সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ভারতীয় শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরুতে বিক্রির চাপ দেখা যায়। সেনসেক্স ও নিফটি পতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাঙ্কিং খাতের শেয়ারে পতন দেখা গেলেও কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক এবং ড. রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজের শেয়ারে কেনাকাটা লক্ষ্য করা যায়। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে মিশ্র সংকেত এবং বড় সংস্থাগুলির শেয়ারে বিক্রির চাপের কারণে দুই প্রধান সূচকই নিম্নমুখী হয়।
সোমবার সকালে বাজার খোলার পর থেকেই বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। লেনদেন এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেনসেক্স ও নিফটি, দুই সূচকেই পতন তীব্র হয়। প্রাথমিক লেনদেনে সেনসেক্স ২৬৯.০৭ পয়েন্ট কমে ৭২,৮৫৪.৭৬-এ নেমে আসে। অন্যদিকে, নিফটি ৯৯.৭৫ পয়েন্ট কমে পৌঁছয় ২২,৫০০.২৫-এ। পরবর্তী সময়ে সেনসেক্সের পতন ৬০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায় এবং সূচকটি প্রায় ৭২,৫১৪-র স্তরে নেমে আসে। নিফটিও ২২,৫০০-র নিচে লেনদেন করতে দেখা যায়।
বাজারে পতন শুধু বড় সংস্থাগুলির শেয়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এনএসইতে ৮৭৭টি শেয়ারের দর বাড়লেও ১,৭৯৪টি শেয়ারের দর কমেছিল। অপরিবর্তিত ছিল ২০২টি শেয়ারের দর। এই পরিসংখ্যান বাজারে কেনাকাটার তুলনায় বিক্রির চাপ বেশি থাকার ইঙ্গিত দেয়।
খাতভিত্তিক লেনদেনে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে সবচেয়ে বেশি পতন দেখা যায়। নিফটি আইটি সূচক ১.৫৯ শতাংশ কমে ৩১,৪৮৬.৫০-এ নেমে আসে। বড় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে বিক্রির চাপ গোটা খাতের সূচককে প্রভাবিত করে।
নিফটি পিএসইউ ব্যাঙ্ক সূচক ০.৯৬ শতাংশ এবং অটোমোবাইল সূচক ০.৬১ শতাংশ কমে যায়। রিয়েলটি সূচকে পতন হয় ০.৭৮ শতাংশ। এ ছাড়া এফএমসিজি ও ধাতু সূচক ০.৩১ শতাংশ করে কমে। তেল ও গ্যাস সূচক ০.৩০ শতাংশ এবং নিফটি ব্যাঙ্ক সূচক ০.২১ শতাংশ পতনের মুখে পড়ে।
![]()
বাজারের সামগ্রিক পতনের মধ্যেও কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্কের শেয়ারে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। প্রাথমিক লেনদেনে শেয়ারটির দাম ২.৮২ শতাংশ বেড়ে ৪৪২.৬৫ টাকায় পৌঁছয়। পরবর্তী সময়ে শেয়ারটির দরবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশে পৌঁছয়।
সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফল প্রকাশের পর ব্যাঙ্কটির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা যায়। কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্কের সমন্বিত মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেড়ে ৫,৬৪৫ কোটি টাকা হয়েছে।
কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্কের পাশাপাশি ড. রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজের শেয়ার ১.৬৭ শতাংশ এবং জেএসডব্লিউ স্টিলের শেয়ার ১.১৭ শতাংশ বেড়েছে। সিপলা ০.৬২ শতাংশ এবং সান ফার্মার শেয়ার ০.৪৭ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী হয়। মারুতি সুজুকির শেয়ারেও সামান্য কেনাকাটা দেখা যায়।
নিফটির শেয়ারগুলির মধ্যে শ্রীराम ফাইন্যান্সের দরপতন ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রাথমিক লেনদেনে সংস্থাটির শেয়ারের দাম ৫.১০ শতাংশ কমে যায়। ঋণ বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানোর সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের নজরে আসে।
তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ইনফোসিসের শেয়ারও ১.৮২ শতাংশ কমে যায়। সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে সংস্থাটির মুনাফা বাড়লেও চলতি অর্থবর্ষের জন্য রাজস্ব বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ারটির দরে পতন দেখা যায়।
এ ছাড়া বাজাজ ফিনান্সের শেয়ার ১.৭৮ শতাংশ, এশিয়ান পেইন্টসের শেয়ার ১.৪৪ শতাংশ এবং টাইটানের শেয়ার ১.২৩ শতাংশ কমেছে। এইচডিএফসি লাইফ, হিন্ডালকো এবং এসবিআই লাইফের শেয়ারও পতনের মধ্যে লেনদেন করেছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে কিছুটা পতন দেখা গেলেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলারের কাছাকাছি ছিল। পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা এবং তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এর আগের সপ্তাহেও ভারতীয় শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক পতন দেখা গিয়েছিল। শুক্রবার সেনসেক্স ৭৩,১২৩.৮৩ পয়েন্টে এবং নিফটি ২২,৬০০ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করেছিল।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন সংস্থাগুলির ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল, আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন বৈঠকের দিকে। এই ঘটনাগুলি পরবর্তী লেনদেনের অধিবেশনগুলিতে বাজারের গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে। সোমবারের পতনসংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রাথমিক লেনদেনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। দিনের বাকি সময়ে শেয়ারের দরে পরিবর্তন হতে পারে।










