এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সি জনসংখ্যা প্রায় ৫.১৯ কোটি। এই প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার সঙ্গে ভোটার তালিকার তুলনা করে প্রায় ৬৪.৫ লক্ষের সম্ভাব্য ব্যবধান নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এই ব্যবধানের অর্থ এই নয় যে SIR প্রক্রিয়ায় ৬৪.৫ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে এমন নাগরিকও থাকতে পারেন, যাঁরা আগে কখনও ভোটার হিসেবে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেননি।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৬৪.৫ লক্ষের সম্ভাব্য ব্যবধানের মধ্যে প্রায় ৩৮.৪১ লক্ষ মানুষ ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সি। মোট সম্ভাব্য ব্যবধানের প্রায় ৫৯.৫ শতাংশ এই বয়সের নাগরিকদের নিয়ে গঠিত।
বিশেষ করে ১৮ ও ১৯ বছর বয়সি নাগরিকদের পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। রাজ্যে এই বয়সের আনুমানিক জনসংখ্যা প্রায় ২০.৬৬ লক্ষ। অথচ ভোটার তালিকায় এই বয়সের মাত্র ৬.৮৩ লক্ষ মানুষের নাম রয়েছে। সেই হিসাবে এই বয়সের নাগরিকদের মধ্যে ভোটার হিসেবে নথিভুক্তির হার প্রায় ৩৩.১ শতাংশ। অর্থাৎ, আনুমানিক জনসংখ্যার তুলনায় এই বয়সের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত নেই।
কর্ণাটকে SIR প্রক্রিয়া শুরুর আগে, ২০২৬ সালের ১৬ জুন, রাজ্যে নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫.৫৪ কোটির বেশি। এরপর ২৪ আগস্ট প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় প্রায় ৪.৪৬ কোটি নাম ছিল। সেই পর্যায়ে প্রায় ১.০৮ কোটি নাম কমে যায়।
সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত এবং একাধিকবার নথিভুক্ত ভোটারদের বিভিন্ন শ্রেণিতে চিহ্নিত করা হয়। দাবি ও আপত্তি জানানোর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকায় নিট ৮.৬৪ লক্ষ নাম বৃদ্ধি পায়। তা সত্ত্বেও, SIR শুরুর আগের তুলনায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৯৯.৩২ লক্ষ কম রয়েছে।
ভারতে ভোট দেওয়ার জন্য যোগ্য নাগরিকের নাম সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকায় থাকা বাধ্যতামূলক। শুধুমাত্র ভোটার পরিচয়পত্র থাকলেই ভোট দেওয়া যায় না। বর্তমান ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভোট দিতে পারবেন না।
ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হল ভুল, দ্বৈত এবং অযোগ্য নথিভুক্তি চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া। একই সঙ্গে, এই প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের নাম যাতে তালিকায় থাকে, তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কর্ণাটকের পরিসংখ্যান নতুন ভোটারদের নথিভুক্তি এবং ভোটার তালিকার নির্ভুলতা যাচাইয়ের বিষয়টি সামনে এনেছে।
কর্ণাটকের নাগরিকরা ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের সরকারি ভোটার পরিষেবা পোর্টালে নিজেদের নাম যাচাই করতে পারেন। এ জন্য ভোটার পরিচয়পত্রের নম্বর অথবা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করা যায়। কোনও যোগ্য নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় না থাকলে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী ফর্ম-৬ জমা দিয়ে নতুন করে নথিভুক্তির আবেদন করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ৬৪.৫ লক্ষের সম্ভাব্য ঘাটতির হিসাবটি জনসংখ্যার অনুমানের ভিত্তিতে তৈরি। এটি কোনও তদন্তে ব্যক্তিগতভাবে শনাক্ত হওয়া অনুপস্থিত ভোটারের সংখ্যা নয়।











