শুক্রবার দুর্বল আন্তর্জাতিক বাজারের ইঙ্গিত সত্ত্বেও ভারতীয় শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে লেনদেন শুরু করে। টানা তিনটি লেনদেনের দিনে পতনের পর সেনসেক্স ও নিফটি ৫০ সূচকে প্রাথমিক বৃদ্ধি দেখা যায়। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে কেনাকাটা বাজারের সূচকগুলিকে সহায়তা করে। টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (TCS), ইনফোসিস এবং এইচসিএল টেকনোলজিসের শেয়ার প্রাথমিক লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ভারতী এয়ারটেলের শেয়ারেও বৃদ্ধি দেখা যায়।
তবে সূচকগুলির উত্থান সত্ত্বেও বৃহত্তর শেয়ারবাজারে চাপ বজায় ছিল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দরপতনের মুখে থাকা শেয়ারের সংখ্যা দরবৃদ্ধি হওয়া শেয়ারের তুলনায় বেশি ছিল। ফলে বাজারের কেনাকাটা মূলত কয়েকটি বড় সংস্থা এবং বিশেষত তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের শেয়ারে সীমাবদ্ধ ছিল।
শুক্রবার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স ৪৩৪.৭৬ পয়েন্ট বা ০.৫৯ শতাংশ বেড়ে ৭৩,৬৮৪.১৫ স্তরে খোলে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি ৫০ প্রাথমিক লেনদেনে ৭৫.৭০ পয়েন্ট বা ০.৩৩ শতাংশ বেড়ে ২২,৭৬৩.৩৫ স্তরে পৌঁছয়।
বাজার খোলার প্রাথমিক তথ্যে ৮৪৮টি শেয়ারের দরবৃদ্ধি হয়, যেখানে ৯৭১টি শেয়ার দরপতনের সঙ্গে লেনদেন করছিল। আরও ১৭৬টি শেয়ারের দরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। ফলে প্রধান সূচকগুলি ঊর্ধ্বমুখী হলেও সামগ্রিক বাজারের প্রবণতা পুরোপুরি ইতিবাচক ছিল না।
আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দুর্বল ইঙ্গিত আসা সত্ত্বেও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটা প্রাথমিক লেনদেনে সূচকগুলিকে সহায়তা করে। তবে দিনের বাকি সময়ে বাজারের গতিপথ আন্তর্জাতিক বাজারের ইঙ্গিত, বিভিন্ন ক্ষেত্রের পারফরম্যান্স এবং শেয়ারে কেনাবেচার প্রবণতার দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।
![]()
প্রাথমিক লেনদেনে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র বাজারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল। নিফটি আইটি সূচক ২.৩৮ শতাংশ বেড়ে ৩২,৮৪৬.০৫ স্তরে পৌঁছয়। প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে কেনাকাটা এই ক্ষেত্রের সূচককে ঊর্ধ্বমুখী হতে সহায়তা করে। আইটি শেয়ারের দরবৃদ্ধি সেনসেক্স ও নিফটিকে সমর্থন করলেও অন্যান্য কয়েকটি ক্ষেত্রে পতন দেখা যায়।
নিফটি মেটাল ১.৬২ শতাংশ, নিফটি রিয়েলটি ১.৪২ শতাংশ, নিফটি মিডিয়া ১.২১ শতাংশ এবং নিফটি কনজিউমার ডিউরেবলস ১.১২ শতাংশ কমে যায়। এছাড়া নিফটি অটো ০.৮৬ শতাংশ, নিফটি পিএসইউ ব্যাঙ্ক ১.০৫ শতাংশ এবং নিফটি ব্যাঙ্ক ০.৪৫ শতাংশ নিচে লেনদেন করছিল। নিফটি এফএমসিজি ০.১৮ শতাংশ এবং নিফটি অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ০.৩৩ শতাংশ কমেছিল।
বড় সংস্থাগুলির শেয়ারের মধ্যে প্রাথমিক লেনদেনে টিসিএসের পারফরম্যান্স সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল। সংস্থাটির শেয়ারের দর ৩.৭৭ শতাংশ বেড়ে ২,৬০১.৩০ টাকায় পৌঁছয়। ইনফোসিসের শেয়ার ২.৬৪ শতাংশ বেড়ে ১,১৮৩.৮০ টাকায় লেনদেন করছিল। এইচসিএল টেকনোলজিসের শেয়ারের দরও ২.০৩ শতাংশ বেড়ে ১,৪৫০.৬০ টাকায় পৌঁছয়।
এছাড়া রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার ১.০৯ শতাংশ, ভারতী এয়ারটেলের শেয়ার ০.৯৫ শতাংশ এবং টেক মাহিন্দ্রার শেয়ার ০.৮৮ শতাংশ বাড়ে। ড. রেড্ডিস ল্যাবরেটরিজের শেয়ার ০.৭৭ শতাংশ এবং লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-র শেয়ার ০.২১ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এই শেয়ারগুলির দরবৃদ্ধি প্রধান সূচকগুলির প্রাথমিক উত্থানকে সমর্থন করে।
তথ্যপ্রযুক্তি শেয়ারের উত্থানের বিপরীতে মেটাল, অটো এবং আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে বিক্রির চাপ দেখা যায়। হিন্ডালকোর শেয়ারের দর ১.৭৬ শতাংশ এবং টাটা স্টিলের শেয়ারের দর ১.৩৮ শতাংশ কমে যায়। আদানি এন্টারপ্রাইজেসের শেয়ার ১.১০ শতাংশ নিচে ছিল।
টাইটানের শেয়ারের দর ১.০৮ শতাংশ, ম্যাক্স হেলথকেয়ারের ১.০২ শতাংশ, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রার ০.৯৮ শতাংশ এবং এইচডিএফসি লাইফের ০.৯৪ শতাংশ পতন হয়।











