তদন্তের সঙ্গে যুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, অভিযুক্তরা মুম্বইয়ে কোনও বড় চলচ্চিত্র তারকাকে নিশানা করার উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং কোটা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অমিতাভ বচ্চন, সলমন খান, আমির খান ও অক্ষয় কুমার-সহ একাধিক অভিনেতার গতিবিধি এবং তাঁদের বাড়ির আশপাশে নজরদারি চালানোর তথ্য সামনে এসেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রায় এক মাস আগে অভিযুক্তদের মুম্বইয়ে পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ, লরেন্স গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত অনিল পণ্ডিত তাঁদের কোনও বড় অভিনেতাকে নিশানা করার নির্দেশ দিচ্ছিলেন। অভিযুক্তরা অভিনেতাদের বাড়ি এবং আশপাশের এলাকার ভিডিও তৈরি করে অনিল পণ্ডিতকে পাঠিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের বক্তব্য।
পুলিশের মতে, সংশ্লিষ্ট অভিনেতাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর হওয়ায় অভিযুক্তরা তাঁদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছিলেন। এই পরিকল্পনায় কার কী ভূমিকা ছিল এবং নির্দেশদাতাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগ কীভাবে বজায় ছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, টাইগার শ্রফকে নিশানা করার আগে অভিযুক্তরা তাঁর দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। ইন্টারনেট ও গুগলের মাধ্যমে অভিনেতার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
পুলিশের বক্তব্য, অভিযুক্তরা জানতে পেরেছিলেন যে টাইগার শ্রফ প্রতি রবিবার সন্ধ্যায় ফুটবল খেলতে আসেন। এরপর প্রায় সাত দিন ধরে তাঁর গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। অভিনেতার কাছে পৌঁছনোর জন্য সেলফি তোলার অজুহাত ব্যবহার করার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, রবিবার অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন। তবে পার্কের বাইরে ভিড় থাকায় পরিস্থিতি তাঁদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ছিল না। সেই সময়ই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলের প্রমাণ এবং অভিযুক্তদের বয়ানের ভিত্তিতে ঘটনার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফুটবল খেলে গাড়িতে করে ফিরছিলেন টাইগার শ্রফ। সেই সময় বাইকে থাকা তিনজন তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
এই ঘটনায় টাইগার শ্রফ নিরাপদ থাকলেও তাঁর গাড়ির চালক আহত হন। জানা গিয়েছে, অভিনেতা নিজেই আহত চালককে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন সংস্থা পদক্ষেপ করে।
এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলার কথিত ষড়যন্ত্র, শুটারদের ভূমিকা এবং অস্ত্র সরবরাহের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার আগে অভিযুক্তদের গতিবিধি এবং তাঁদের পারস্পরিক যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
![]()
দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া চারজনের মধ্যে রাধা ও ববিতার বিরুদ্ধে শুটারদের কাছে অস্ত্র পৌঁছে দিতে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের দাবি, কুণাল ও সুমিত অস্ত্রের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং ওই দুই মহিলার মাধ্যমে সেগুলি শুটারদের কাছে পৌঁছেছিল।
তদন্তে কুণালের সঙ্গে অনিল পণ্ডিতের যোগাযোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে লরেন্স গ্যাংয়ের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ। এই কথিত নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকেই টাইগার শ্রফের উপর হামলার দায় স্বীকার করার দাবি করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং কথিত নেটওয়ার্কে তাঁদের ভূমিকা বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়া বাকি। অস্ত্রের উৎস, সরবরাহের সম্পূর্ণ শৃঙ্খল এবং হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য পেতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।
গুলিবর্ষণের ঘটনার পর প্রকাশিত ছবিতে টাইগার শ্রফের শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং ব্যান্ডেজ দেখা গিয়েছিল। তাঁর ডান হাতে কনুই থেকে আঙুল পর্যন্ত ব্যান্ডেজ ছিল। বুকেও ড্রেসিং দেখা গিয়েছিল।
তবে মঙ্গলবার মন্ত্রী আশিস শেলার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় প্রকাশিত ছবিতে অভিনেতাকে ব্যান্ডেজ ছাড়া স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যায়। ছবিগুলি থেকে তাঁর অবস্থার উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় একের পর এক গ্রেফতারের ফলে তদন্তের পরিধি বেড়েছে। পুলিশ এখন কথিত ষড়যন্ত্রে যুক্ত ব্যক্তিদের যোগাযোগ, অস্ত্র সরবরাহের শৃঙ্খল এবং মুম্বইয়ে অন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর উপর নজরদারির বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে।
অমিতাভ বচ্চন, সলমন খান, আমির খান ও অক্ষয় কুমারের উপর নজরদারির অভিযোগও তদন্তের অংশ। তদন্ত শেষ হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত পুলিশের বক্তব্য ও জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা তথ্যগুলিকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।






