জিও প্ল্যাটফর্মসের IPO-তে ৮৭,০০০ কোটি টাকার দরপত্র, রেকর্ডে এগিয়ে রিলায়েন্স পাওয়ার

জিও প্ল্যাটফর্মসের ৩০,২১৩ কোটি টাকার IPO-তে দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত প্রায় ৮৭,০০০ কোটি টাকার দরপত্র জমা পড়েছে। তবে মোট দরপত্রের মূল্যের নিরিখে ২০০৮ সালে রিলায়েন্স পাওয়ারের IPO-তে জমা পড়া ৭.৫২ লক্ষ কোটি টাকার দরপত্রের রেকর্ড এখনও অক্ষত রয়েছে।

জিও প্ল্যাটফর্মসের IPO-তে দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত প্রায় ৮৭,০০০ কোটি টাকার দরপত্র জমা পড়েছে। ৩০,২১৩ কোটি টাকার এই ইস্যুতে বিনিয়োগকারীদের আবেদনের মোট মূল্য ইস্যুর আকারের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হয়েছে। তবে মোট দরপত্রের মূল্যের নিরিখে ভারতের বৃহত্তম IPO-র রেকর্ড এখনও রিলায়েন্স পাওয়ারের দখলে রয়েছে।

২০০৮ সালের জানুয়ারিতে রিলায়েন্স পাওয়ারের IPO-তে প্রায় ৭.৫২ লক্ষ কোটি টাকার দরপত্র জমা পড়েছিল। জিও প্ল্যাটফর্মসের IPO-তে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হলেও ইস্যুর আকার, জমা পড়া দরপত্রের মোট মূল্য এবং সংস্থার বাস্তবে সংগৃহীত অর্থ—এই তিনটি পৃথক বিষয়।

জিও প্ল্যাটফর্মসের IPO-র আকার প্রায় ৩০,২১৩ কোটি টাকা। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ইস্যুটি মোট ৩.৯৩ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছিল। প্রায় ১৯.৭৫ কোটি উপলব্ধ শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৭৭.৬৪ কোটি শেয়ারের জন্য আবেদন করেছিলেন।

প্রতি শেয়ারে ১,১১৯ টাকার ঊর্ধ্বসীমা অনুযায়ী, এই দরপত্রগুলির মোট মূল্য প্রায় ৮৬,৮৮০ কোটি টাকা। ফলে দ্বিতীয় দিনেই IPO-টির জন্য জমা পড়া আবেদনের মূল্য ইস্যুর আকারকে ছাড়িয়ে যায়। IPO-তে আবেদন করার শেষ তারিখ ২৩ অক্টোবর বলে জানানো হয়েছে। তাই চূড়ান্ত সাবস্ক্রিপশনের পরিসংখ্যানে পরিবর্তন হতে পারে।

আবেদনের মাধ্যমে প্রকাশিত মোট অর্থের পুরোটাই সংস্থার হাতে আসে না। IPO-তে বরাদ্দ হওয়া শেয়ারের ভিত্তিতেই সংস্থা অর্থ পায়।

ভারতীয় শেয়ারবাজারে বড় IPO-র প্রসঙ্গে ২০০৮ সালে রিলায়েন্স পাওয়ারের ইস্যুটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সংস্থাটি ওই বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ১১,৫৬০ কোটি টাকার IPO এনেছিল। ইস্যুটির মূল্যসীমা ছিল প্রতি শেয়ারে ৪০৫ থেকে ৪৫০ টাকা।

জিও প্ল্যাটফর্মসের IPO-তে ৮৭,০০০ কোটি টাকার দরপত্র, রেকর্ডে এগিয়ে রিলায়েন্স পাওয়ার

তৎকালীন সাবস্ক্রিপশন রিপোর্ট অনুযায়ী, IPO-টির জন্য প্রায় ৭.৫২ লক্ষ কোটি টাকার দরপত্র জমা পড়েছিল। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত অংশসহ ইস্যুটির পাবলিক অংশে ৭২ গুণেরও বেশি সাবস্ক্রিপশন হয়েছিল। প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক খুচরা বিনিয়োগকারীও এতে অংশ নিয়েছিলেন।

তবে ৭.৫২ লক্ষ কোটি টাকার অঙ্কটি বিনিয়োগকারীদের মোট চাহিদা ও আর্থিক প্রতিশ্রুতির পরিমাণ নির্দেশ করে। IPO-র মাধ্যমে রিলায়েন্স পাওয়ার শেষ পর্যন্ত এই পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেনি। তাই মোট দরপত্রের মূল্যকে সরাসরি ইস্যুর আকার বা সংস্থার সংগৃহীত অর্থের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।

ভারতে একাধিক IPO-তে ইস্যুর আকারের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দরপত্র জমা পড়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে আসা LG Electronics India-র প্রায় ১১,৬০৭ কোটি টাকার IPO-তে প্রায় ৪.৪ লক্ষ কোটি টাকার দরপত্র জমা পড়েছিল বলে জানা গিয়েছিল। ইস্যুটি প্রায় ৫৪ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছিল।

একইভাবে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাজাজ হাউজিং ফাইন্যান্সের IPO-তেও বিনিয়োগকারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। প্রায় ৬,৫৬০ কোটি টাকার এই ইস্যুর জন্য প্রায় ৩.২৮ লক্ষ কোটি টাকার আবেদন জমা পড়েছিল।

এই উদাহরণগুলিতে IPO-র আকারের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা, সাবস্ক্রিপশন অনুপাত, বাজারের পরিস্থিতি এবং শেয়ার বরাদ্দের পরিসংখ্যানও বিবেচ্য।

২২ অক্টোবর পর্যন্ত উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, জিও প্ল্যাটফর্মসের IPO-তে যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতা বা QIB শ্রেণিতে প্রায় ৯.৬৬ গুণ সাবস্ক্রিপশন হয়েছিল। এই শ্রেণিতে প্রতি শেয়ারে ১,১১৯ টাকার ঊর্ধ্বসীমা ধরে প্রায় ৫২,৯৬৭ কোটি টাকার দরপত্র জমা পড়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

IPO-তে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাজারের চাহিদা মূল্যায়নের একটি সূচক হতে পারে। তবে এই অংশগ্রহণ থেকে তালিকাভুক্তির দিন শেয়ারের দামের গতিবিধি বা ভবিষ্যতের রিটার্ন সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

 

Leave a comment