উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের ১১টি আসনের ভোটগণনা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে। পাঁচটি স্নাতক এবং ছয়টি শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রের ভোট গণনার জন্য লখনউ, বারাণসী, আগ্রা, মিরাট, ঝাঁসি, বেরেলি ও গোরক্ষপুরে কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। সাতটি শহরের সমস্ত গণনাকেন্দ্রে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। নির্বাচনে মোট ১৫২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদ নির্বাচনের ভোটগণনার জন্য সাতটি শহরে পৃথক কেন্দ্র নির্ধারণ করেছে প্রশাসন। শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গণনাকেন্দ্রগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভিডিয়োগ্রাফির ব্যবস্থা রয়েছে। অনুমতি ছাড়া কাউকে গণনাকেন্দ্রের চত্বরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিভিন্ন কেন্দ্রে পুলিশকর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে।
লখনউয়ে রমাবাই আম্বেদকর র্যালি ময়দানে ভোটগণনা চলছে। অন্যদিকে, গোরক্ষপুরে গণনাকেন্দ্রের আশপাশে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
বারাণসীর পাহাড়িয়া মান্ডিতে স্নাতক ও শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রের ভোটগণনা শুরু হয়েছে। দুটি নির্বাচনের জন্য পৃথকভাবে ১৫টি করে টেবিল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, মোট ৩০টি টেবিলে ভোট গণনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গণনার কাজে মোট ২২৪ জন কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রে নিরাপত্তার পাশাপাশি গণনা প্রক্রিয়ার উপর নজরদারির ব্যবস্থাও রয়েছে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে প্রতিটি পর্যায়ের ভোটগণনা সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে প্রশাসন।
আগ্রা, মিরাট, ঝাঁসি ও বেরেলিতেও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী ক্ষেত্রগুলির ভোট গণনা চলছে। গণনা শেষ হয়ে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হলে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে।
লখনউ স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্রের বিজেপি প্রার্থী অবনীশ কুমার সিং ভোটগণনা শুরু হওয়ার পর জয়ের আশা প্রকাশ করেছেন।
![]()
তাঁর বক্তব্য, ভোটগ্রহণের সময় বিজেপি কর্মীরা পরিশ্রম করেছেন এবং বিপুল সংখ্যক ভোটদাতা দলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
ভগবান রাম ও হনুমানজির আশীর্বাদের কথা উল্লেখ করেও জয়ের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন অবনীশ কুমার সিং। তবে তাঁর জয়ের দাবি গণনার চূড়ান্ত ফলাফলের উপর নির্ভরশীল।
উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের এই ১১টি আসনে গত ২৩ অক্টোবর ভোটগ্রহণ হয়েছিল। পাঁচটি স্নাতক এবং ছয়টি শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্র মিলিয়ে মোট ১৫২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ভোটগ্রহণে মোট ভোটদানের হার ছিল ৫৫.২৪ শতাংশ। গোরক্ষপুর-ফৈজাবাদ শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রে সর্বাধিক ৭৯.০১ শতাংশ ভোট পড়ে।
স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্রগুলির মধ্যে আগ্রায় প্রায় ৫১ শতাংশ ভোটদাতা ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে, লখনউ স্নাতক আসনে ভোটদানের হার ছিল সর্বনিম্ন ৩৮.০২ শতাংশ।
গোরক্ষপুর-ফৈজাবাদ শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রে ভোটগণনার এক দিন আগে পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে পরিবর্তন আনে নির্বাচন কমিশন।
২০০৭ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক অভয় সিংকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে রিজার্ভে রাখা হয়। তাঁর পরিবর্তে ২০০৯ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক প্রকাশ বিন্দুকে নতুন পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
গণনা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখা এবং নির্বাচনী নিয়মাবলি মেনে কাজ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব।
উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের ১১টি আসনে বিজেপি ও সমাজবাদী পার্টি প্রার্থী দিয়েছে। কয়েকটি নির্বাচনী ক্ষেত্রে নির্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিধান পরিষদের এই ফলাফল দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ভোটগ্রহণের সময় কয়েকটি জেলা থেকে রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ভোটদানে অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছিল।
বর্তমানে ভোটগণনা চলছে। উপলব্ধ নিশ্চিত প্রতিবেদনগুলিতে এখনও পর্যন্ত ১১টি আসনের সব কটির চূড়ান্ত বিজয়ীর তালিকা প্রকাশিত হয়নি।









