SIR মামলা সুপ্রিম কোর্টে আজ শুনানি রাহুল গান্ধী-সহ ১১ বিরোধী নেতার আবেদনে জবাব নির্বাচন কমিশনের

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে ২৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে শুনানি। রাহুল গান্ধী-সহ ১১ বিরোধী নেতার আবেদনের জবাবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, SIR-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত তিন নির্বাচন কমিশনারের সম্মতিতে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) সংক্রান্ত একাধিক আবেদনের শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলির শুনানি করবে। শুনানির আগে নির্বাচন কমিশন আদালতে হলফনামা জমা দিয়ে জানিয়েছে, SIR সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি তিন নির্বাচন কমিশনারের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছিল।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে-সহ ১১ জন বিরোধী নেতা ১২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে যৌথ আবেদন জমা দেন। সেখানে নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী এবং ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা ও বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায়, শিবসেনার উদ্ধব গোষ্ঠীর সঞ্জয় রাউত, সিপিএমের এম এ বেবি এবং সিপিআইয়ের ডি রাজা।

এ ছাড়াও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাঝি, এনসিপির শরদ পওয়ার গোষ্ঠীর সুপ্রিয়া সুলে এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের ই টি মহম্মদ বশির আবেদনকারীদের তালিকায় রয়েছেন।

বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত নথি ও রেকর্ড আদালতে তলব করার আর্জি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা। একই সঙ্গে SIR প্রক্রিয়ার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারির আবেদনও করা হয়েছে।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, শুনানির এক দিন আগে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেয় নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা অস্বীকার করেছে কমিশন।

হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জুন, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে জারি করা SIR-সংক্রান্ত নির্দেশগুলি তিন সদস্যের সম্মতিতে অনুমোদিত হয়েছিল।

কমিশন জানিয়েছে, সাধারণ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ফাইল দুই নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে পৌঁছয়। জরুরি ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অনুমোদন নেওয়া হয় এবং পরে তা ফাইলে নথিভুক্ত করা হয়।

কমিশনের আরও বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট আবেদনে তোলা অভিযোগগুলির মূল ভিত্তি একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন। কমিশনের মতে, এই অভিযোগগুলি আবেদনের পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি তৈরি করে না। সেই কারণে আবেদন খারিজ করার আর্জি জানিয়েছে তারা।

SIR মামলা সুপ্রিম কোর্টে আজ শুনানি রাহুল গান্ধী-সহ ১১ বিরোধী নেতার আবেদনে জবাব নির্বাচন কমিশনের

ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আনার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী পক্ষ। নির্বাচন কমিশনের দাবি, এই ফর্মে কোনও আইনি সংশোধন করা হয়নি।

কমিশনের ব্যাখ্যা, SIR প্রক্রিয়ায় যে অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র চাওয়া হচ্ছে, সেটি ফর্ম ৬ থেকে আলাদা। আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের তথ্য পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখাই এই ঘোষণাপত্রের উদ্দেশ্য।

কমিশন স্বীকার করেছে, অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে দুটি নথি যেভাবে দেখানো হচ্ছিল, তাতে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই কারণে ২১ অক্টোবর থেকে অনলাইন প্রক্রিয়ায় দুটি নথি আলাদা করে দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে যাঁদের তথ্যের সংযোগ স্থাপন করা যায়নি, তাঁদের সাধারণভাবে ব্যক্তিগত শুনানির জন্য দফতরে ডাকার প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের বক্তব্য, এই ধরনের ভোটারের বাড়িতে গিয়ে বুথ লেভেল অফিসার বা BLO প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। সম্ভব হলে সেই শুনানি অনলাইন মাধ্যমেও পরিচালিত হবে।

কমিশন আরও স্পষ্ট করেছে, নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO)-এর নির্দেশ ছাড়া কোনও ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা বা বাদ দেওয়া যাবে না।

SIR-সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা, নির্বাচন কমিশনের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার নিয়মের মতো বিষয়গুলি বিবেচনায় আসবে।

বিরোধী নেতারা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলির আইনি পর্যালোচনা চেয়েছেন। অন্যদিকে, কমিশন হলফনামায় তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে অভিযোগগুলি খারিজ করার আবেদন জানিয়েছে।

শুনানিতে দুই পক্ষের বক্তব্য আদালতের সামনে উপস্থাপিত হবে। বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলির পরবর্তী আইনি পর্যালোচনা এবং ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত আবেদনগুলির বিষয়ে আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

 

Leave a comment