উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ অখিলেশের, ২০২৭-এ কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের বার্তা

উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পর ভোটার তালিকায় অসংগতি ও একাধিক জেলায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন অখিলেশ যাদব। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পরাজিত করতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের সমন্বয় মজবুত করার কথাও বলেছেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি।

উত্তরপ্রদেশে শিক্ষক ও স্নাতক বিধান পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পর বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব। শুক্রবার সৈফাইয়ের ক্ষেত্র পঞ্চায়েত কার্যালয়ে ভোট দেওয়ার পর তিনি একাধিক জেলায় ভোটগ্রহণে অনিয়ম এবং ভোটার তালিকায় অসংগতির অভিযোগ করেন। পাশাপাশি, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পরাজিত করতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের সমন্বয় আরও মজবুত করার কথাও জানান তিনি।

অখিলেশ যাদবের দাবি, আগ্রা, ফতেহপুর, গোরক্ষপুর, জৌনপুর ও কনৌজ-সহ একাধিক জায়গা থেকে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ আসছে। সমাজবাদী পার্টির পক্ষে ভোট দিতে আসা মানুষদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তাঁর আরও দাবি, এই কাজে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি কয়েকজন আধিকারিকও সহায়তা করছেন। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অখিলেশ বলেন, অভিযোগগুলির তদন্ত করা প্রয়োজন।

ভোট চুরির অভিযোগ তুলে বিজেপিকে কটাক্ষও করেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, ভোট চুরি শেখানোর জন্য বিজেপির একটি বিশ্ববিদ্যালয় খোলা উচিত, যেখানে দলের কর্মীদের তিন বছরের পাঠ্যক্রমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তবে অখিলেশ যাদবের এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট আধিকারিক বা বিজেপির তরফে এই নির্দিষ্ট অভিযোগগুলির বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন অখিলেশ যাদব। তাঁর বক্তব্য, ২০২২ সাল থেকে সমাজবাদী পার্টি এই বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি।

অখিলেশের অভিযোগ, রাজনৈতিক দলগুলিকে দেওয়া ভোটার তালিকার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে থাকা তালিকার অমিল দেখা যাচ্ছে। এই অসংগতি কোথায় এবং কীভাবে হচ্ছে, তা নির্ধারণ করতে তদন্তের প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলিকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ তুলে অখিলেশ বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে এই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা জরুরি।

বিধান পরিষদ নির্বাচনের পাশাপাশি ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অখিলেশ যাদব। তাঁর বক্তব্য, বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানোই তাঁদের লক্ষ্য।

উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ অখিলেশের, ২০২৭-এ কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের বার্তা

কংগ্রেসের সঙ্গে জোট এবং আসন ভাগাভাগি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিজেপিকে পরাজিত করার জন্য উপযুক্ত পথ বের করা হবে। দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার কথাও জানান তিনি।

তবে আসন ভাগাভাগির বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা বা সূত্র ঘোষণা করেননি অখিলেশ। তাঁর বক্তব্যে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী দলগুলির ঐক্যকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারকে কর্মসংস্থান ও সংরক্ষণের বিষয়েও নিশানা করেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি। বিনিয়োগ নিয়ে সরকারের দাবির পাশাপাশি সরকারি স্কুল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

অখিলেশের বক্তব্য, এই বিষয়গুলিতে সরকারের নজর দেওয়া উচিত। কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং সাধারণ মানুষ যে প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি পান, সেগুলি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

কৃষকদের সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে ডিএপি সারের ঘাটতির বিষয়টিও উল্লেখ করেন অখিলেশ। এই ঘাটতির জন্য তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশনীতি ও বাণিজ্যিক চুক্তিগুলিকে দায়ী করেন। তবে তাঁর বক্তব্যে সারসংকটের সঙ্গে ওই নীতিগুলির সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করার মতো কোনও পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

উত্তরপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী সঞ্জয় নিষাদের অসন্তোষ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অখিলেশ যাদব বলেন, নির্বাচনের সময় করা প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

প্রাক্তন মন্ত্রী আজম খাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ও সত্যকে বন্দি করে রাখা যায় না। আজম খাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়ে অখিলেশ বলেন, “আজম খাঁ সাহেব আজম ছিলেন, আজম আছেন এবং আজমই থাকবেন।”

লখনউ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়ের বেহাল অবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। সড়কের পরিস্থিতি নিয়ে যে সমস্যাগুলি রয়েছে, সেগুলি সংবাদমাধ্যমকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরার আহ্বান জানান অখিলেশ।

উত্তরপ্রদেশে ২৩ অক্টোবর বিধান পরিষদের পাঁচটি স্নাতক এবং ছয়টি শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রের আসনে ভোটগ্রহণ হয়। মোট ১১টি আসনের ফল ২৭ অক্টোবর ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

বিজেপি ও সমাজবাদী পার্টির মধ্যে একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটগ্রহণের সময় ওঠা অনিয়মের অভিযোগগুলি নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ফল ঘোষণার পাশাপাশি ভোটগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা কী পদক্ষেপ করেন, সেদিকেও নজর থাকবে। নির্বাচন এবং উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি সংক্রান্ত সরকারি তথ্যের জন্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে নজর রাখা যেতে পারে।

 

Leave a comment