কর্ণাটকে খরা মোকাবিলায় কেন্দ্রের কাছে ২০,৫৮৫.৭৩ কোটি টাকা চাইল রাজ্য সরকার

কর্ণাটক সরকার খরায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় NDRF-এর অধীনে ২০,৫৮৫.৭৩ কোটি টাকা চেয়েছে। রাজ্যে ২২৬টি তালুক খরাপ্রবণ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৫৭.৯৩ লক্ষ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কর্ণাটকে খরায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ২০,৫৮৫.৭৩ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন উপমুখ্যমন্ত্রী জি. পরমেশ্বর। রাজ্যে ২২৬টি তালুককে খরাপ্রবণ ঘোষণা করা হয়েছে। খরার কারণে মোট ৫৭.৯৩ লক্ষ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ও রাজস্বমন্ত্রী জি. পরমেশ্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে পৃথক চিঠি লিখে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল (NDRF) থেকে এই অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছেন।

রাজ্য সরকারের দাবি, ২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সময় কর্ণাটকে স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কৃষকদের আয়ের ওপর প্রভাব পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, পশুপালক ও গ্রামীণ এলাকার প্রয়োজন মেটাতে দ্রুত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

পরমেশ্বরের চিঠি অনুযায়ী, কর্ণাটকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে স্বাভাবিক ৮৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পরিবর্তে মাত্র ৫৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ফলে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশে।

রাজ্যের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৫৬ সালের পর এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন মৌসুমি বৃষ্টিপাতের বছর। অন্যদিকে, ১৯০১ সালের পর থেকে নথিভুক্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এটি সপ্তম সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাতের বছরগুলির মধ্যে রয়েছে।

কম বৃষ্টিপাতের প্রভাব পড়েছে কৃষি ও গ্রামীণ জীবিকার ওপর। রাজ্য সরকার ২২৬টি তালুককে খরাপ্রবণ ঘোষণা করেছে। মূল্যায়ন অনুযায়ী, মোট ৫৭.৯৩ লক্ষ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩.৯২ লক্ষ হেক্টর জমিতে কৃষিজ ফসল এবং ৪.০১ লক্ষ হেক্টর জমিতে উদ্যানপালন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি উৎপাদনের খরচের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬২,৪৮১.৮৮ কোটি টাকা বলে অনুমান করেছে। এই ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে কৃষক ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত্রের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো স্মারকলিপিতে কর্ণাটক সরকার মোট ২০,৫৮৫.৭৩ কোটি টাকার সহায়তা চেয়েছে। ফসলের ক্ষতি সামাল দিতে ইনপুট ভর্তুকি হিসেবে ৬,১২৮.৭০ কোটি টাকা বরাদ্দের আবেদন জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া ৬১.৯১ লক্ষ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের জীবিকা সহায়তার জন্য ১২,১৪৬.৯৯ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১,৭২৭ কোটি টাকা এবং পশুপালন ও গবাদি পশুর সুরক্ষার জন্য ৫৮৩.০৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য সরকার।

পরমেশ্বরের বক্তব্য, খরার কারণে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁদের সময়মতো আর্থিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।

জীবিকা সহায়তার হিসাব করা হয়েছে দৈনিক ৩২৭ টাকা হারে ৬০ দিনের জন্য। ফসল নষ্ট হওয়ায় যেসব কৃষকের নিয়মিত আয় ব্যাহত হয়েছে, তাঁদের সহায়তা দেওয়াই এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য।

খরার প্রভাব কৃষিক্ষেত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পানীয় জল ও পশুখাদ্যের ঘাটতির কারণে গবাদি পশুর পরিচর্যাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এই পরিস্থিতিতে কর্ণাটক সরকার ৪৭৬টি পশু শিবির স্থাপন এবং ৫৮৩টি চারা ব্যাঙ্ক তৈরির জন্য কেন্দ্রীয় সহায়তা চেয়েছে।

পশু শিবিরের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পশুপালকদের গবাদি পশুর পরিচর্যায় সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, খরার সময় পশুখাদ্যের জোগান বজায় রাখতে চারা ব্যাঙ্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ পরিবারের জীবিকার ওপর অতিরিক্ত প্রভাব এড়াতে এই ব্যবস্থাগুলিও রাজ্যের ত্রাণ প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ফসলের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ২০১৫-১৬ সালের কৃষি গণনার তথ্য ব্যবহারের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন পরমেশ্বর। তাঁর বক্তব্য, পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে যোগ্য কৃষকের সংখ্যা এবং সহায়তার প্রয়োজন নির্ধারণ করা হলে কর্ণাটক প্রায় ১,৬৬৯.৫০ কোটি টাকা কম ত্রাণ পেতে পারে।

এই কারণে কেন্দ্রীয় সরকারকে কর্ণাটকের FRUITS ডেটাবেস ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এই ব্যবস্থায় কৃষকদের নিবন্ধন এবং সুবিধাভোগীদের সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য রয়েছে। রাজ্য সরকারের মতে, এই ডেটাবেস ব্যবহার করলে যোগ্য কৃষকদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা এবং আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন নির্ধারণ করা সহজ হবে।

কর্ণাটক সরকার খরায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ত্রাণ প্রস্তাবটি দ্রুত পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। প্রস্তাবে ফসলের ক্ষতি ও কৃষকদের জীবিকা সহায়তার পাশাপাশি পানীয় জল সরবরাহ এবং পশুধনের সুরক্ষার জন্যও অর্থ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়েছে।

Leave a comment