বারাণসী-সহ পূর্বাঞ্চলের একাধিক জেলায় প্রবল হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি, ক্ষতিগ্রস্ত ধান ও শীতকালীন সবজির চাষ

উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলে ২৯ অক্টোবর প্রবল হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিতে ধানের ফসল জমিতে হেলে পড়েছে এবং শীতকালীন সবজির চাষ প্রভাবিত হয়েছে। বারাণসীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক থেকে দু’দিন মেঘের আনাগোনা অব্যাহত থাকতে পারে।

উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলে বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, সকাল থেকে প্রবল হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হয়েছে। বারাণসী-সহ চন্দৌলি, গাজিপুর, জৌনপুর, আজমগড়, মউ, বলিয়া, সোনভদ্র, মির্জাপুর ও ভদোহি জেলায় আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে এই অসময়ের বৃষ্টিতে কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় জমিতে ধানের ফসল হেলে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি শীতকালীন সবজির চাষও প্রভাবিত হয়েছে।

গত দু’দিন ধরে পূর্বাঞ্চলের আকাশে মেঘের আনাগোনা ছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বারাণসীতে আকাশ মেঘে ঢাকা ছিল এবং হাওয়া বইছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। কয়েকটি স্থানে প্রবল হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বারাণসী ছাড়াও চন্দৌলি, গাজিপুর, জৌনপুর, আজমগড়, মউ, বলিয়া, সোনভদ্র, মির্জাপুর ও ভদোহিতে মেঘলা আবহাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির খবর পাওয়া গিয়েছে। বৃষ্টির জেরে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়েছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে কৃষিক্ষেত্রে।

পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে ধানের ফসল পরিপক্ব হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। অনেক কৃষক ফসল কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সময় বৃষ্টি ও প্রবল হাওয়ার কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বেড়েছে।

বৃহস্পতিবারের বৃষ্টির সময় বিভিন্ন স্থানে ধানের গাছ জমিতে হেলে পড়েছে। এর ফলে কৃষকদের উদ্বেগ বেড়েছে। জমিতে পড়ে যাওয়া ধান কাটতে সমস্যা হতে পারে। পাশাপাশি জমিতে দীর্ঘ সময় জল জমে থাকলে ধানের গুণমানও প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যেসব কৃষকের ধান কাটার জন্য প্রস্তুত, তাঁদের এখন আবহাওয়া পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষা করতে হতে পারে। বৃষ্টির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মোট পরিমাণ সম্পর্কে এখনও কোনও সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

বারাণসী-সহ পূর্বাঞ্চলের একাধিক জেলায় প্রবল হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি, ক্ষতিগ্রস্ত ধান ও শীতকালীন সবজির চাষ

ধানের পাশাপাশি শীতকালীন সবজি চাষিরাও সমস্যার মুখে পড়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় শীতকালীন সবজির চাষ শুরু হয়েছে এবং জমিতে ছোট গাছ বেড়ে উঠছে।

হঠাৎ প্রবল বৃষ্টির কারণে এই গাছগুলির ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে নিচু জমিতে জল জমে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃষ্টির প্রভাব কতটা পড়বে, তা আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা বৃষ্টি চলতে থাকলে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

বৃষ্টির আগে বারাণসীতে দিনের সর্বোচ্চ ও রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ছিল। গত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.১ ডিগ্রি বেশি।

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪ ডিগ্রি বেশি ছিল।

এই সময় বাতাসের সর্বনিম্ন আর্দ্রতা ছিল ৬৭ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ। আকাশে মেঘের উপস্থিতি ও আর্দ্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে আবহাওয়ার পরিবর্তন অব্যাহত ছিল।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পূর্বাঞ্চলে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সম্ভাবনা ছিল। এর পরেও আগামী এক থেকে দু’দিন আকাশে মেঘের আনাগোনা অব্যাহত থাকতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের আবহাওয়ার দিকে নজর রাখতে হবে। যেসব জমিতে ধানের ফসল কাটার জন্য প্রস্তুত, সেখানে বৃষ্টি ও প্রবল হাওয়ার কারণে সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। সবজি চাষিদেরও জমিতে জল জমছে কি না, সে দিকে নজর দিতে হবে। প্রয়োজন হলে জমি থেকে জল বের করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

বারাণসী-সহ পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দাদেরও খারাপ আবহাওয়ার সময় খোলা জায়গায় যাওয়া এবং প্রবল হাওয়ার মধ্যে গাছের নিচে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

Leave a comment