তেলেঙ্গানায় ২০২৮ সালে এককভাবে সরকার গঠনের দাবি বিজেপি সাংসদ ধর্মপুরী অরবিন্দের

তেলেঙ্গানার ২০২৮ সরকার গঠন করবে বলে দাবি করেছেন সাংসদ ধর্মপুরী অরবিন্দ। কংগ্রেস ও BRS-এর মধ্যে গোপন সমঝোতা, মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডি এবং কালেশ্বরম প্রকল্প নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। Is this conversation helpful so far?

নিজামাবাদের বিজেপি সাংসদ ধর্মপুরী অরবিন্দ দাবি করেছেন, ২০২৮ সালের তেলেঙ্গানা বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল এককভাবে সরকার গঠন করবে। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬-এ আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি কংগ্রেস ও ভারত রাষ্ট্র সমিতি (BRS)-এর মধ্যে গোপন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এ. রেভন্ত রেড্ডি এবং BRS নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ধর্মপুরী অরবিন্দ স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করবে না। তাঁর বক্তব্য, দল রাজ্যে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে এবং নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তেলেঙ্গানায় বিজেপির রাজনৈতিক তৎপরতা কমে গিয়েছে বলে যে আলোচনা চলছে, তা-ও খারিজ করেছেন তিনি। অরবিন্দের দাবি, দল নিষ্ক্রিয় নয়; বরং ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজেপি সাংসদ দাবি করেন, ২০২৮ সালের নির্বাচনে তেলেঙ্গানায় গেরুয়া ঢেউ দেখা যাবে। তাঁর ভাষায়, রাজ্যে ‘গেরুয়া সুনামি’ আসবে এবং কংগ্রেস ও BRS—দুই দলকেই নির্বাচনে পরাজয়ের মুখে পড়তে হবে।

সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেস ও BRS-এর পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ধর্মপুরী অরবিন্দ। তাঁর অভিযোগ, দুই দলের মধ্যে পর্দার আড়ালে গোপন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

অরবিন্দের দাবি, সম্ভাব্য এই সমঝোতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা মুখ্যমন্ত্রী এ. রেভন্ত রেড্ডি। তাঁর আরও অভিযোগ, দুই দলের কিছু নেতা পরস্পরকে রাজনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।

তবে কংগ্রেস ও BRS-এর মধ্যে এমন কোনও গোপন সমঝোতার পক্ষে কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। বিষয়টি আপাতত বিজেপি সাংসদের রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী এ. রেভন্ত রেড্ডির কাজকর্ম নিয়েও দাবি করেছেন ধর্মপুরী অরবিন্দ। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মুখ্যমন্ত্রীর কাজকর্মে সন্তুষ্ট নয়।

অরবিন্দের দাবি, রেভন্ত রেড্ডিকে নিয়ে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে অসন্তোষ রয়েছে এবং আগামী দিনে তার প্রভাব রাজ্যের রাজনীতিতে পড়তে পারে। তাঁর মতে, দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য কংগ্রেসকে দুর্বল করতে পারে।

তবে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে এই অসন্তোষের কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বর্তমানে তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসের সরকার রয়েছে এবং BRS বিরোধী দলে রয়েছে। বিজেপি এই দুই দলের বিরুদ্ধে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

তেলেঙ্গানার পূর্ববর্তী BRS সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন ধর্মপুরী অরবিন্দ। বিশেষ করে কালেশ্বরম লিফট সেচ প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত সিদ্ধান্ত ও কাজকর্মে অনিয়মের অভিযোগ করেন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে. চন্দ্রশেখর রাও এবং তাঁর দলের নেতাদের নিশানা করেন।

কালেশ্বরম প্রকল্প তেলেঙ্গানার অন্যতম প্রধান সেচ প্রকল্প। গোদাবরী নদীর জল বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই প্রকল্পটিতে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আসছে। তবে অরবিন্দের অভিযোগকে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না

BRS-এর কার্যকরী সভাপতি কে.টি. রামা রাও (KTR)-কে নিয়েও মন্তব্য করেন ধর্মপুরী অরবিন্দ। KTR-এর দাড়ি নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, শুধু দাড়ি বাড়ালেই কেউ মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যান না।

BRS-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, অনলাইনে নিজেদের ভাবমূর্তি উন্নত করার চেষ্টা করছে BRS। তবে এই প্রচারের মাধ্যমে জনমত বদলানো সম্ভব হবে না বলে দাবি করেন তিনি।

অরবিন্দের বক্তব্য, রাজনীতিতে পদ অর্জনের জন্য শুধু প্রচার যথেষ্ট নয়; জনসমর্থন এবং নির্বাচনে জয়ও প্রয়োজন।

ধর্মপুরী অরবিন্দের বক্তব্য অনুযায়ী, তেলেঙ্গানায় বিজেপির লক্ষ্য এককভাবে সরকার গঠন করা। অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থনের উপর নির্ভর না করে নিজেদের প্রার্থী ও সাংগঠনিক শক্তির ভিত্তিতে নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

তিনি আরও দাবি করেন, কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য বাড়তে পারে এবং BRS-কে রাজ্যে নিজেদের আগের রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে।

তেলেঙ্গানায় পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন এখনও বাকি। নির্বাচনের আগে বিজেপি সাংসদের এই দাবিগুলির বিষয়ে কংগ্রেস ও BRS কী প্রতিক্রিয়া জানায়, তা-ও রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।

Leave a comment