মুকেশ আম্বানির জিও প্ল্যাটফর্মসের ₹৩০,২১৩ কোটি টাকার আইপিও ২৩ অক্টোবর, বিডিংয়ের শেষ দিনে বন্ধ হয়েছে। মোট ১৯.৭৫ কোটি শেয়ারের বিপরীতে প্রায় ৪৩৮.২৬ কোটি শেয়ারের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। ফলে আইপিওটি ২২.১৯ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে। শেয়ার বরাদ্দের সম্ভাব্য তারিখ ২৬ অক্টোবর এবং শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তাবিত তারিখ ২৮ অক্টোবর।
জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিওতে কোয়ালিফায়েড ইনস্টিটিউশনাল বায়ার্স (QIB) বিভাগে সর্বাধিক আবেদন জমা পড়েছে। এই বিভাগের জন্য ৪.৯০ কোটি শেয়ার সংরক্ষিত ছিল। এর বিপরীতে প্রায় ৩৪৫.৭৫ কোটি শেয়ারের জন্য বিড জমা পড়ে। ফলে QIB বিভাগে সাবস্ক্রিপশনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭০.৫৫ গুণ।
এই বিভাগের মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ড, বিমা সংস্থা, ব্যাঙ্ক এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকেন।
নন-ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর (NII) বিভাগেও বরাদ্দের তুলনায় বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এই বিভাগের জন্য ৩.৬৪ কোটি শেয়ার রাখা হয়েছিল। এর বিপরীতে প্রায় ৫১.০৩ কোটি শেয়ারের জন্য আবেদন জমা পড়ে। ফলে এই বিভাগে সাবস্ক্রিপশন হয়েছে ১৪ গুণ।
১০ লক্ষ টাকার বেশি অঙ্কের বিডের বিভাগে সাবস্ক্রিপশন হয়েছে ১৫.৮৯ গুণ। অন্যদিকে, ২ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিডের বিভাগে সাবস্ক্রিপশন হয়েছে ১০.২২ গুণ।
খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রায় ৮.৫০ কোটি শেয়ার সংরক্ষিত ছিল। এর বিপরীতে প্রায় ২৩.১১ কোটি শেয়ারের জন্য আবেদন জমা পড়ে। ফলে খুচরো বিনিয়োগকারীদের বিভাগে সাবস্ক্রিপশন হয়েছে ২.৭২ গুণ।
এ ছাড়া, সংস্থার কর্মী এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের যোগ্য শেয়ারহোল্ডারদের জন্য পৃথকভাবে শেয়ার সংরক্ষিত ছিল। কর্মীদের বিভাগে সাবস্ক্রিপশন হয়েছে ২.৯৩ গুণ এবং শেয়ারহোল্ডারদের বিভাগে ৭.৬০ গুণ।
![]()
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য আইপিও খোলার আগে ১৯ অক্টোবর জিও প্ল্যাটফর্মস ২১২ জন অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রায় ৮,১১০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের প্রতি শেয়ার ১,১১৯ টাকা দরে শেয়ার দেওয়া হয়েছিল, যা আইপিওর প্রাইস ব্যান্ডের সর্বোচ্চ সীমা।
এই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্ল্যাকরক, ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস, GIC, LIC এবং আবুধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির মতো সংস্থা ছিল। অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ারের তুলনায় ৩০ গুণের বেশি চাহিদা জমা পড়েছিল।
জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও ২১ অক্টোবর খোলে এবং ২৩ অক্টোবর বন্ধ হয়। শেয়ারের প্রাইস ব্যান্ড নির্ধারণ করা হয়েছিল ১,০৬৫ টাকা থেকে ১,১১৯ টাকা।
খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য এক লটে ১২টি শেয়ার রাখা হয়েছিল। সর্বোচ্চ প্রাইস ব্যান্ড অনুযায়ী, এক লটের জন্য ন্যূনতম বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১৩,৪২৮ টাকা।
এটি সম্পূর্ণ নতুন শেয়ার ইস্যু বা ফ্রেশ ইস্যু। এর মাধ্যমে সংস্থাটি প্রায় ২৭ কোটি নতুন শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব দিয়েছে। আইপিও থেকে প্রাপ্ত নিট অর্থের বড় অংশ টেলিকম সংস্থা রিলায়েন্স জিও ইনফোকমের ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আইপিওতে আবেদনকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ২৬ অক্টোবর। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ওই দিন শেয়ার বরাদ্দের ভিত্তি চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।
যাঁরা শেয়ার পাবেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে ২৭ অক্টোবর থেকে অর্থ আনব্লক বা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সফল আবেদনকারীদের ডিম্যাট অ্যাকাউন্টেও ২৭ অক্টোবর শেয়ার জমা পড়ার কথা।
জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার BSE এবং NSE-তে ২৮ অক্টোবর তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে।











