জাতীয় পুলিশ স্মৃতি দিবস ২০২৬ মোদি ও অমিত শাহের শ্রদ্ধা নিবেদন

জাতীয় পুলিশ স্মৃতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শহিদ পুলিশকর্মীদের শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গত এক বছরে ১৫৪ জন পুলিশকর্মীর মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরেন IB পরিচালক ড. মহেশ দীক্ষিত।

জাতীয় পুলিশ স্মৃতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী পুলিশকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপরাধ দমন এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন তাঁরা। এই উপলক্ষে দিল্লির জাতীয় পুলিশ স্মারকে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি, মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত একটি মোটরসাইকেল র‍্যালিরও সূচনা করেন অমিত শাহ।

প্রতি বছর ২১ অক্টোবর জাতীয় পুলিশ স্মৃতি দিবস পালন করা হয়। দেশের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে যেসব পুলিশকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের স্মরণে এই দিনটি পালন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ বার্তা প্রকাশ করে পুলিশকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, পুলিশ স্মৃতি দিবস এমন পুলিশকর্মীদের অবদান স্মরণ করার উপলক্ষ, যাঁরা কঠিন পরিস্থিতিতেও সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন।

আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করা এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। কর্তব্যরত অবস্থায় শহিদ হওয়া পুলিশকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি তাঁদের সাহস, নিষ্ঠা এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে দেশের সম্মিলিত স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশকর্মীরা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা, দুর্যোগের সময় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করেন। এই দিবস তাঁদের কাজ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের প্রচেষ্টাকে সম্মান জানানোরও উপলক্ষ।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নয়াদিল্লির জাতীয় পুলিশ স্মারক থেকে ‘মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই’ থিমে আয়োজিত মোটরসাইকেল র‍্যালির সূচনা করেন। মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানো এবং সমাজকে মাদকমুক্তির অভিযানে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

আয়োজিত এই র‍্যালিতে নয়টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ৯০ জন রাইডার অংশ নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) এবং কেন্দ্রীয় পুলিশ সংস্থাগুলির (CPO) কর্মীরাও রয়েছেন।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, র‍্যালিটি বিভিন্ন রাজ্যের মধ্য দিয়ে গুজরাটের একতা নগরে পৌঁছবে। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের ৩১ অক্টোবর আয়োজিত একতা প্যারেডে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কর্মসূচি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পালিত জাতীয় ঐক্য দিবসের সঙ্গে যুক্ত।

জাতীয় পুলিশ স্মৃতি দিবস ২০২৬ মোদি ও অমিত শাহের শ্রদ্ধা নিবেদন

র‍্যালির মাধ্যমে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং যুবসমাজকে মাদকদ্রব্য থেকে দূরে থাকার বার্তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় পুলিশ স্মৃতি দিবসের সঙ্গে ১৯৫৯ সালের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা জড়িত। ওই বছরের ২১ অক্টোবর লাদাখের হট স্প্রিংস এলাকায় চিনা সেনাদের হামলার সময় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (CRPF) জওয়ানরা সাহসিকতার পরিচয় দেন। ওই ঘটনায় ১০ জন পুলিশকর্মী প্রাণ হারান।

সেই জওয়ানদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতি বছর ২১ অক্টোবর পুলিশ স্মৃতি দিবস পালন করা হয়। পরবর্তী সময়ে এই দিনটি কর্তব্য পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো দেশের বিভিন্ন পুলিশ বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের স্মরণ করার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

দিল্লির জাতীয় পুলিশ স্মারকে আয়োজিত শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (IB) পরিচালক ড. মহেশ দীক্ষিতও শহিদ পুলিশকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে ড. মহেশ দীক্ষিত পুলিশকর্মীদের আত্মত্যাগ সম্পর্কিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশের সেবায় নিয়োজিত অবস্থায় ১৫৪ জন পুলিশকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। স্বাধীনতার পর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রাণ উৎসর্গকারী পুলিশকর্মীর সংখ্যা ৩৬,৮৫২ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই পরিসংখ্যান দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশকর্মীদের সামনে থাকা ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অনেক সময় এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করতে হয়, যেখানে তাঁদের জীবন গুরুতর বিপদের মুখে পড়ে।

 

Leave a comment