BNSS-এর অধীনে ১০ হাজার টাকার বন্ডের নোটিস চ্যালেঞ্জ, নেহা বোরা-র মামলায় শুক্রবার রায়

AISA সভাপতি নেহা বোরা BNSS-এর ১২৬ ও ১৩০ ধারার অধীনে জারি ১০,০০০ টাকার বন্ডের নোটিসকে দিল্লি হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছেন। পুলিশ ও আবেদনকারীর আইনজীবীদের যুক্তি শোনার পর আদালত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় রায় ঘোষণা করবে।

দিল্লি হাইকোর্টে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর সভাপতি নেহা বোরা-র আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর অধীনে ১০,০০০ টাকার বন্ড জমা দেওয়া এবং শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ সংক্রান্ত স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের জারি করা নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করেছেন তিনি। শুনানিতে ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকা, প্রতিবাদের অধিকার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীরা নিজেদের বক্তব্য পেশ করেন। আদালত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় রায় ঘোষণা করবে।

দিল্লি হাইকোর্টে নেহা বোরা-র পক্ষে আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৩০ ধারার অধীনে জারি করা নোটিসের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, নেহা বোরা AISA-র সক্রিয় নেত্রী এবং সরকারের নীতিতে পরিবর্তনের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষকে প্রতিবাদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল, তবে কাউকে হিংসায় উসকানি দেওয়ার কথা বলা হয়নি।

নেহা বোরা-র আইনজীবীর দাবি, তাঁর প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলি শান্তিপূর্ণ ছিল। সরকারের নীতির সমালোচনা করা বা প্রতিবাদ জানানোকে একা শান্তিভঙ্গের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। শুধু প্রতিবাদে অংশ নেওয়া বা স্লোগান দেওয়ার উল্লেখ পুলিশের পদক্ষেপের পক্ষে যথেষ্ট নয় বলেও আদালতে যুক্তি দেন তিনি।

নেহা বোরা-র আইনজীবী আদালতকে জানান, ১৫ অক্টোবর প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক বৈঠক হয়েছিল। তার পরের দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়, যেখানে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে যন্তর মন্তরের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই পোস্টে মানুষকে বিকেল ৪টের মধ্যে মান্ডি হাউসে পৌঁছনোর আহ্বান জানানো হয়।

আইনজীবীর বক্তব্য, ওই বার্তায় কোথাও হিংসা, আইন ভাঙা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার আহ্বান জানানো হয়নি। তাঁর মতে, মানুষকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানানো এবং কোনও বেআইনি কাজের জন্য উসকানি দেওয়া দুটি পৃথক বিষয়। এই যুক্তিতেই তিনি নোটিস জারির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

গোপাল শঙ্কর নারায়ণ আদালতে বলেন, ১৬ অক্টোবর মান্ডি হাউসে পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই নেহা বোরা-কে আটক করা হয়। তাঁর দাবি, সেই সময় নেহা বোরা কয়েকটি স্লোগান দিয়েছিলেন, কিন্তু এমন কোনও কাজ করেননি যা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, আটক করার পর রাতে নেহা বোরা-কে আরকে পুরম থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর পরিবার এবং অন্যরা জানতে পারেননি যে তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে বেআইনি বলে দাবি করে আদালতের হস্তক্ষেপ চান নেহা বোরা-র পক্ষের আইনজীবী।

শুনানিতে আদালত প্রশ্ন তোলে, BNSS-এর অধীনে শান্তি বজায় রাখার জন্য বন্ড জমা দেওয়ার নোটিস জারির আগে ম্যাজিস্ট্রেটের প্রাপ্ত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা উচিত কি না।

আদালত জানতে চায়, কোনও আধিকারিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সত্যিই সেই স্থানে উপস্থিত ছিলেন কি না এবং তাঁর বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য সঠিক কি না, তা ম্যাজিস্ট্রেটের যাচাই করা উচিত কি না। আদালত আরও প্রশ্ন করে, একই দিনের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অন্য কোথাও উপস্থিত থাকার তথ্য থাকলে সেই দিকটিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন কি না।

আবেদনে নোটিস জারির প্রক্রিয়া এবং তার ভিত্তি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। সেই কারণে তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি শুনানিতে গুরুত্ব পায়।

দিল্লি পুলিশের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (ASG) চেতন শর্মা বলেন, শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা কেবল প্রচলিত কোনও অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তির কার্যকলাপের ফলে জনশান্তি বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

তাঁর যুক্তি, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে থাকা তথ্য এবং পরিস্থিতির ভিত্তিতে মতামত গঠনের অধিকার রয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, এই ধরনের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং সম্ভাব্য উত্তেজনা এবং আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা প্রতিরোধ করা।

শুনানিতে ASG চেতন শর্মা দাবি করেন, নেহা বোরা-র সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনাগুলিতে ১২ বার নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে। এই দাবির সমর্থনে তিনি আগের ঘটনাবলি এবং নথির উল্লেখ করেন। তবে এটি আদালতে পুলিশের পেশ করা যুক্তি; একে আদালতের কোনও বিচারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাবে না।

ASG একটি সাংবাদিক বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সেখানে ক্ষমতার পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছিল এবং নেহা বোরা-ও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এই প্রসঙ্গে নেহা বোরা-র আইনজীবী বলেন, গণতন্ত্রে সরকারের পরিবর্তনের দাবি জানানো ভুল নয়। আদালত প্রশ্ন তোলে, মামলার নিষ্পত্তির জন্য এই বিতর্কে প্রবেশ করা প্রয়োজন কি না।

জবাবে ASG চেতন শর্মা বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়া উচিত। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে মানুষের জমায়েতের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রভাবিত হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। শান্তি বজায় রাখার জন্য বন্ড জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার পক্ষে এই যুক্তি তুলে ধরে পুলিশ।

নোটিস জারির আগে ম্যাজিস্ট্রেট স্বাধীনভাবে বিবেচনা করেছিলেন কি না, সেই প্রশ্নে ASG জনারেল ডায়েরিতে নথিভুক্ত এন্ট্রি, আগের FIR এবং সংশ্লিষ্ট নথির উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, তদন্তকারী আধিকারিককেও ডেকে পাঠানো হয়েছিল এবং তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল।

দিল্লি হাইকোর্ট শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় এই মামলায় রায় ঘোষণা করবে।

Leave a comment