অযোধ্যার রামমন্দিরে শারদ পূর্ণিমার বিশেষ পূজা, মধ্যরাতে রামলালাকে ক্ষীর নিবেদন

অযোধ্যার রামজন্মভূমি মন্দিরে ২৫ অক্টোবর শারদ পূর্ণিমা উপলক্ষে বিশেষ পূজা, রামলালার সাজসজ্জা ও মধ্যরাতে ক্ষীরের ভোগ নিবেদন করা হয়। ২৬ অক্টোবর মন্দির চত্বরে মহর্ষি বাল্মীকি জয়ন্তী পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

অযোধ্যার রামজন্মভূমি মন্দিরে রবিবার, ২৫ অক্টোবর, শারদ পূর্ণিমা উপলক্ষে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিন রামলালার বিশেষ পূজা ও সাজসজ্জা সম্পন্ন হয়। সন্ধ্যারতি শেষে গর্ভগৃহ থেকে রামলালার চল বিগ্রহ বাইরে এনে নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতি মেনে পূজা করা হয়। মধ্যরাতে তাঁকে ক্ষীরের বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়। মন্দির চত্বরে প্রচলিত পদগায়নেরও আয়োজন ছিল। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

রবিবার সকাল থেকেই অযোধ্যার রামজন্মভূমি মন্দির চত্বরে ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু হয়। শারদ পূর্ণিমা উপলক্ষে রামলালার বিশেষ সাজসজ্জা করা হয় এবং নির্ধারিত পূজাপদ্ধতি অনুসারে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।

শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করা হয়েছিল। পূজার পাশাপাশি ভজন ও প্রচলিত পদগায়নের ব্যবস্থা করা হয়। শারদ পূর্ণিমার রাতে ভগবানকে ক্ষীর নিবেদনের প্রথাও পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মন্দিরের পুরোহিত এবং ট্রাস্টের আধিকারিকেরা অংশ নেন। বিশেষ পূজার পাশাপাশি মন্দিরের নিয়মিত ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকেও নজর দেওয়া হয়।

রামমন্দিরের ধর্মীয় ব্যবস্থাপনার প্রধান ইন্দ্রদেব মিশ্র জানান, শারদ পূর্ণিমার অনুষ্ঠান উপলক্ষে সন্ধ্যারতির পর রামলালার চল বিগ্রহ গর্ভগৃহ থেকে বাইরে আনা হয়।

এরপর মন্দিরের উত্তর দিকে অবস্থিত একটি চবুতরায় বিগ্রহটি স্থাপন করা হয়। সেখানে অর্চকেরা বিশেষ পূজা পরিচালনা করেন এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। মন্দিরের প্রচলিত রীতি অনুসারে, খোলা আকাশের নিচে ভগবানকে প্রতিষ্ঠা করে ভোগ নিবেদন করা হয়।

এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অর্চক প্রধান আচার্য কেশব শর্মা-সহ মন্দিরের অন্যান্য পুরোহিত উপস্থিত ছিলেন। ট্রাস্টের আধিকারিকেরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

হিন্দু ধর্মে শারদ পূর্ণিমার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে চাঁদ তার ১৬টি কলায় পূর্ণ থাকে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, শারদ পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় অমৃতের মতো গুণ রয়েছে।

অযোধ্যার রামমন্দিরে শারদ পূর্ণিমার বিশেষ পূজা, মধ্যরাতে রামলালাকে ক্ষীর নিবেদন

এই বিশ্বাস থেকেই বহু বাড়ি ও মন্দিরে দুধ ও চাল দিয়ে ক্ষীর তৈরি করা হয়। ক্ষীর কিছু সময়ের জন্য খোলা আকাশের নিচে চাঁদের আলোয় রাখা হয়। পরে তা ভগবানকে নিবেদন করে প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

অযোধ্যার রামমন্দিরেও এই প্রথা অনুসরণ করা হয়। মধ্যরাতে রামলালাকে বিশেষ ক্ষীরের ভোগ নিবেদন করা হয়। ক্ষীরের পাশাপাশি অন্যান্য পদও ভগবানের উদ্দেশে নিবেদন করা হয়।

শারদ পূর্ণিমার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রামমন্দির ট্রাস্টের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ট্রাস্টি মহন্ত দিনেন্দ্রদাস, ড. নির্মলা যাদব এবং মন্দিরের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র।

অর্চক প্রধান আচার্য কেশব শর্মা-সহ অন্যান্য পুরোহিত পূজার দায়িত্ব সামলান। অনুষ্ঠান চলাকালীন ট্রাস্টের কর্মী এবং নিরাপত্তা আধিকারিকেরাও উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনের কথা মাথায় রেখে মন্দির চত্বরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠান চলাকালীন শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের আগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছিল মন্দির প্রশাসন।

শারদ পূর্ণিমার অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সোমবার, ২৬ অক্টোবর, রামজন্মভূমি চত্বরে মহর্ষি বাল্মীকির জয়ন্তী পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এই উপলক্ষে চত্বরে অবস্থিত মহর্ষি বাল্মীকি মন্দির বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাল্মীকি সমাজের সাধুসন্ত, বিশিষ্ট প্রতিনিধি এবং শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের আধিকারিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বাল্মীকি জয়ন্তী উপলক্ষে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ট্রাস্টি ড. নির্মলা যাদবকে। তাঁর তত্ত্বাবধানে পূজা-অর্চনা এবং অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

মহর্ষি বাল্মীকিকে রামায়ণের রচয়িতা হিসেবে মানা হয়। ভগবান রামের জীবনকে কেন্দ্র করে রচিত এই মহাকাব্যের সঙ্গে অযোধ্যার বিশেষ ধর্মীয় সম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণে রামজন্মভূমি চত্বরে মহর্ষি বাল্মীকির জয়ন্তী পালনেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

 

Leave a comment